Showing posts with label খেলাধুলা. Show all posts
Showing posts with label খেলাধুলা. Show all posts

Saturday, June 20, 2026

ছয় দিনের অপেক্ষার পর বিশ্বকাপের রেকর্ড ফের ব্রাজিল-এর ঘরে

ছয় দিনের অপেক্ষার পর বিশ্বকাপের রেকর্ড ফের ব্রাজিল-এর ঘরে

 


এবারের FIFA World Cup 2026 যেন গোল উৎসবের এক মহামঞ্চে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন রেকর্ড, বদলে যাচ্ছে পুরনো ইতিহাস। আর সেই রেকর্ডের লড়াইয়ে এবার আবারও শীর্ষে উঠে এসেছে Brazil। মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ফের নিজেদের করে নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

১৪ জুন Germany বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক গড়ে। Curacao-এর বিপক্ষে দুর্দান্ত এক ম্যাচে একাই ৭ গোল করে জার্মানরা টপকে যায় ব্রাজিলকে। এর আগে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ছিল ব্রাজিলের দখলে, তাদের মোট গোল সংখ্যা ছিল ২৩৮। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে সাত গোলের মহোৎসবের পর জার্মানির মোট গোল দাঁড়ায় ২৩৯-এ। ফলে ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা দল হিসেবে ব্রাজিলকে পেছনে ফেলে শীর্ষে উঠে যায় জার্মানি।

তবে সেই আনন্দ খুব বেশি দিন স্থায়ী হয়নি।

মাত্র ছয় দিন পর, ২০ জুন সকালে (বাংলাদেশ সময়) মাঠে নামে ব্রাজিল। প্রতিপক্ষ ছিল Haiti। ম্যাচটি শুরু থেকেই ছিল একপেশে। আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকা ব্রাজিল প্রথম বাঁশি থেকেই হাইতির রক্ষণভাগে একের পর এক চাপ তৈরি করতে থাকে।

ম্যাচের শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, ব্রাজিল শুধু জয় নিয়েই ভাবছে না—রেকর্ড পুনর্দখলের মিশনেও নেমেছে। খুব দ্রুতই তারা গোলের দেখা পেয়ে যায়। এরপর একের পর এক আক্রমণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে হাইতির ডিফেন্স।

প্রথমার্ধেই তিন গোল করে ব্রাজিল শুধু ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়নি, ইতিহাসও নতুন করে লিখেছে। এই তিন গোলের মাধ্যমে জার্মানিকে টপকে আবারও বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা দলের আসন পুনরুদ্ধার করেছে সেলেসাওরা।

হাইতির বিপক্ষে তিন গোল যোগ হওয়ায় ব্রাজিলের মোট বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪১-এ। অর্থাৎ মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে আবারও বদলে গেল বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডধারীর নাম।

ফুটবল বিশ্বে Brazil মানেই আক্রমণাত্মক, নান্দনিক ও সৃজনশীল ফুটবলের প্রতীক। দশকের পর দশক ধরে তারা বিশ্বকাপ মঞ্চে নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখেছে। Germany বরাবরই ছিল তাদের বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবার ছড়িয়ে পড়েছে গোলের রেকর্ড বইয়েও।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে ব্রাজিল ও জার্মানির এই রেকর্ড লড়াই ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বাড়তি উত্তেজনা তৈরি করেছে। এক দল রেকর্ড গড়ছে, অন্য দল কয়েক দিনের ব্যবধানে সেটি ভেঙে আবার শীর্ষে উঠছে।

টুর্নামেন্ট এখনও অনেক বাকি। তাই এই রেকর্ড লড়াইয়ে সামনে আরও চমক অপেক্ষা করছে বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার আগেই রেকর্ড বইয়ে আরও কতবার পরিবর্তন আসে।

সর্বোচ্চ গোলে কে কোথায়?

১. Brazil — ২৪১
২. Germany — ২৩৯
৩. Argentina — ১৫৫
৪. France — ১৩৯
৫. Italy — ১২৮
৬. Spain — ১০৮
৭. England — ১০৮


বিশ্বকাপে দ্রুততম গোলের রেকর্ড এখন প্যারাগুয়ের, পেছনে মরক্কো

বিশ্বকাপে দ্রুততম গোলের রেকর্ড এখন প্যারাগুয়ের, পেছনে মরক্কো

 



বিশ্বকাপের এবারের আসরে দ্রুততম গোলের রেকর্ড যেন ঘণ্টায় ঘণ্টায় হাতবদল হচ্ছে। মাত্র ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে রেকর্ড বদলে এবার নতুন ইতিহাস গড়েছে Paraguay। তুরস্কের বিপক্ষে বাঁচা-মরার ম্যাচে মাত্র ৬৪ সেকেন্ডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন Matías Galarza। তার এই গোলেই বিশ্বকাপ ২০২৬-এর বর্তমান আসরের দ্রুততম গোলের রেকর্ড এখন প্যারাগুয়ের দখলে।

দিনের শুরুতেই এই রেকর্ড গড়েছিল Morocco। ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে Scotland-এর বিপক্ষে মাত্র ৭০ সেকেন্ডে গোল করেছিলেন Ismael Saibari। সেই গোলটিই তখন পর্যন্ত এবারের বিশ্বকাপের দ্রুততম গোল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। কিন্তু ফুটবলের নাটকীয়তা এখানেই—মাত্র ৫ ঘণ্টার মাথায় সেই রেকর্ড ভেঙে দিল প্যারাগুয়ে।

তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই ছিল চাপে। ম্যাচটি ছিল কার্যত বাঁচা-মরার লড়াই। পরের রাউন্ডে যেতে হলে জয়ের বিকল্প ছিল না Turkey-এর সামনে। ম্যাচের শুরুতে বলের দখল ছিল তুরস্কের পায়েই। তবে সেই নিয়ন্ত্রণ খুব বেশি সময় স্থায়ী হয়নি।

ম্যাচের মাত্র ৬৪ সেকেন্ডে ঘটে যায় বড় ভুল। তুরস্কের ডিফেন্সে সমন্বয়হীনতার সুযোগ নেয় প্যারাগুয়ে। ডিফেন্ডারের একটি ভুল পাস থেকে বল পেয়ে যান ম্যাথিয়াস গালারজা। ডি-বক্সের ঠিক বাইরে থেকে বাম পায়ের শক্তিশালী শটে তিনি বল জড়িয়ে দেন জালে। তুরস্কের গোলরক্ষক বাম দিকে ঝাঁপিয়ে পড়েও বল থামাতে পারেননি।

