রাজধানীর শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন পর্যন্ত শুধু ঢাকাতেই ৩২ জনকে হত্যার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
রাজধানীর শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন পর্যন্ত শুধু ঢাকাতেই ৩২ জনকে হত্যার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিক্সিং তদন্তের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। দাবি করা হয়, তার বিরুদ্ধে তদন্ত করছেন বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল। তবে এই খবরকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে নিশ্চিত করেছেন মার্শাল নিজেই।
বিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সভাপতিকে নিয়ে এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি)ও করেছে বিসিবি।
এই ঘটনার একদিন পরই মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ক্রীড়া সাংবাদিকদের প্রবেশ নিয়ে নতুন ও কড়াকড়ি বিধিনিষেধ জারি করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। বিসিবির প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বোর্ডের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ ছাড়া ক্রীড়া সাংবাদিকরা স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে পারবেন না।
স্টেডিয়াম ও এর আশপাশের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানায় বিসিবি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গণমাধ্যমে কর্মরত ব্যক্তিরা শুধুমাত্র স্টেডিয়ামের এক নম্বর গেট ব্যবহার করে ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন।
এ ছাড়া কোন কোন পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের মাঠে প্রবেশের সুযোগ থাকবে, সেটিও স্পষ্ট করেছে বিসিবি। মিরপুর স্টেডিয়ামে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হলে ক্রীড়া সাংবাদিকরা মাঠে ঢোকার অনুমতি পাবেন। একইভাবে, কোনো আনুষ্ঠানিক প্রেস কনফারেন্স থাকলেও স্টেডিয়ামে প্রবেশ করা যাবে।
বিসিবি যদি কোনো ইভেন্টের জন্য নির্দিষ্টভাবে আমন্ত্রণ জানায়, সেক্ষেত্রে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা থাকবে না। অনুশীলন কাভারের ক্ষেত্রেও বিসিবির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে মাঠে যাওয়ার অনুমতি মিলবে।
তবে নিয়মের বাইরে চাইলেই প্রতিদিন স্টেডিয়ামে প্রবেশ করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে। এই নির্দেশনা শুধু সাংবাদিকদের জন্য নয়, স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে প্রবেশকারী সকলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। বিসিবি জানিয়েছে, আগামী ৩১ জানুয়ারি থেকে নতুন এই বিধিনিষেধ কার্যকর হবে।
টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে ২০০৫ সালের ভয়াবহ বিস্ফোরণ সংক্রান্ত মামলায় আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের পক্ষে রায় এসেছে। রায়ে কানাডাভিত্তিক জ্বালানি কোম্পানি নাইকোকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে বাংলাদেশকে ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৫১৬ কোটি টাকা, প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে হিসাব করা হয়েছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটস (আইসিএসআইডি) এই রায় ঘোষণা করে। বৃহস্পতিবার পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ফলে গ্যাসক্ষেত্রে প্রায় ৮ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পুড়ে যাওয়ায় ক্ষতির জন্য ৪০ মিলিয়ন ডলার এবং পরিবেশসহ অন্যান্য ক্ষতির জন্য অতিরিক্ত ২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জের ছাতকে অবস্থিত টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রটি ১৯৫৯ সালে আবিষ্কৃত হয়। পরবর্তী সময়ে কূপ খননের মাধ্যমে এক হাজার ৯০ মিটার থেকে এক হাজার ৯৭৫ মিটার গভীরতায় মোট নয়টি গ্যাস স্তরের সন্ধান পাওয়া যায়। দীর্ঘ বিরতির পর ২০০৩ সালে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের দায়িত্ব দেওয়া হয় কানাডিয়ান কোম্পানি নাইকোকে।
খননকাজ শুরুর দুই বছরের মাথায়, ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন গ্যাসক্ষেত্রে পরপর দুটি বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে বিপুল পরিমাণ গ্যাস পুড়ে যায় এবং আশপাশের অবকাঠামো ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকার নাইকোর কাছে ৭৪৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করলেও প্রতিষ্ঠানটি তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে ২০১৬ সালে প্রায় ৯ হাজার ২৫০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবিতে ওয়াশিংটনের আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে বাংলাদেশ।
পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল রায়ে উল্লেখ করেছে যে খনন কার্যক্রম পুরোপুরি নাইকোর তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছিল। আন্তর্জাতিক পেট্রোলিয়াম শিল্পের স্বীকৃত মানদণ্ড অনুসরণ না করা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই বিস্ফোরণ ঘটে। এসব কারণ বিবেচনায় নাইকোকেই দায়ী করে বাংলাদেশকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
নির্বাচনী প্রচারণাকে ঘিরে উত্তরাঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন গতি যোগ হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজশাহীতে পৌঁছেছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাকে বহনকারী বিমান রাজশাহী শাহ মখদুম বিমানবন্দরে অবতরণ করে। উত্তরাঞ্চলে ভোটের মাঠে সরাসরি প্রচারণায় অংশ নিতে আজ সকালে তিনি সস্ত্রীক ঢাকার বাসভবন ত্যাগ করেন।
রাজশাহীতে পৌঁছানোর পরপরই বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান হযরত শাহ মখদুম রহমাতুল্লাহ আলাইহির (রহ.) মাজারে জিয়ারত করার কথা রয়েছে। সেখানে মোনাজাত শেষে তিনি নির্বাচনী সমাবেশস্থলের উদ্দেশে রওনা দেবেন। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এই সফরের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করাই মূল লক্ষ্য।
এদিকে তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে রাজশাহী নগরীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে ভোর থেকেই বিএনপির নেতাকর্মীরা জড়ো হতে শুরু করেন। বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা থেকে আসা নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে মাঠ ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার পাশাপাশি তার বক্তব্য শোনার অপেক্ষায় রয়েছেন হাজারো সমর্থক।
রাজশাহীর সমাবেশ শেষে বিএনপি চেয়ারম্যান নওগাঁ জেলার এটিএম মাঠে আয়োজিত আরেকটি নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখবেন। এরপর সড়কপথে তিনি বগুড়ার উদ্দেশে যাত্রা করবেন। পথে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময়েরও সম্ভাবনা রয়েছে। রাতে বগুড়ার আলতাফুন্নেসা খেলার মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগ দিয়ে উত্তরাঞ্চলে তার প্রথম দিনের কর্মসূচি শেষ করবেন তিনি।
দলীয় কর্মসূচি অনুযায়ী, শুক্রবার তারেক রহমান রংপুরে গিয়ে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর সেখানে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। ওইদিনের কর্মসূচি শেষে তিনি বগুড়ায় রাত্রিযাপন করবেন।
শনিবার বগুড়া থেকে যাত্রা শুরু করে সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে ধারাবাহিক নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এসব কর্মসূচি শেষ করে তিনি ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে। দলীয় নেতারা আশা করছেন, তারেক রহমানের এই উত্তরাঞ্চল সফর নির্বাচনী মাঠে বিএনপির অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।
ভারতে গিয়ে খেলতে অনিচ্ছা প্রকাশের জেরে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাতিলের পর এবার আরও কঠোর অবস্থানে গেল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। টুর্নামেন্ট কাভার করার উদ্দেশ্যে আবেদন করা বাংলাদেশের সব সাংবাদিকের মিডিয়া অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল করেছে সংস্থাটি। এর ফলে এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কোনো সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধির উপস্থিতি থাকছে না।
আইসিসির নির্ধারিত নিয়ম মেনে যেসব বাংলাদেশি সাংবাদিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কাভারের জন্য আবেদন করেছিলেন, তাদের সবাইকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে আবেদনগুলো গ্রহণযোগ্য হয়নি। এর আগেই নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অজুহাতে ভারত সফরে অনীহা দেখানোর কারণে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপের মূল পর্ব থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় আইসিসি।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ১৯৯৯ সাল থেকে শুরু করে প্রতিটি ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সক্রিয় ও পেশাদার উপস্থিতি ছিল। এমনকি ১৯৯৯ সালের আগেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বড় মঞ্চে বাংলাদেশের সাংবাদিকরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করেছেন।
