সর্বশেষ

Saturday, June 20, 2026

ছয় দিনের অপেক্ষার পর বিশ্বকাপের রেকর্ড ফের ব্রাজিল-এর ঘরে

ছয় দিনের অপেক্ষার পর বিশ্বকাপের রেকর্ড ফের ব্রাজিল-এর ঘরে

 


এবারের FIFA World Cup 2026 যেন গোল উৎসবের এক মহামঞ্চে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন রেকর্ড, বদলে যাচ্ছে পুরনো ইতিহাস। আর সেই রেকর্ডের লড়াইয়ে এবার আবারও শীর্ষে উঠে এসেছে Brazil। মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ফের নিজেদের করে নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

১৪ জুন Germany বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক গড়ে। Curacao-এর বিপক্ষে দুর্দান্ত এক ম্যাচে একাই ৭ গোল করে জার্মানরা টপকে যায় ব্রাজিলকে। এর আগে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ছিল ব্রাজিলের দখলে, তাদের মোট গোল সংখ্যা ছিল ২৩৮। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে সাত গোলের মহোৎসবের পর জার্মানির মোট গোল দাঁড়ায় ২৩৯-এ। ফলে ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা দল হিসেবে ব্রাজিলকে পেছনে ফেলে শীর্ষে উঠে যায় জার্মানি।

তবে সেই আনন্দ খুব বেশি দিন স্থায়ী হয়নি।

মাত্র ছয় দিন পর, ২০ জুন সকালে (বাংলাদেশ সময়) মাঠে নামে ব্রাজিল। প্রতিপক্ষ ছিল Haiti। ম্যাচটি শুরু থেকেই ছিল একপেশে। আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকা ব্রাজিল প্রথম বাঁশি থেকেই হাইতির রক্ষণভাগে একের পর এক চাপ তৈরি করতে থাকে।

ম্যাচের শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, ব্রাজিল শুধু জয় নিয়েই ভাবছে না—রেকর্ড পুনর্দখলের মিশনেও নেমেছে। খুব দ্রুতই তারা গোলের দেখা পেয়ে যায়। এরপর একের পর এক আক্রমণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে হাইতির ডিফেন্স।

প্রথমার্ধেই তিন গোল করে ব্রাজিল শুধু ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়নি, ইতিহাসও নতুন করে লিখেছে। এই তিন গোলের মাধ্যমে জার্মানিকে টপকে আবারও বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা দলের আসন পুনরুদ্ধার করেছে সেলেসাওরা।

হাইতির বিপক্ষে তিন গোল যোগ হওয়ায় ব্রাজিলের মোট বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪১-এ। অর্থাৎ মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে আবারও বদলে গেল বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডধারীর নাম।

ফুটবল বিশ্বে Brazil মানেই আক্রমণাত্মক, নান্দনিক ও সৃজনশীল ফুটবলের প্রতীক। দশকের পর দশক ধরে তারা বিশ্বকাপ মঞ্চে নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখেছে। Germany বরাবরই ছিল তাদের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবার ছড়িয়ে পড়েছে গোলের রেকর্ড বইয়েও।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে ব্রাজিল ও জার্মানির এই রেকর্ড লড়াই ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বাড়তি উত্তেজনা তৈরি করেছে। এক দল রেকর্ড গড়ছে, অন্য দল কয়েক দিনের ব্যবধানে সেটি ভেঙে আবার শীর্ষে উঠছে।

টুর্নামেন্ট এখনও অনেক বাকি। তাই এই রেকর্ড লড়াইয়ে সামনে আরও চমক অপেক্ষা করছে বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার আগেই রেকর্ড বইয়ে আরও কতবার পরিবর্তন আসে।

সর্বোচ্চ গোলে কে কোথায়?