ঘটনাটা এত দ্রুত ঘটে যে তুরস্কের খেলোয়াড়রা যেন কিছু বুঝে ওঠার আগেই স্কোরলাইন ১-০ হয়ে যায়। লাতিন আমেরিকার দলটি শুরুতেই এগিয়ে গিয়ে ম্যাচে মানসিক সুবিধা পেয়ে যায়। অন্যদিকে, হঠাৎ পিছিয়ে পড়ে চাপে পড়ে যায় তুরস্ক।

গালারজার এই গোল শুধু ম্যাচের গতিপথই বদলায়নি, বদলে দিয়েছে এবারের বিশ্বকাপের রেকর্ড বইও। মাত্র ৬৪ সেকেন্ডে গোল করে তিনি নিজের নাম লিখিয়েছেন টুর্নামেন্টের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্তে। বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন দ্রুত গোল সবসময়ই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ এটি প্রতিপক্ষের কৌশল ও আত্মবিশ্বাসে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে।



তবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্রুততম গোলের রেকর্ড এখনও অনেক দূরের। সেই রেকর্ডের মালিক Hakan Şükür। ২০০২ বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে মাত্র ১১ সেকেন্ডে গোল করেছিলেন তিনি। আজও সেটিই বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্রুততম গোল হিসেবে অটুট আছে।

তবুও এবারের বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ের এই রেকর্ড বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে, কারণ মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুইবার দ্রুততম গোলের রেকর্ড বদলেছে। প্রথমে মরক্কো, এরপর প্যারাগুয়ে—একই দিনে দুই দলের নাম উঠল রেকর্ডের পাতায়।

এখন দেখার বিষয়, টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতে এই রেকর্ড আবার বদলায় কিনা। ফুটবলের সৌন্দর্য এখানেই—এক মুহূর্তেই বদলে যেতে পারে সবকিছু। আর সেই অনিশ্চয়তাই বিশ্বকাপকে করে তোলে আরও রোমাঞ্চকর।

দ্বিতীয়ার্ধে আর গোল হলো না, ৩-০ ব্যবধানেই জিতলো ব্রাজিল

দ্বিতীয়ার্ধে আর গোল হলো না, ৩-০ ব্যবধানেই জিতলো ব্রাজিল

 



প্রথমার্ধে ৩-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ব্রাজিল। দ্বিতীয়ার্ধে গোলের পর গোলের সুযোগ নষ্ট করেও আর ব্যবধান বাড়াতে পারেনি সেলেসাওরা। যার ফলে ৩-০ গোলের ব্যবধানে জয় নিয়েই মাঠ চেড়েছে ব্রাজিলিয়ানরা। ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে ব্যবধান যাই হোক, গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নিয়েছে ব্রাজিল। 
কার্লো আনচেলত্তির দল শুরুতে কিছুটা ধৈর্য ধরে খেললেও একবার গোলের দেখা পাওয়ার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি সেলেসাওদের। ম্যাচের নায়ক ছিলেন ম্যাথিউস কুনহা, যিনি জোড়া গোল করেন। অপর গোলটি করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ড্র করার পর এই ম্যাচে জয়ের বিকল্প ছিল না ব্রাজিলের সামনে। তবে ম্যাচের শুরুতে হাইতি চমৎকার সংগঠিত রক্ষণ নিয়ে ব্রাজিলকে আটকে রাখে। প্রথম ২০ মিনিটে বলের দখল কম থাকলেও নিজেদের ডিফেন্সিভ কাঠামো ঠিক রেখে ব্রাজিলের আক্রমণ সামাল দেয় ক্যারিবিয়ান দলটি। ১২ মিনিটে ব্রাজিল প্রথমবার জালের দেখা পেলেও রাফিনিয়ার গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। 
ব্রুনো গিমারায়েসের অসাধারণ পাস থেকে গোল করলেও সহকারী রেফারির পতাকায় উৎসব থেমে যায়। এরপরও চাপ ধরে রাখে ব্রাজিল। ২৩ মিনিটে অবশেষে এগিয়ে যায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শট হাইতির গোলরক্ষক আলেক্সান্দ্রে প্লাসিদ ঠিকমতো সামলাতে পারেননি। ডিফেন্ডার ডেলক্রোয়ার ক্লিয়ারেন্সের চেষ্টা গিয়ে লাগে কুনহার গায়ে, সেখান থেকে বল জড়িয়ে যায় ফাঁকা জালে। ভাগ্যের সহায়তায় পাওয়া এই গোলেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। গোলের পর আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে সেলেসাওরা। ৩৬ মিনিটে আসে দ্বিতীয় গোল। মাঝমাঠে বল হারানোর সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠেন ভিনিসিয়ুস। তার নিখুঁত পাস ধরে বক্সে ঢুকে দূরহ কোণ থেকেও দুর্দান্ত শটে জাল খুঁজে নেন কুনহা। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ফরোয়ার্ডের এই গোল ব্রাজিলকে এনে দেয় ২-০ ব্যবধান। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ম্যাচ কার্যত নিজেদের করে নেয় ব্রাজিল। লুকাস পাকেতার অসাধারণ লং পাস ধরে ডিফেন্স চিরে এগিয়ে যান ভিনিসিয়ুস। 
গোলরক্ষককে কাটিয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ৩-০ করেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। প্রথমার্ধে হাইতির অবস্থা ছিল বেশ হতাশাজনক। প্রতিপক্ষের বক্সে মাত্র কয়েকবার বল স্পর্শ করতে পারলেও তারা কোনো শটই নিতে পারেনি। প্রত্যাশিত গোলের হিসাবেও ছিল শূন্যের কোটায়। অন্যদিকে মাত্র পাঁচটি অন-টার্গেট শট থেকেই তিন গোল তুলে নেয় ব্রাজিল। দ্বিতীয়ার্ধে হাইতি কিছুটা আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করে। ৬৩ মিনিটে তাদের সবচেয়ে ভালো সুযোগটি তৈরি হয় কর্নার থেকে। আদে-র শক্তিশালী হেড দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ব্রাজিল গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার। ব্রাজিলও ব্যবধান বাড়ানোর একাধিক সুযোগ পেয়েছিল। ৬৯ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির শট ক্রসবারে লাগে, যদিও পরে অফসাইডের পতাকা ওঠে। ৭৮ মিনিটে বদলি নামা এনদ্রিক গোল করলেও সেটিও অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। ম্যাচের শেষদিকে আনচেলত্তি কুনহা, পাকেতা ও ভিনিসিয়ুসকে তুলে নেন মাঠ থেকে। তবুও খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখে ব্রাজিল। যোগ করা সময়ে এডারসন ফাঁকা জাল পেয়েও গোল করতে না পারায় ব্যবধান আর বাড়েনি। 
এই জয়ে গ্রুপ সিতে চার পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে ব্রাজিল। সমান পয়েন্ট থাকলেও গোল ব্যবধানে তারা মরক্কোকে ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় পরাজয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে চলে গেছে হাইতি। বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে এটি ছিল আরেকটি স্মরণীয় ম্যাচ। তিন বা তার বেশি গোল করা বিশ্বকাপ ম্যাচের সংখ্যায় তারা নিজেদের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করেছে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বাধিক গোল করা দলের তালিকায়ও জার্মানিকে ছাড়িয়ে গেছে সেলেসাওরা।