আইসিসির এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে দেশের ক্রীড়া সাংবাদিক মহলে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদ দেখা দিয়েছে। অনেকেই এটিকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে দেখছেন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষকে সংহতি প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কেন্দ্রীয় চুক্তিতে জায়গা পাওয়া ২২ ক্রিকেটারের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। গত ১ জানুয়ারি থেকে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এই চুক্তি। তবে এ বছরের ফেব্রুয়ারির পর কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে নিজের নাম সরিয়ে নিতে বিসিবিকে অনুরোধ জানিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ফলে ১ মার্চ থেকে চুক্তির বাইরে থাকবেন মাহমুদউল্লাহ। দীর্ঘ সময় পর তালিকায় জায়গা হারিয়েছেন সাকিব আল হাসান। লম্বা সময় ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পেস বিভাগের নেতৃত্ব দেওয়ার পুরস্কার পেয়েছেন তাসকিন আহমেদ। বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে শীর্ষ ক্যাটাগরিতে জায়গা করে নিয়েছেন এই অভিজ্ঞ পেসার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গতির পসরা মেলে ধরে প্রথমবার কেন্দ্রীয় চুক্তিতে এসেছেন পেসার নাহিদ রানা। গতকাল সোমবার ২০২৫ সালের কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকা প্রকাশ করে বিসিবি। গত কয়েক বছরে ক্রিকেটারদের সঙ্গে সংস্করণভেদে আলাদা চুক্তি করে আসছিল বিসিবি। এবার সেখান থেকে সরে এসে ‘এ প্লাস’, ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’, ‘ডি’– মোট পাঁচ ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে ২২ ক্রিকেটারকে। গত বছর কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ছিলেন ২১ জন। গত বছর তিন সংস্করণের চুক্তিতে ছিলেন সাকিব আল হাসান, লিটন কুমার দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাজমুল হোসেন শান্ত ও শরিফুল ইসলাম। গত সেপ্টেম্বরের পর থেকে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার থমকে থাকা সাকিবকে এবার বাদ দেওয়া হয়েছে চুক্তি থেকে। গত বছরের চুক্তি থেকে আরও বাদ পড়েছেন নুরুল হাসান সোহান, জাকির হাসান, মাহমুদুল হাসান জয় ও নাঈম হাসান। শুধু টেস্টের চুক্তিতে ছিলেন জাকির, জয় ও নাঈম। টি–টোয়েন্টির চুক্তিতে ছিলেন সোহান। এবার কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ফিরেছেন সৌম্য সরকার ও সাদমান ইসলাম। নাহিদ ছাড়াও প্রথমবার চুক্তিতে জায়গা পেয়েছেন জাকের আলি, রিশাদ হোসেন ও তানজিদ হাসান। এই তিন জনকেই রাখা হয়েছে ‘সি’ ক্যাটাগরিতে। নাহিদের জায়গা হয়েছে ‘বি’তে।
নতুন কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরিতে থাকা তাসকিন প্রতি মাসে পাবেন ১০ লাখ টাকা পারিশ্রমিক। এছাড়া ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ৮ লাখ, ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৬ লাখ, ‘সি’ ক্যাটাগরিতে ৪ লাখ ও ‘ডি’ ক্যাটাগরিতে থাকা ক্রিকেটাররা পাবেন ২ লাখ টাকা করে। এবার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকের ‘এ’ ক্যাটাগরিতে আছেন শান্ত, মিরাজ ও লিটন। সদ্য সমাপ্ত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দল থেকে বাদ পড়া শরিফুলের জায়গা হয়েছে ‘সি’ ক্যাটাগরিতে।
চুক্তিতে মুশফিকুর রহিমকে রাখা হয়েছিল ‘এ’ ক্যাটাগরিতে। তিনি টেস্ট ও ওয়ানডে খেলবেন সেটা ধরেই নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। চলতি মাসের শুরুতে ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। শুধুমাত্র টেস্ট খেলবেন। তাই ১ মার্চ থেকে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে থাকবেন মুশফিক। তাই মার্চ মাস থেকে ‘বি’ ক্যাটাগরির ক্রিকেটার হিসেবে গণ্য হবেন অভিজ্ঞ কিপার–ব্যাটার। মাহমুদউল্লাহকে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে রেখে তালিকা চূড়ান্ত করেছিল বোর্ডের ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগ। তবে ফেব্রুয়ারির পর থেকে নিজেকে চুক্তিতে না রাখার অনুরোধ করেছেন ৩৯ বছর বয়সী ক্রিকেটার। তাই মার্চ থেকে আর বিসিবির চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটার নন তিনি। এছাড়া গত বছর টি–টোয়েন্টিতে দারুণ পারফর্ম করা শামীম হোসেনের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে জায়গা হয়নি।
২০২৫ সালের বিসিবি কেন্দ্রীয় চুক্তি: ‘এ প্লাস’: (মাসে বেতন ১০ লক্ষ টাকা) তাসকিন আহমেদ, ‘এ’: (মাসে বেতন ৮ লক্ষ টাকা) নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজ, লিটন কুমার দাস, মুশফিকুর রহিম (মার্চ থেকে বি ক্যাটাগরি),‘বি’: (মাসে বেতন ৬ লক্ষ টাকা) মোমিনুল হক, তাইজুল ইসলাম, মাহমুদউল্লাহ (ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত), মুস্তাফিজুর রহমান, তাওহিদ হৃদয়, হাসান মাহমুদ, নাহিদ রানা,‘সি’: (মাসে বেতন ৪ লক্ষ টাকা) সাদমান ইসলাম, সৌম্য সরকার, জাকের আলি, তানজিদ হাসান, শরিফুল ইসলাম, রিশাদ হোসেন, তানজিম হাসান, শেখ মেহেদি হাসান,‘ডি’: (মাসে বেতন ২ লক্ষ টাকা) নাসুম আহমেদ, সৈয়দ খালেদ আহমেদ।