১. Brazil — ২৪১
২. Germany — ২৩৯
৩. Argentina — ১৫৫
৪. France — ১৩৯
৫. Italy — ১২৮
৬. Spain — ১০৮
৭. England — ১০৮


বিশ্বকাপে দ্রুততম গোলের রেকর্ড এখন প্যারাগুয়ের, পেছনে মরক্কো

বিশ্বকাপে দ্রুততম গোলের রেকর্ড এখন প্যারাগুয়ের, পেছনে মরক্কো

 



বিশ্বকাপের এবারের আসরে দ্রুততম গোলের রেকর্ড যেন ঘণ্টায় ঘণ্টায় হাতবদল হচ্ছে। মাত্র ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে রেকর্ড বদলে এবার নতুন ইতিহাস গড়েছে Paraguay। তুরস্কের বিপক্ষে বাঁচা-মরার ম্যাচে মাত্র ৬৪ সেকেন্ডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন Matías Galarza। তার এই গোলেই বিশ্বকাপ ২০২৬-এর বর্তমান আসরের দ্রুততম গোলের রেকর্ড এখন প্যারাগুয়ের দখলে।

দিনের শুরুতেই এই রেকর্ড গড়েছিল Morocco। ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে Scotland-এর বিপক্ষে মাত্র ৭০ সেকেন্ডে গোল করেছিলেন Ismael Saibari। সেই গোলটিই তখন পর্যন্ত এবারের বিশ্বকাপের দ্রুততম গোল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। কিন্তু ফুটবলের নাটকীয়তা এখানেই—মাত্র ৫ ঘণ্টার মাথায় সেই রেকর্ড ভেঙে দিল প্যারাগুয়ে।

তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই ছিল চাপে। ম্যাচটি ছিল কার্যত বাঁচা-মরার লড়াই। পরের রাউন্ডে যেতে হলে জয়ের বিকল্প ছিল না Turkey-এর সামনে। ম্যাচের শুরুতে বলের দখল ছিল তুরস্কের পায়েই। তবে সেই নিয়ন্ত্রণ খুব বেশি সময় স্থায়ী হয়নি।

ম্যাচের মাত্র ৬৪ সেকেন্ডে ঘটে যায় বড় ভুল। তুরস্কের ডিফেন্সে সমন্বয়হীনতার সুযোগ নেয় প্যারাগুয়ে। ডিফেন্ডারের একটি ভুল পাস থেকে বল পেয়ে যান ম্যাথিয়াস গালারজা। ডি-বক্সের ঠিক বাইরে থেকে বাম পায়ের শক্তিশালী শটে তিনি বল জড়িয়ে দেন জালে। তুরস্কের গোলরক্ষক বাম দিকে ঝাঁপিয়ে পড়েও বল থামাতে পারেননি।

ঘটনাটা এত দ্রুত ঘটে যে তুরস্কের খেলোয়াড়রা যেন কিছু বুঝে ওঠার আগেই স্কোরলাইন ১-০ হয়ে যায়। লাতিন আমেরিকার দলটি শুরুতেই এগিয়ে গিয়ে ম্যাচে মানসিক সুবিধা পেয়ে যায়। অন্যদিকে, হঠাৎ পিছিয়ে পড়ে চাপে পড়ে যায় তুরস্ক।

গালারজার এই গোল শুধু ম্যাচের গতিপথই বদলায়নি, বদলে দিয়েছে এবারের বিশ্বকাপের রেকর্ড বইও। মাত্র ৬৪ সেকেন্ডে গোল করে তিনি নিজের নাম লিখিয়েছেন টুর্নামেন্টের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্তে। বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন দ্রুত গোল সবসময়ই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ এটি প্রতিপক্ষের কৌশল ও আত্মবিশ্বাসে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে।



তবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্রুততম গোলের রেকর্ড এখনও অনেক দূরের। সেই রেকর্ডের মালিক Hakan Şükür। ২০০২ বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে মাত্র ১১ সেকেন্ডে গোল করেছিলেন তিনি। আজও সেটিই বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্রুততম গোল হিসেবে অটুট আছে।

তবুও এবারের বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ের এই রেকর্ড বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে, কারণ মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুইবার দ্রুততম গোলের রেকর্ড বদলেছে। প্রথমে মরক্কো, এরপর প্যারাগুয়ে—একই দিনে দুই দলের নাম উঠল রেকর্ডের পাতায়।