Wednesday, June 17, 2026

Tuesday, June 16, 2026

৪০ বছরের ভোজিনহার সাত সেভে ইতিহাস গড়ল কেপ ভার্দ

৪০ বছরের ভোজিনহার সাত সেভে ইতিহাস গড়ল কেপ ভার্দ



 খেলা শেষ হওয়ার বাঁশি বাজতেই আটলান্টা স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচায় তৈরি হলো দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন মেরুর দৃশ্যপট। একদিকে টুর্নামেন্টের অন্যতম হট-ফেবারিট স্পেনের তারকাখচিত ফুটবলারদের হতাশা, আর অন্যদিকে আফ্রিকার ছোট্ট এক দ্বীপরাষ্ট্রের ফুটবলারদের চোখে বাঁধভাঙা আনন্দের অশ্রু।

জনসংখ্যা ও আয়তনের দিক থেকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ কেপ ভার্দ মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিশ্বমঞ্চে যা করে দেখালো, তা হয়তো ফুটবল রূপকথাকেও হার মানায়। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের ৬৪ নম্বরে থাকা দলটি নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ অভিষেক ম্যাচেই গোলশূন্য ব্যবধানে রুখে দিয়েছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন শক্তিশালী স্পেনকে। প্রথমার্ধের সেই অবিশ্বাস্য প্রতিরোধ দ্বিতীয়ার্ধেও ধরে রেখে, স্পেনের বিশ্ববিখ্যাত পাসিং ফুটবলকে বধ করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় ও বিখ্যাত এক ড্রয়ের গল্প লিখলো কেপ ভার্দ।

পুরো ম্যাচে একবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন বল পজিশন ধরে রেখে রীতিমতো ছড়ি ঘুরিয়েছে, খেলেছে রেকর্ড ৮০১টি নিখুঁত পাস। কিন্তু কেপ ভার্দের বক্সে ঢুকে ফেরান তোরেস ও দানি ওলমোদের প্রতিটি আক্রমণ আজ মুখ থুবড়ে পড়েছে আফ্রিকার এই যোদ্ধাদের বুক চিতিয়ে লড়া ডিফেন্সের সামনে। স্পেন যে চেষ্টা করেনি তা নয়, গোল পেতে লুইস দে লা ফুয়েন্তে এতটাই মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন যে, চোট থেকে পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া বার্সেলোনার ১৮ বছর বয়সী বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামালকেও দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নামাতে বাধ্য হন। পুরো ম্যাচে স্প্যানিশ আর্মাডারা গোলমুখে হন্যে হয়ে শট নিয়েছে ২৭টি, যার মধ্যে অন-টার্গেট ছিল ৭টি। কিন্তু কখনো কেপ ভার্দের ডিফেন্সের দেয়াল, কখনো গোলপোস্টের দুর্ভাগ্য, আর বাকিটা সময় বুড়ো হাড়ের ভেল্কি দেখানো এক গোলরক্ষক স্পেনের জয়োৎসব হতে দেননি।

এই ঐতিহাসিক ড্রয়ের মহাকাব্যিক নায়ক আর কেউ নন তিনি কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী কিংবদন্তি গোলরক্ষক ভোজিনহা। ম্যাচের পর যার চোখের অশ্রুর বান বলছিল, দেশের মানুষের জন্য কতটা বড় উৎসবের লগ্নে তিনি বয়ে এনেছেন। পুরো ম্যাচে স্পেনের বিশ্বমানের ফরোয়ার্ডদের নেওয়া ৭টি নিশ্চিত ও দুর্দান্ত সেভ করে পোস্টের নিচে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন এই গোলকিপার।

কম্পিউটার সিমুলেশনের ৮৭ শতাংশ জয়ের পরিসংখ্যানকে স্রেফ তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে কেপ ভার্দের এই রূপকথা প্রমাণ করল ফুটবল মাঠে কেবল বড় নাম বা বড় পাসিংয়ে ম্যাচ জেতা যায় না, তার জন্য লাগে বুক চিতিয়ে লড়াই করার অদম্য সাহস। আর বিশ্বকাপের আসল মজাই তো এখানে, যেখানে ডেভিড এসে অনায়াসেই হারিয়ে দিতে পারে গোলিয়াথকে।

Sunday, June 7, 2026

ভারতের কাছে বাংলাদেশের হার, রেকর্ড ষষ্ঠবার সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জিতল ভারত

ভারতের কাছে বাংলাদেশের হার, রেকর্ড ষষ্ঠবার সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জিতল ভারত

 


ভারতের কাছে বাংলাদেশের হার, রেকর্ড ষষ্ঠবার সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জিতল ভারত

দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশকে ৩-১ গোলে হারিয়ে রেকর্ড-বর্ধিত ষষ্ঠ শিরোপা জিতেছে ভারত। শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে মাঠে নামা বাংলাদেশ লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকদের কাছে পরাজিত হয়ে রানার-আপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে।

শনিবার গোয়ার মারগাওয়ে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচে শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। ম্যাচের প্রথমার্ধে ভারত বল দখল এবং আক্রমণে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশও পাল্টা আক্রমণে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে। তবে ম্যাচের ৪২তম মিনিটে পিয়ারি জাখসার গোলে এগিয়ে যায় ভারত। ডান দিক থেকে আসা আক্রমণ থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে জালে বল পাঠান তিনি।

গোল হজম করার পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে সমতায় ফেরে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। দলের অন্যতম ভরসার নাম রিতু পর্ণা চাকমা দুর্দান্ত এক আক্রমণ থেকে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। তার এই গোলে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন বাংলাদেশি সমর্থকরা এবং প্রথমার্ধ ১-১ সমতায় শেষ হয়।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার পরপরই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। খেলা শুরুর মাত্র ৪০ সেকেন্ডের মাথায় সানফিদা নংরুম গোল করে ভারতকে আবারও এগিয়ে দেন। দ্রুত এই গোল হজম করার পর বাংলাদেশ কিছুটা চাপে পড়ে যায়। এরপর ম্যাচে ফিরে আসার জন্য একাধিক পরিবর্তন আনে বাংলাদেশ কোচিং স্টাফ।