বিসিবির এই চুক্তি প্রসঙ্গে ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন বলেন, ‘যারা টেস্ট ক্রিকেট খেলবে, তারা যেন লাভবান হয় তেমন একটি চুক্তি করতে চেয়েছি আমরা।’ তিনি আরো বলেন, ক্রিকেটারদের বেতন গ্রেড বদলের পাশাপাশি ম্যাচ ফিও বাড়বে।
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় পূর্ব-বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় দুই ভাই নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার বিওসি মাঠ গুদাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, কুয়েত প্রবাসী জামাল উদ্দিন ও তার ছোট ভাই কাইয়ুম।
পুলিশ জানায়, কৃষক আব্দুল কাইয়ুমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী জমির উদ্দিনের বিরোধ চলছিলো। কয়েক বছর আগে খুন হওয়া জমিরের ভাগ্নে জালাল উদ্দিন হত্যা মামলার আসামি ছিলেন কাইয়ুম। শনিবার সন্ধ্যায় কাইয়ুমকে পুলিশে ধরিয়ে দিতে জমির উদ্দিনসহ কয়েকজন তার বাড়িতে যায়। এ সময় দুইপক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের হামলায় কাইয়ুম ও তার বড় ভাই কুয়েত প্রবাসী জামাল উদ্দিন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষের জমির উদ্দিনসহ কয়েকজন আহত হন।
পুলিশ আরও জানায়, আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেলে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও পিতা জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করে সাভারের পথে রওনা হন তিনি।
তারেক রহমানের আগমন ঘিরে স্মৃতিসৌধ এলাকা সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে স্মৃতিসৌধ এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এর আগে, পিতার কবর জিয়ারত ও স্মৃতিসৌধে যাওয়ার উদ্দেশে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুর ২টা ৫২ মিনিটে বাসা থেকে বের হন তারেক রহমান। পথে নেতাকর্মীদের ভিড় থাকায় জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলে পৌঁছান বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে। এরপর সেখানে মোনাজাতে অংশ নিয়ে রওনা দেন সাভারের পথে।
কিন্তু সূর্য ডুবে যাওয়ায় ইতোমধ্যে রীতি মেনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মইন খানের নেতৃত্বে বিনপির একটি প্রতিনিধি দল তারেক রহমানের পক্ষ থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তবে তারেক রহমান যাচ্ছেন স্মৃতিসৌধে।
চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে দেড় লাখ টাকা এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর সদরঘাটে ক্ষতিগ্রস্ত লঞ্চ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।
উপদেষ্টা বলেন, সব ধরনের পরিবহনের মধ্যে নদীপথ তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। তারপরও এ ধরনের দুর্ঘটনা মেনে নেয়া যায় না। আমি নিজেও নিয়মিত নদীপথে যাতায়াত করি। লক্ষ্য করেছি, অনেক সময় রাতে লঞ্চ চলাচলের ক্ষেত্রে লাইট ব্যবহার করা হয় না।
তিনি জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আট সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই লঞ্চের দায়িত্বপ্রাপ্তদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
তিনি আরো জানান, এরই মধ্যে কয়েকটি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। রাতে কুয়াশার মধ্যে কোনো লঞ্চ চলাচল করতে পারবে না। রাতে কোথাও দাঁড়ালে অবশ্যই লাইট ব্যবহার করতে হবে। এ মৌসুমে বাল্কহেড সকাল ৮টার আগে চলাচল করতে পারবে না। এসব নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার করা হবে।
ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঝড় বা তুফানে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, কিন্তু যেভাবে দুটি লঞ্চের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে, তাতে মনে হয় চালক ঘুমিয়ে পড়েছিলেন অথবা অন্য কাউকে দিয়ে লঞ্চ চালাচ্ছিলেন। তবে তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাবে না।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কোনো লঞ্চচালক সঠিকভাবে লঞ্চ পরিচালনা না করলে, রাতে লাইট ব্যবহার না করলে বা নির্দেশনা অমান্য করলে তাদের রুট পারমিট ও লাইসেন্স বাতিল করা হবে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাত ধরে দেশ গণতান্ত্রিক যাত্রার পথে এগিয়ে যাবে। তার রাজসিক প্রত্যাবর্তন সেই বার্তা বহন করে।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে জিয়াউর রহমানের মাজার প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনেরও প্রত্যাশাও জানান তিনি।
দীর্ঘ ১৯ বছর পর আজ জিয়াউর রহমানের সমাধিতে যাচ্ছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সর্বশেষ ২০০৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাবার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।