এখন দেখার বিষয়, টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতে এই রেকর্ড আবার বদলায় কিনা। ফুটবলের সৌন্দর্য এখানেই—এক মুহূর্তেই বদলে যেতে পারে সবকিছু। আর সেই অনিশ্চয়তাই বিশ্বকাপকে করে তোলে আরও রোমাঞ্চকর।

দ্বিতীয়ার্ধে আর গোল হলো না, ৩-০ ব্যবধানেই জিতলো ব্রাজিল

দ্বিতীয়ার্ধে আর গোল হলো না, ৩-০ ব্যবধানেই জিতলো ব্রাজিল

 



প্রথমার্ধে ৩-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ব্রাজিল। দ্বিতীয়ার্ধে গোলের পর গোলের সুযোগ নষ্ট করেও আর ব্যবধান বাড়াতে পারেনি সেলেসাওরা। যার ফলে ৩-০ গোলের ব্যবধানে জয় নিয়েই মাঠ চেড়েছে ব্রাজিলিয়ানরা। ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে ব্যবধান যাই হোক, গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নিয়েছে ব্রাজিল। 
কার্লো আনচেলত্তির দল শুরুতে কিছুটা ধৈর্য ধরে খেললেও একবার গোলের দেখা পাওয়ার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি সেলেসাওদের। ম্যাচের নায়ক ছিলেন ম্যাথিউস কুনহা, যিনি জোড়া গোল করেন। অপর গোলটি করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ড্র করার পর এই ম্যাচে জয়ের বিকল্প ছিল না ব্রাজিলের সামনে। তবে ম্যাচের শুরুতে হাইতি চমৎকার সংগঠিত রক্ষণ নিয়ে ব্রাজিলকে আটকে রাখে। প্রথম ২০ মিনিটে বলের দখল কম থাকলেও নিজেদের ডিফেন্সিভ কাঠামো ঠিক রেখে ব্রাজিলের আক্রমণ সামাল দেয় ক্যারিবিয়ান দলটি। ১২ মিনিটে ব্রাজিল প্রথমবার জালের দেখা পেলেও রাফিনিয়ার গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। 
ব্রুনো গিমারায়েসের অসাধারণ পাস থেকে গোল করলেও সহকারী রেফারির পতাকায় উৎসব থেমে যায়। এরপরও চাপ ধরে রাখে ব্রাজিল। ২৩ মিনিটে অবশেষে এগিয়ে যায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শট হাইতির গোলরক্ষক আলেক্সান্দ্রে প্লাসিদ ঠিকমতো সামলাতে পারেননি। ডিফেন্ডার ডেলক্রোয়ার ক্লিয়ারেন্সের চেষ্টা গিয়ে লাগে কুনহার গায়ে, সেখান থেকে বল জড়িয়ে যায় ফাঁকা জালে। ভাগ্যের সহায়তায় পাওয়া এই গোলেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। গোলের পর আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে সেলেসাওরা। ৩৬ মিনিটে আসে দ্বিতীয় গোল। মাঝমাঠে বল হারানোর সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠেন ভিনিসিয়ুস। তার নিখুঁত পাস ধরে বক্সে ঢুকে দূরহ কোণ থেকেও দুর্দান্ত শটে জাল খুঁজে নেন কুনহা। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ফরোয়ার্ডের এই গোল ব্রাজিলকে এনে দেয় ২-০ ব্যবধান। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ম্যাচ কার্যত নিজেদের করে নেয় ব্রাজিল। লুকাস পাকেতার অসাধারণ লং পাস ধরে ডিফেন্স চিরে এগিয়ে যান ভিনিসিয়ুস। 
গোলরক্ষককে কাটিয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ৩-০ করেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। প্রথমার্ধে হাইতির অবস্থা ছিল বেশ হতাশাজনক। প্রতিপক্ষের বক্সে মাত্র কয়েকবার বল স্পর্শ করতে পারলেও তারা কোনো শটই নিতে পারেনি। প্রত্যাশিত গোলের হিসাবেও ছিল শূন্যের কোটায়। অন্যদিকে মাত্র পাঁচটি অন-টার্গেট শট থেকেই তিন গোল তুলে নেয় ব্রাজিল। দ্বিতীয়ার্ধে হাইতি কিছুটা আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করে। ৬৩ মিনিটে তাদের সবচেয়ে ভালো সুযোগটি তৈরি হয় কর্নার থেকে। আদে-র শক্তিশালী হেড দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ব্রাজিল গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার। ব্রাজিলও ব্যবধান বাড়ানোর একাধিক সুযোগ পেয়েছিল। ৬৯ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির শট ক্রসবারে লাগে, যদিও পরে অফসাইডের পতাকা ওঠে। ৭৮ মিনিটে বদলি নামা এনদ্রিক গোল করলেও সেটিও অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। ম্যাচের শেষদিকে আনচেলত্তি কুনহা, পাকেতা ও ভিনিসিয়ুসকে তুলে নেন মাঠ থেকে। তবুও খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখে ব্রাজিল। যোগ করা সময়ে এডারসন ফাঁকা জাল পেয়েও গোল করতে না পারায় ব্যবধান আর বাড়েনি। 
এই জয়ে গ্রুপ সিতে চার পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে ব্রাজিল। সমান পয়েন্ট থাকলেও গোল ব্যবধানে তারা মরক্কোকে ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় পরাজয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে চলে গেছে হাইতি। বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে এটি ছিল আরেকটি স্মরণীয় ম্যাচ। তিন বা তার বেশি গোল করা বিশ্বকাপ ম্যাচের সংখ্যায় তারা নিজেদের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করেছে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বাধিক গোল করা দলের তালিকায়ও জার্মানিকে ছাড়িয়ে গেছে সেলেসাওরা।