বাংলাদেশ বেশ কয়েকটি আক্রমণ গড়ে তুললেও ভারতের শক্তিশালী রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় সমতা ফেরানো সম্ভব হয়নি। বরং ম্যাচের ৮২তম মিনিটে লিন্ডা কম সের্তো ভারতের হয়ে তৃতীয় গোল করে জয় প্রায় নিশ্চিত করে দেন। শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ভারত।

এই জয়ের মাধ্যমে সাত বছর পর আবারও সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা পুনরুদ্ধার করল ভারত। একই সঙ্গে এটি তাদের ইতিহাসের ষষ্ঠ সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে বাংলাদেশ টানা তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামলেও সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি।

তবে ফাইনালে হারলেও পুরো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স প্রশংসিত হয়েছে। গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে নকআউট পর্ব পর্যন্ত ধারাবাহিক ভালো ফুটবল উপহার দিয়েছে দলটি। তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গড়া বাংলাদেশ দল ভবিষ্যতের জন্যও ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।

ফাইনাল শেষে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ হতাশা প্রকাশ করলেও ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। দেশের নারী ফুটবলের উন্নয়নে এই সাফল্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিরোপা হাতছাড়া হলেও সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে রানার-আপ হয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা আবারও প্রমাণ করেছে যে দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলে তারা এখন অন্যতম শক্তিশালী দল। ভবিষ্যতের বড় আসরগুলোতে আরও ভালো ফল করার লক্ষ্য নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে চায় বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল।


Wednesday, June 3, 2026

বিশ্ববাজারে ফের কমল তেলের দাম

বিশ্ববাজারে ফের কমল তেলের দাম

 


যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও আজ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। আগের দিন বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির পর বিনিয়োগকারীরা এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। 

জিও নিউজের প্রতিবেদন অনযায়ী, মঙ্গলবার (২ জুন) গ্রিনউইচ সময় সকাল ৪টা ৩৪ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৭৫ সেন্ট বা ০.৭৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪.২৩ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৮৫ সেন্ট বা ০.৯২ শতাংশ কমে ৯১.৩১ ডলারে দাঁড়ায়।

এর আগে সোমবার দুই ধরনের তেলের দামই ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। যদিও মে মাসজুড়ে শান্তিচুক্তির আশায় তেলের দাম ১৬ শতাংশেরও বেশি কমেছিল।


বাজার বিশ্লেষক প্রিয়াঙ্কা সচদেবা বলেন, সম্ভাব্য চুক্তির আশায় বাজার অনিশ্চয়তা কাটিয়ে উঠতে চাইলেও এখন পর্যন্ত এমন কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না, যা তেলের বাজারকে স্বস্তি দিতে পারে।

এদিকে, সোমবার (১ জুন) সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, আলোচনা শেষ হয়ে গেলেও তার আপত্তি নেই। তবে কিছুক্ষণ পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।


পরে এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বাড়ানো এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তি হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন।


কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, বর্তমানে বাজারের নজর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় বাস্তব অগ্রগতি বা নতুন কোনো জটিলতা তৈরি হচ্ছে কি না, দুই পক্ষের বক্তব্যের ধরন এবং বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের অবস্থানের দিকে। পাশাপাশি ওই জলপথ দিয়ে ট্যাংকার চলাচলের বাস্তব পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ।


তার মতে, আলোচনা কোন দিকে এগোয়, সেটিই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে তেলের দামে বর্তমানে যুক্ত হওয়া ঝুঁকিজনিত অতিরিক্ত মূল্য (রিস্ক প্রিমিয়াম) থাকবে নাকি কমে যাবে।


এদিকে সোমবার লেবানন আংশিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে। এর আওতায় হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত কিছুটা কমতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইরানকে ঘিরে বৃহত্তর আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের একটি ছোট পদক্ষেপ।


আইজি গ্রুপের বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রতিনিয়ত নতুন খবর আসছে। ফলে শান্তিচুক্তির বিষয়ে স্পষ্ট অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত তেলের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে।


যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান কার্যত উপসাগরীয় অঞ্চলে অ-ইরানি জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে এবং তেলের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।


এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে এশিয়া ও ইউরোপের শোধনাগারগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের তেলের চাহিদা বেড়েছে। ফলে মে মাসে দেশটির অপরিশোধিত তেল রপ্তানি দৈনিক ৫৬ লাখ ব্যারেলের রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।


রয়টার্সের এক প্রাথমিক জরিপে দেখা গেছে, ২৯ মে শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রায় ৩৬ লাখ ব্যারেল কমেছে। একই সঙ্গে ডিজেল ও পেট্রোলের মজুতও হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


সোমবার গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে শিপিং খাতের কর্মকর্তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো শান্তিচুক্তি হলে তাতে অবশ্যই স্পষ্ট নির্দেশনা থাকতে হবে, যাতে জাহাজগুলো নিরাপদে ও স্বাভাবিকভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল পুনরায় শুরু করতে পারে।

Friday, May 29, 2026

মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দল ঘোষণা

মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দল ঘোষণা


২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। কাতার বিশ্বকাপের চেনা মুখ ও একঝাঁক তরুণ তুর্কিদের নিয়েই এই স্কোয়াড ঘোষণা করেন প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। এবারের মহাযজ্ঞেও লা আলবিসেলেস্তেদের নেতৃত্ব দেবেন লিওনেল মেসি।


আর্জেন্টিনাকে তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেওয়া মেসি এবার মাঠে নামলেই গড়বেন ইতিহাস। এটি হতে যাচ্ছে মেসির ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা জার্সিতে রেকর্ড সর্বোচ্চ ম্যাচ (১৯৮) এবং সর্বোচ্চ গোলের (১১৬) মালিকের সামনে এবার ট্রফি ধরে রাখার মিশন।

লিওনেল স্কালোনির এই চূড়ান্ত তালিকায় বড় চমক হলো ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুওনোর বাদ পড়া। আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগে শেষ পর্যন্ত নিজের জায়গা পাকা করতে পারেননি এই তরুণ। স্কোয়াডে জায়গা পেতে ব্যর্থ হয়েছেন কাতার বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার মার্কোস আকুনিয়া। এই দুই তারকার বাদ পড়াই মূলত আর্জেন্টিনার দল ঘোষণার পর সবচেয়ে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


তবে অভিজ্ঞদের বাদ দিলেও স্কালোনি দলের মূল শক্তিকে ধরে রেখেছেন। অভিজ্ঞতা আর তারুণ্যের মিশেলে দলে জায়গা করে নিয়েছেন এনজো ফার্নান্দেজ, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, হুলিয়ান আলভারেজ এবং হুলিয়ানো সিমেওনের মতো উদীয়মান ফুটবলাররা। মেসির পাশাপাশি আক্রমণভাগে আরও আছেন লাউতারো মার্টিনেজ। আর গোলপোস্টের নিচে যথারীতি অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে থাকছেন বিশ্বস্ত এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।

এক নজরে আর্জেন্টিনার ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াড:

গোলরক্ষক: এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, জেরোনিমো রুলি ও হুয়ান মুসো।ডিফেন্ডার: ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, নিকোলাস ওটামেন্ডি, নাহুয়েল মোলিনা, গনসালো মন্তিয়েল, নিকোলাস টাগলিয়াফিকো, লিওনার্দো বালের্দি ও ফাকুন্দো মেদিনা।


মিডফিল্ডার: রদ্রিগো ডি পল, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, জিওভানি লো সেলসো, এক্সেকিয়েল পালাসিওস ও ভ্যালেন্তিন বারকো।


ফরোয়ার্ড: লিওনেল মেসি, লাউতারো মার্টিনেজ, হুলিয়ান আলভারেজ, নিকোলাস গনসালেজ, জুলিয়ানো সিমেওনে, নিকো পাজ, থিয়াগো আলমাদা ও হোসে মানুয়েল লোপেস।


এবারের বিশ্বকাপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা খেলবে 'গ্রুপ জে'-তে। ১৬ জুন মিসৌরির কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করবে তারা। ২২ জুন টেক্সাসের আর্লিংটনে অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হবে স্কালোনির দল। আর ২৭ জুন একই স্টেডিয়ামে জর্ডানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা।


টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল এবং সেরা ৮টি তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল পরবর্তী নকআউট পর্বে উন্নীত হওয়ার সুযোগ পাবে।

Saturday, January 31, 2026

নিরাপত্তা শঙ্কায় বিসিবি, ক্রীড়া সাংবাদিকদের স্টেডিয়ামে প্রবেশে নতুন বিধিনিষেধ

নিরাপত্তা শঙ্কায় বিসিবি, ক্রীড়া সাংবাদিকদের স্টেডিয়ামে প্রবেশে নতুন বিধিনিষেধ

 


বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিক্সিং তদন্তের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। দাবি করা হয়, তার বিরুদ্ধে তদন্ত করছেন বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল। তবে এই খবরকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে নিশ্চিত করেছেন মার্শাল নিজেই।

বিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সভাপতিকে নিয়ে এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি)ও করেছে বিসিবি।

এই ঘটনার একদিন পরই মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ক্রীড়া সাংবাদিকদের প্রবেশ নিয়ে নতুন ও কড়াকড়ি বিধিনিষেধ জারি করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। বিসিবির প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বোর্ডের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ ছাড়া ক্রীড়া সাংবাদিকরা স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে পারবেন না।

স্টেডিয়াম ও এর আশপাশের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানায় বিসিবি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গণমাধ্যমে কর্মরত ব্যক্তিরা শুধুমাত্র স্টেডিয়ামের এক নম্বর গেট ব্যবহার করে ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন।

এ ছাড়া কোন কোন পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের মাঠে প্রবেশের সুযোগ থাকবে, সেটিও স্পষ্ট করেছে বিসিবি। মিরপুর স্টেডিয়ামে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হলে ক্রীড়া সাংবাদিকরা মাঠে ঢোকার অনুমতি পাবেন। একইভাবে, কোনো আনুষ্ঠানিক প্রেস কনফারেন্স থাকলেও স্টেডিয়ামে প্রবেশ করা যাবে।

বিসিবি যদি কোনো ইভেন্টের জন্য নির্দিষ্টভাবে আমন্ত্রণ জানায়, সেক্ষেত্রে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা থাকবে না। অনুশীলন কাভারের ক্ষেত্রেও বিসিবির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে মাঠে যাওয়ার অনুমতি মিলবে।

তবে নিয়মের বাইরে চাইলেই প্রতিদিন স্টেডিয়ামে প্রবেশ করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে। এই নির্দেশনা শুধু সাংবাদিকদের জন্য নয়, স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে প্রবেশকারী সকলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। বিসিবি জানিয়েছে, আগামী ৩১ জানুয়ারি থেকে নতুন এই বিধিনিষেধ কার্যকর হবে।


বিশ্বকাপের জার্সি উন্মোচন স্থগিত করল পাকিস্তান

বিশ্বকাপের জার্সি উন্মোচন স্থগিত করল পাকিস্তান



টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইস্যুতে ভারত ও আইসিসির সঙ্গে টানাপোড়েনের পুরো সময়জুড়েই বাংলাদেশের পাশে থেকেছে পাকিস্তান। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি শুরু থেকেই স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে খেলতে না দেওয়া হলে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়েও সরকারিভাবে আলোচনা করা হবে। এ বিষয়ে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

পিসিবি সূত্রে জানা গেছে, সোমবারের মধ্যেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে। এরই মধ্যে বিশ্বকাপ বর্জনের গুঞ্জনের মধ্যেই ১৫ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন পিসিবির প্রধান নির্বাচক আকিব জাভেদ। একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপে অংশ নিতে কলম্বোর উদ্দেশে পাকিস্তান দলের টিকিটও কাটা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচের পর পাকিস্তানের বিশ্বকাপ জার্সি উন্মোচনের পরিকল্পনা ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে সেই অনুষ্ঠান স্থগিত করেছে পিসিবি। কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে পিসিবির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এর আগে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা জানিয়ে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। একই সঙ্গে লিটন দাস ও মুস্তাফিজুর রহমানদের ম্যাচগুলো ভারত থেকে অন্য ভেন্যুতে সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে আইসিসিকে চিঠি দেয় বিসিবি। বিষয়টি নিয়ে আইসিসির সঙ্গে একাধিকবার চিঠি চালাচালি ও বৈঠক হলেও নিজেদের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে পারেনি বাংলাদেশ।