Wednesday, June 17, 2026

Tuesday, June 16, 2026

৪০ বছরের ভোজিনহার সাত সেভে ইতিহাস গড়ল কেপ ভার্দ

৪০ বছরের ভোজিনহার সাত সেভে ইতিহাস গড়ল কেপ ভার্দ



 খেলা শেষ হওয়ার বাঁশি বাজতেই আটলান্টা স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচায় তৈরি হলো দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন মেরুর দৃশ্যপট। একদিকে টুর্নামেন্টের অন্যতম হট-ফেবারিট স্পেনের তারকাখচিত ফুটবলারদের হতাশা, আর অন্যদিকে আফ্রিকার ছোট্ট এক দ্বীপরাষ্ট্রের ফুটবলারদের চোখে বাঁধভাঙা আনন্দের অশ্রু।

জনসংখ্যা ও আয়তনের দিক থেকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ কেপ ভার্দ মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিশ্বমঞ্চে যা করে দেখালো, তা হয়তো ফুটবল রূপকথাকেও হার মানায়। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের ৬৪ নম্বরে থাকা দলটি নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ অভিষেক ম্যাচেই গোলশূন্য ব্যবধানে রুখে দিয়েছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন শক্তিশালী স্পেনকে। প্রথমার্ধের সেই অবিশ্বাস্য প্রতিরোধ দ্বিতীয়ার্ধেও ধরে রেখে, স্পেনের বিশ্ববিখ্যাত পাসিং ফুটবলকে বধ করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় ও বিখ্যাত এক ড্রয়ের গল্প লিখলো কেপ ভার্দ।