সম্প্রতি আইসিসির বোর্ড সভায়ও বাংলাদেশের প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়। ১৫ সদস্যের বোর্ডে একমাত্র পাকিস্তানই বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দেয়। এমনকি বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আইসিসিকে আলাদা চিঠিও পাঠায় পিসিবি।

গত কয়েক দিনে বারবার আলোচনা উঠেছে—আইসিসি যদি বাংলাদেশের দাবি মেনে না নেয়, তাহলে পাকিস্তানও বিশ্বকাপ বর্জনের পথে হাঁটতে পারে। এই ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার রশিদ লতিফ ও মোহাম্মদ শেহজাদ। এমনকি পিসিবির সাবেক চেয়ারম্যান নাজাম শেঠিও প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, পাকিস্তান বিশ্বকাপ বর্জন করলে তিনি সেই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করবেন।

Friday, January 30, 2026

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অফিসিয়াল গান ‘Feel the Thrill’ উন্মোচন করল আইসিসি

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অফিসিয়াল গান ‘Feel the Thrill’ উন্মোচন করল আইসিসি


আসন্ন আইসিসি মেনস টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ সামনে রেখে উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। শুক্রবার টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল থিম সং হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে ‘Feel the Thrill’ শিরোনামের গানটি।



গানটি ইতোমধ্যে স্পটিফাই, অ্যাপল মিউজিক, অ্যামাজন মিউজিক, জিওসাভন, ইউটিউব মিউজিকসহ ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের মতো বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শোনা যাচ্ছে।

উদ্দীপনাময় এই গানটির সুর ও কণ্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় ভারতীয় সংগীত পরিচালক ও গায়ক অনিরুধ রবিচন্দর। বিশ্বকাপের উত্তেজনা ও আবেগকে সুরের মাধ্যমে তুলে ধরাই এই গানের মূল লক্ষ্য। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া টুর্নামেন্টের আগে এটি ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে আলাদা রোমাঞ্চ তৈরি করছে।

গানের কথায় ফুটে উঠেছে প্রতিদ্বন্দ্বিতার তীব্রতা। “যখন দেশগুলো মুখোমুখি হয়, তখন খেলা শুধু দেখা হয় না, তা অনুভব করা হয়”— এমন শক্তিশালী বার্তার মধ্য দিয়ে টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটের আগ্রাসী ও আবেগী রূপ তুলে ধরা হয়েছে।

আইসিসির আশা, ‘Feel the Thrill’ গানটি মেনস টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-কে ঘিরে বিশ্বজুড়ে দর্শকদের উন্মাদনা আরও বাড়িয়ে তুলবে।

বাংলাদেশের জন্য লজ্জা! বিপিএলে আবারও মাথাচাড়া দিল দীর্ঘদিনের পারিশ্রমিক সংকট

বাংলাদেশের জন্য লজ্জা! বিপিএলে আবারও মাথাচাড়া দিল দীর্ঘদিনের পারিশ্রমিক সংকট



বাংলাদেশ ক্রিকেটে যেন বিশৃঙ্খলা পিছু ছাড়ছেই না। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ থেকে হতাশাজনক বিদায়ের পর এবার আবারও বিতর্কে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। টুর্নামেন্ট শেষ হতেই নতুন করে সামনে এসেছে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক না পাওয়ার অভিযোগ।

বিপিএলের ১২তম আসর শেষ হওয়ার পর গভর্নিং কাউন্সিল সব ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছে বকেয়া পরিশোধের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে। ২৭ জানুয়ারি পাঠানো ওই চিঠিতে ১৫ দিনের মধ্যে সব পাওনা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

খেলোয়াড়দের ক্ষোভ, পুরনো সমস্যার পুনরাবৃত্তি

বিপিএলে পারিশ্রমিক জট নতুন কিছু নয়। আগের আসরগুলোতেও বারবার দেখা গেছে বিলম্ব বা পুরো টাকা না পাওয়ার ঘটনা। এমনকি অতীতে খেলোয়াড়রা পারিশ্রমিক না পেয়ে দল ছাড়তেও বাধ্য হয়েছেন।

এক পর্যায়ে আর্থিক সংকটে পড়ে মালিকানা ছেড়ে দেয় চট্টগ্রাম রয়্যালস। এবারের আসর শেষ হওয়ার পরও একই চিত্র। বেশ কয়েকটি দলের খেলোয়াড় এখনো পুরো পারিশ্রমিক পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

নোয়াখালী এক্সপ্রেসের এক খেলোয়াড় নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান, ফ্র্যাঞ্চাইজি তাদের মোট পারিশ্রমিকের মাত্র ২৫ শতাংশ পরিশোধ করেছে। বাকি ৭৫ শতাংশ এখনো বকেয়া। আরও গুরুতর বিষয় হলো, ২০ জানুয়ারি খেলোয়াড়দের দেওয়া চেক বাউন্স করেছে।

ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, “আপনি অন্য খেলোয়াড়দের কাছেও জিজ্ঞেস করতে পারেন। ২০ জানুয়ারি আমাদের সবার চেক বাউন্স করেছে।”

২০২৫–২৬ মৌসুমে বিপিএলে নতুন দল হিসেবে যাত্রা শুরু করে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। দলের একাধিক খেলোয়াড় একই অভিযোগ করেছেন, যদিও তারা এখনো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ওপর আস্থা রাখছেন।

ওই খেলোয়াড় আরও বলেন, “বিসিবি আমাদের কাছে পারিশ্রমিকের বিষয়ে খোঁজ নিয়েছে। আমরা আশা করছি খুব শিগগিরই বাকি টাকা পরিশোধ করা হবে।”

একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজিতে একই চিত্র

নোয়াখালীর পাশাপাশি ঢাকা ক্যাপিটালসের খেলোয়াড়রাও জানিয়েছেন, টুর্নামেন্ট চলাকালীন তারা মাত্র ২৫ শতাংশ পারিশ্রমিক পেয়েছেন। পরে অল্প কিছু টাকা যোগ হলেও পুরো বকেয়া এখনো মেটানো হয়নি। গত সপ্তাহে ঢাকা ক্যাপিটালস কর্তৃপক্ষ জানায়, চলতি সপ্তাহেই সব পাওনা পরিশোধ করা হবে।

অন্যদিকে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স খেলোয়াড় ও স্টাফদের সব পারিশ্রমিক পরিশোধ করেছে। রংপুর রাইডার্সও তাদের সব দেনা শোধ করেছে বলে জানিয়েছে।

তবে সিলেট টাইটান্সের এক খেলোয়াড় জানান, তিনি এখনো মাত্র ৫০ শতাংশ টাকা পেয়েছেন। আর মালিকানা বাতিল হওয়া চট্টগ্রাম রয়্যালসের খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক বিসিবি পরিশোধ করবে বলে জানা গেছে।

বিসিবির আশ্বাস

বিপিএল সদস্য সচিব ইফতিখার রহমান মিঠু স্বীকার করেছেন, কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি এখনও পারিশ্রমিক পরিশোধে পিছিয়ে আছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেন, প্রয়োজনে ব্যাংক গ্যারান্টি ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি ব্যবহার করে সব বকেয়া পরিশোধ করা হবে।

তিনি বলেন, “নোয়াখালীর মোট বকেয়া প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। তাদের কাছ থেকে আমাদের কাছে ২ কোটি টাকা ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি রয়েছে। ঢাকার ক্ষেত্রে ৫ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি আছে। চেক বাউন্স হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আমাদের হাতে খেলোয়াড়দের পরিশোধের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ রয়েছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “২৭ তারিখ আমরা চিঠি দিয়েছি। ১৫ দিনের মধ্যে সব ফ্র্যাঞ্চাইজিকে পরিশোধ সম্পন্ন করে খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও ম্যানেজমেন্টের তালিকা দিতে হবে। আমরা প্রত্যেকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তা যাচাই করব।”

বিপিএলের পুরনো ক্ষত

২০১২–১৩ মৌসুমে যাত্রা শুরুর পর থেকেই বিপিএলে পারিশ্রমিক সংকট নিয়মিত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথম আসরেই অনেক খেলোয়াড় পুরো বেতন পাননি। সেই মৌসুমে সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল জড়িত স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারির কারণে এক মৌসুমের জন্য টুর্নামেন্ট স্থগিতও হয়েছিল।

২০২৪–২৫ মৌসুমে দুর্বার রাজশাহী খেলোয়াড়রা বেতন, দৈনিক ভাতা ও হোটেল বিল না পাওয়ায় ম্যাচ বয়কট করেন, যা বড় বিতর্কের জন্ম দেয়।

সব বিতর্কের মধ্যেও সর্বশেষ আসর শেষ হয় এবং রাজশাহী ওয়ারিয়র্স শিরোপা জেতে। তবে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ থেকে বাংলাদেশের বিতর্কিত বিদায় এবং আইসিসি ও বিসিসিআইয়ের সঙ্গে টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে বিপিএলের এই পারিশ্রমিক কেলেঙ্কারি দেশের ক্রিকেটকে আবারও অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলেছে।

ভারতে বিশ্বকাপে অংশ নিতে অনিচ্ছুক ইংল্যান্ডের মূল কারণ

ভারতে বিশ্বকাপে অংশ নিতে অনিচ্ছুক ইংল্যান্ডের মূল কারণ



নিপা ভাইরাসের সম্প্রতি প্রাদুর্ভাবের কারণে ইংল্যান্ডের দল ভারতের মাঠে খেলতে আপত্তি জানিয়েছে। পাকিস্তানের জিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপের কয়েকটি দেশও একই কারণে ভারতে বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে সতর্ক।

জিএনএন-এর এক প্রোগ্রামে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ‘ভারতের শুরুতেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট কার্যকর ছিল না। ভাইরাসটি বেঙ্গলে ছড়িয়ে পড়েছে, যা বাংলাদেশের সীমান্তের কাছে। পরিস্থিতি এমন, পুরো টুর্নামেন্ট শ্রীলঙ্কায় সরানোও সহজ নয়।’

শ্রীলঙ্কায় সব ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব হলেও সীমিত ভেন্যু ও সময়ের কারণে এটি খুব কঠিন। বিশেষ করে কয়েকদিন আগে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার পর এই যুক্তিতে ভেন্যু পরিবর্তন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। জিএনএন-এর খবরে বলা হয়েছে, ‘ভারতে ভাইরাসের সংক্রমণ ক্রমেই ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য মাস্ক, গগলস ও পিপিই ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের নির্দেশনা অনুযায়ী।’

আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা জানাচ্ছে, নিপা ভাইরাসের মৃত্যু হার ৪০-৭৫ শতাংশের মধ্যে, যা করোনাভাইরাসের তুলনায় অনেক বেশি। এই কারণেই ইংল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশ তাদের দল ভারতে পাঠাতে অনিচ্ছুক।

টি-২০ বিশ্বকাপের ২০ দলের মধ্যে মাত্র ২০টি ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে, বাকি সব ভারতে। এতগুলো ম্যাচ সরানো বা ভেন্যু পরিবর্তন করা আইসিসির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে তাই এখন অত্যন্ত সতর্কভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কারণ সময় কম এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেক বেশি।

বিশ্বমিডিয়াও ভারতে ভাইরাসের ভয়াবহতা তুলে ধরছে, যা আরও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। খেলোয়াড় ও দর্শক উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Thursday, January 29, 2026

অস্ট্রেলিয়া হারিয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে লিড নিয়েছে পাকিস্তান

অস্ট্রেলিয়া হারিয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে লিড নিয়েছে পাকিস্তান



তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান অস্ট্রেলিয়াকে ২২ রানে হারিয়ে সিরিজে লিড নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্বাগতিক পাকিস্তান ১৬৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং শুরু করা অজিদের প্রতিরোধ ভেঙে দেয়। অস্ট্রেলিয়া ১৪৬ রানে থেমে যায় এবং প্রথম ম্যাচের জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান।

পাকিস্তান প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে শাহিবজাদা ফারহানকে হারায়। তবে সায়েম আইয়ুব ও সালমান আঘারের মধ্যকার ৭৪ রানের জুটি দলের জন্য শক্ত ভিত্তি তৈরি করে। সায়েম ৪০ রান করে ফেরেন, আর সালমান আঘার ৩৯ রান করে দলের পুঁজি শক্তিশালী করেন। দলের ক্যাপ্টেন বাবর আজম ২৪ রানে আউট হন। ধারাবাহিক উইকেট হারার পর পাকিস্তান নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৬৮ রানে ইনিংস শেষ করে। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন অ্যাডাম জাম্পা, যিনি ৪টি উইকেট নেন।

অজিদের জবাবে শুরুতে ম্যাথু শর্ট হারলেও ট্রাভিস হেড ও ক্যামেরুন গ্রিন জুটি গড়ে প্রতিরোধ চালান। তবে তাদের বিদায়ের পর অজিদের মিডল অর্ডার ভেঙে পড়ে। শেষ দিকে জেভিয়ার ৩৪ রানে অপরাজিত থাকলেও ম্যাচে ফেরাতে পারেননি। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইন ওপেনিং ও মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় বড় স্কোর তুলতে পারেনি।