পুরো ম্যাচে একবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন বল পজিশন ধরে রেখে রীতিমতো ছড়ি ঘুরিয়েছে, খেলেছে রেকর্ড ৮০১টি নিখুঁত পাস। কিন্তু কেপ ভার্দের বক্সে ঢুকে ফেরান তোরেস ও দানি ওলমোদের প্রতিটি আক্রমণ আজ মুখ থুবড়ে পড়েছে আফ্রিকার এই যোদ্ধাদের বুক চিতিয়ে লড়া ডিফেন্সের সামনে। স্পেন যে চেষ্টা করেনি তা নয়, গোল পেতে লুইস দে লা ফুয়েন্তে এতটাই মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন যে, চোট থেকে পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া বার্সেলোনার ১৮ বছর বয়সী বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামালকেও দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নামাতে বাধ্য হন। পুরো ম্যাচে স্প্যানিশ আর্মাডারা গোলমুখে হন্যে হয়ে শট নিয়েছে ২৭টি, যার মধ্যে অন-টার্গেট ছিল ৭টি। কিন্তু কখনো কেপ ভার্দের ডিফেন্সের দেয়াল, কখনো গোলপোস্টের দুর্ভাগ্য, আর বাকিটা সময় বুড়ো হাড়ের ভেল্কি দেখানো এক গোলরক্ষক স্পেনের জয়োৎসব হতে দেননি।

এই ঐতিহাসিক ড্রয়ের মহাকাব্যিক নায়ক আর কেউ নন তিনি কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী কিংবদন্তি গোলরক্ষক ভোজিনহা। ম্যাচের পর যার চোখের অশ্রুর বান বলছিল, দেশের মানুষের জন্য কতটা বড় উৎসবের লগ্নে তিনি বয়ে এনেছেন। পুরো ম্যাচে স্পেনের বিশ্বমানের ফরোয়ার্ডদের নেওয়া ৭টি নিশ্চিত ও দুর্দান্ত সেভ করে পোস্টের নিচে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন এই গোলকিপার।

কম্পিউটার সিমুলেশনের ৮৭ শতাংশ জয়ের পরিসংখ্যানকে স্রেফ তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে কেপ ভার্দের এই রূপকথা প্রমাণ করল ফুটবল মাঠে কেবল বড় নাম বা বড় পাসিংয়ে ম্যাচ জেতা যায় না, তার জন্য লাগে বুক চিতিয়ে লড়াই করার অদম্য সাহস। আর বিশ্বকাপের আসল মজাই তো এখানে, যেখানে ডেভিড এসে অনায়াসেই হারিয়ে দিতে পারে গোলিয়াথকে।

Monday, June 8, 2026

আদ-দ্বীনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থায় অনড় সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আদ-দ্বীনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থায় অনড় সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী


 

আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়া ও উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ায় সরকার অনড় থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি। সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সরকারের অবস্থানের কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। 

তিনি বলেন, ‘তারা (আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ) কী বলেছে না বলেছে, সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। আমাদেরকে আইন মেনে কাজ করতে হয়। তারা সময় চেয়েছে; আদালতও অনেক সময় সময় দেয়, তাই আমরাও দুদিন সময় দিয়েছি।’ 

প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমাদের উচ্চমানের আইনজীবী রয়েছে। তাদের সঙ্গে আলোচনা করেই আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাচ্ছি। তারা আমাদের কী ক্ষতিপূরণ দেবে? আমরা দেখব তারা কী অপরাধ করেছে এবং সেই অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

যেকোনো পরিস্থিতিতে মন্ত্রণালয়ের সততা বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের অবস্থানে অনড় থাকব এবং সততা ও ন্যায়-নিষ্ঠার ভিত্তিতে কাজ করে যাব।’

হাম ও উপসর্গে প্রাণ গেলো আরও ৮ শিশুর

হাম ও উপসর্গে প্রাণ গেলো আরও ৮ শিশুর

 


হামে ও উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৬২৮

ঢাকা: দেশে হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে আরও আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজনের শরীরে হাম রোগ নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা হয়েছে, আর সাতজন মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া হাম পরিস্থিতিতে এখন পর্যন্ত মোট ৬২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯২ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৫৩৬ জন।

সোমবার (৮ জুন) প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে নতুন করে একজনের শরীরে হাম শনাক্ত হওয়ার পর তার মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের লক্ষণ ও উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও সাত শিশু।

শুধু মৃত্যুই নয়, আক্রান্তের সংখ্যাও ক্রমাগত বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ৯৩ জনের শরীরে হাম রোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছে আরও এক হাজার ৯২ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৭৭৯ জনে। একই সময়ে সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮০ হাজার ১০৪ জন। এসব রোগীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যককে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলমান পরিস্থিতিতে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬৫ হাজার ২৩৭ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৬১ হাজার ২৭৮ জন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকা গ্রহণ এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা না গেলে শিশুদের জন্য এটি মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু এবং অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে।

তারা মনে করছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করার পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। কোনো শিশুর শরীরে জ্বর, শরীরজুড়ে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি বা চোখ লাল হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা অব্যাহত রাখছে। তবে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় জনস্বাস্থ্য খাতে উদ্বেগও বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

Sunday, June 7, 2026

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

 


রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড


রাজধানীর পল্লবীতে আলোচিত শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।


রায় ঘোষণার আগে থেকেই আদালত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও তৎপর থাকতে দেখা যায়। সকালেই কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়।


মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসায় পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয় আট বছর বয়সী রামিসা। পরে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর নিহত শিশুর বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করা হয়।


তদন্তে উঠে আসে, ঘটনার দিন সকালে রামিসা বাসা থেকে বের হওয়ার পর কৌশলে তাকে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যায় আসামিরা। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর পরিবারের সদস্যরা সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে ওই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে এবং স্বপ্নাকে আটক করে। পরবর্তীতে প্রযুক্তির সহায়তায় অন্য স্থান থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


মামলাটি ব্যাপক জনমত সৃষ্টি করায় দ্রুত বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। স্বল্প সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এরপর সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা ও যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়।


বিচার চলাকালে নিহত শিশুর বাবা-মা, স্বজন, প্রতিবেশী, তদন্ত কর্মকর্তা এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞসহ একাধিক সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দেন। তাদের বক্তব্যে ঘটনার ভয়াবহতা ও নির্মমতার বিভিন্ন দিক উঠে আসে।


ফরেনসিক প্রতিবেদনে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতনের আলামত এবং হত্যাকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। তদন্ত কর্মকর্তার উপস্থাপিত তথ্য, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আলামত পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় প্রদান করেন।


রায়ের পর আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। একই সঙ্গে নিহত রামিসার পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করায় সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


দেশজুড়ে আলোচিত এ মামলার রায়কে শিশু নির্যাতন ও হত্যার বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা হিসেবে দেখছেন আইন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ভারতের কাছে বাংলাদেশের হার, রেকর্ড ষষ্ঠবার সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জিতল ভারত

ভারতের কাছে বাংলাদেশের হার, রেকর্ড ষষ্ঠবার সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জিতল ভারত

 


ভারতের কাছে বাংলাদেশের হার, রেকর্ড ষষ্ঠবার সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জিতল ভারত

দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশকে ৩-১ গোলে হারিয়ে রেকর্ড-বর্ধিত ষষ্ঠ শিরোপা জিতেছে ভারত। শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে মাঠে নামা বাংলাদেশ লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকদের কাছে পরাজিত হয়ে রানার-আপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে।

শনিবার গোয়ার মারগাওয়ে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচে শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। ম্যাচের প্রথমার্ধে ভারত বল দখল এবং আক্রমণে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশও পাল্টা আক্রমণে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে। তবে ম্যাচের ৪২তম মিনিটে পিয়ারি জাখসার গোলে এগিয়ে যায় ভারত। ডান দিক থেকে আসা আক্রমণ থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে জালে বল পাঠান তিনি।

গোল হজম করার পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে সমতায় ফেরে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। দলের অন্যতম ভরসার নাম রিতু পর্ণা চাকমা দুর্দান্ত এক আক্রমণ থেকে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। তার এই গোলে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন বাংলাদেশি সমর্থকরা এবং প্রথমার্ধ ১-১ সমতায় শেষ হয়।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার পরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। খেলা শুরুর মাত্র ৪০ সেকেন্ডের মাথায় সানফিদা নংরুম গোল করে ভারতকে আবারও এগিয়ে দেন। দ্রুত এই গোল হজম করার পর বাংলাদেশ কিছুটা চাপে পড়ে যায়। এরপর ম্যাচে ফিরে আসার জন্য একাধিক পরিবর্তন আনে বাংলাদেশ কোচিং স্টাফ।

বাংলাদেশ বেশ কয়েকটি আক্রমণ গড়ে তুললেও ভারতের শক্তিশালী রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় সমতা ফেরানো সম্ভব হয়নি। বরং ম্যাচের ৮২তম মিনিটে লিন্ডা কম সের্তো ভারতের হয়ে তৃতীয় গোল করে জয় প্রায় নিশ্চিত করে দেন। শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ভারত।

এই জয়ের মাধ্যমে সাত বছর পর আবারও সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা পুনরুদ্ধার করল ভারত। একই সঙ্গে এটি তাদের ইতিহাসের ষষ্ঠ সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে বাংলাদেশ টানা তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামলেও সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি।

তবে ফাইনালে হারলেও পুরো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স প্রশংসিত হয়েছে। গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে নকআউট পর্ব পর্যন্ত ধারাবাহিক ভালো ফুটবল উপহার দিয়েছে দলটি। তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গড়া বাংলাদেশ দল ভবিষ্যতের জন্যও ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।

ফাইনাল শেষে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ হতাশা প্রকাশ করলেও ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। দেশের নারী ফুটবলের উন্নয়নে এই সাফল্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিরোপা হাতছাড়া হলেও সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে রানার-আপ হয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা আবারও প্রমাণ করেছে যে দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলে তারা এখন অন্যতম শক্তিশালী দল। ভবিষ্যতের বড় আসরগুলোতে আরও ভালো ফল করার লক্ষ্য নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে চায় বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল।


Friday, June 5, 2026

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের রেড টেলিফোনের তামার তার চুরি

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের রেড টেলিফোনের তামার তার চুরি

 


বাংলাদেশ সচিবালয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ রেড টেলিফোন সংযোগের তামার তার চুরির ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনার তদন্তে নেমে চুরি হওয়া তার উদ্ধার করার পাশাপাশি দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।


গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্র (২৫) এবং ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলাম (৩২)। শুক্রবার বিকেলে সিটিটিসির একটি দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।


জানা গেছে, সম্প্রতি সচিবালয়ের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত রেড টেলিফোন সংযোগের তামার তার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। বিষয়টি সামনে আসার পর সরকারি বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে এ ঘটনায় বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) শাহবাগ থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে।


মামলার পর ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে সিটিটিসির সিটি ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগ। তদন্তের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন হিসেবে সচিবালয়ে কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্রকে বৃহস্পতিবার দুপুরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়।


প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই রঞ্জন চুরির সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র। তার বক্তব্য অনুযায়ী, গত ২২ মে সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবন থেকে তিনি তামার তারগুলো সরিয়ে ফেলেন। পরে গত ১ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হল এলাকার একটি ভাঙারি দোকানে এসব তার বিক্রি করেন। প্রতি কেজি তামার তারের দাম ধরা হয়েছিল ৬০০ টাকা। মোট ৮ কেজি ২০০ গ্রাম তার বিক্রি করা হয়েছিল বলে তিনি স্বীকার করেন।


রঞ্জনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলামকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার দেখানো একটি গুদামে তল্লাশি চালিয়ে চুরি হওয়া তামার তার উদ্ধার করে পুলিশ। রাজধানীর হোসেনী দালান রোডের একটি গুদাম থেকে এসব তার উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিটিটিসি।


তদন্তকারীরা মনে করছেন, এটি কোনো একক ব্যক্তির কাজ নাও হতে পারে। সচিবালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার তার ও অন্যান্য মূল্যবান উপকরণ চুরির সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে ঘটনার পেছনে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সম্ভাব্য সহযোগীদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


এদিকে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, চুরির ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রায় ৮ কেজি তামার তার উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, চুরি হওয়া মালামাল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ভাঙারি ব্যবসায়ীকেও আইনের আওতায় আনা হয়েছে।


ঘটনাটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তদন্ত শেষ হলে পুরো ঘটনার পেছনের নেটওয়ার্ক ও দায়ীদের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।