ম্যাচ শেষে পাকিস্তানের জবাবে ব্যাটিং ও বোলিং উভয় বিভাগে ভালো পারফরম্যান্স ছিল উল্লেখযোগ্য। বোলাররা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নেন এবং ফিল্ডাররা গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ ও রান আউট করে অজিদের চাপের মধ্যে রেখেছে। বিশেষ করে অ্যাডাম জাম্পার বোলিংই অস্ট্রেলিয়ার ধীরগতির ইনিংসকে ভেঙে দেয়।

এই জয়ের মাধ্যমে পাকিস্তান সিরিজে ১-০ লিড নিল। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ হবে আগামী শনিবার একই মাঠে, বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টায়। দ্বিতীয় ম্যাচে অজিদরা নিজেদের খেলার ছন্দ ফেরাতে চেষ্টা করবে, আর পাকিস্তান প্রথম ম্যাচের জয়কে ধারাবাহিক করতে চাইবে। সিরিজের ফলাফল দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেট ভক্তদের জন্য কৌতূহল জাগাচ্ছে, বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া-পাকিস্তান দ্বৈরথ সবসময় উত্তেজনাপূর্ণ হয়।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ নিয়ে সতর্ক শ্রীলঙ্কা

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ নিয়ে সতর্ক শ্রীলঙ্কা



টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬কে সামনে রেখে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। বিশেষ করে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে। উপমহাদেশের বর্তমান উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে খেলোয়াড় ও দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ পাকিস্তান তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলবে। গ্রুপ ‘এ’-তে থাকা পাকিস্তান প্রথমে সিনহালিজ স্পোর্টস ক্লাবে নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হবে। এরপর ১৫ ফেব্রুয়ারি বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে লড়াইয়ে নামবে মেন ইন গ্রিন।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর আগে কড়া নিরাপত্তা নিচ্ছে শ্রীলঙ্কা

যদিও ভারত এই টুর্নামেন্টের অন্যতম আয়োজক দেশ, আইসিসির একটি চুক্তির আওতায় পাকিস্তান তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় খেলছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, কোনো দল চাইলে রাজনৈতিক বা নিরাপত্তাজনিত কারণে নিরপেক্ষ ভেন্যু বেছে নিতে পারে।

‘মাদার অব অল ব্যাটলস’ নামে পরিচিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ সবসময়ই বিশ্ব ক্রিকেটে আলাদা আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। ক্রিকেটের বাইরেও দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন এই লড়াইকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলে।

এই ম্যাচ ঘিরে বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহ থাকে তুঙ্গে। স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে ভারত ও পাকিস্তান থেকে বিপুল সংখ্যক দর্শকের উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সেই কারণেই খেলোয়াড় ও সমর্থকদের জন্য নির্বিঘ্ন অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলঙ্কা।

ডেইলি সান-এর বরাতে পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অংশগ্রহণকারী সব দলের নিরাপত্তায় রাষ্ট্রপ্রধানদের পাহারায় নিয়োজিত এলিট কমান্ডো ইউনিট মোতায়েন করা হবে।

তারা আরও জানান, বিমানবন্দর থেকে শুরু করে খেলোয়াড়দের ফেরত যাওয়া পর্যন্ত পুরো সময়জুড়েই সশস্ত্র নিরাপত্তা বলয়ে রাখা হবে দলগুলোকে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ শ্রীলঙ্কা কোন কোন ম্যাচ আয়োজন করবে?

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ শ্রীলঙ্কা মোট ২০টি ম্যাচ আয়োজন করবে। এই ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে দুটি শহরের তিনটি ভেন্যুতে—কলম্বো ও পাল্লেকেলে।

কলম্বোর ঐতিহাসিক আর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বেশ কয়েকটি হাই-প্রোফাইল ম্যাচ, যার মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ভারত-পাকিস্তান লড়াইটি রয়েছে। অন্যদিকে, সিনহালিজ স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত হবে পাকিস্তান-নেদারল্যান্ডস, জিম্বাবুয়ে-ওমান, পাকিস্তান-যুক্তরাষ্ট্র, আয়ারল্যান্ড-ওমান এবং পাকিস্তান-নামিবিয়া ম্যাচগুলো।

এছাড়া পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে শ্রীলঙ্কা-ওমান, অস্ট্রেলিয়া-শ্রীলঙ্কা, আয়ারল্যান্ড-জিম্বাবুয়ে এবং অস্ট্রেলিয়া-ওমানের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো। এই ভেন্যুতেই তিনটি সুপার এইট ম্যাচও অনুষ্ঠিত হবে।

পাকিস্তানের অংশগ্রহণ এখনো অনিশ্চিত

শ্রীলঙ্কা যখন বিশ্বকাপ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখনো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। পিসিবির দাবি, বাংলাদেশকে বিতর্কিতভাবে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে বাংলাদেশকে সমর্থন জানাতে পাকিস্তান সরকার এই অবস্থান নিয়েছে।

বর্তমানে পাকিস্তান অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলছে। সিরিজ শেষে খুব শিগগিরই বিশ্বকাপ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচ বয়কট নিয়ে কঠোর অবস্থানে পাকিস্তান; শাস্তি এড়াতে বিশেষ পরিকল্পনা পিসিবির

ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচ বয়কট নিয়ে কঠোর অবস্থানে পাকিস্তান; শাস্তি এড়াতে বিশেষ পরিকল্পনা পিসিবির



টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে সাম্প্রতিক নাটকীয় ঘটনার পর এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ার পর এখন সালমান আলি আগার নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান দল এই মেগা ইভেন্টে অংশ নেবে কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এর আগে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ দেখিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আইসিসির কাছে আবেদন করেছিল, যেন তাদের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। একাধিক দফা আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত জয় শাহর নেতৃত্বাধীন আইসিসি কাউন্সিল বাংলাদেশকে পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

বাংলাদেশের বিদায় পিসিবিকে নতুন করে চাপে ফেলে। কারণ, এর আগে পিসিবি প্রকাশ্যে বিসিবির পাশে থাকার কথা জানিয়েছিল এবং প্রয়োজনে বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকিও দিয়েছিল। তবে আইসিসি যে বাংলাদেশকে সরাসরি বাদ দিতে পারে, সেটি অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত ছিল।

এ অবস্থায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) ভূমিকা নিয়েই এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে চলছে জল্পনা। গত কয়েক দিনে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মোহসিন নকভির নেতৃত্বাধীন বোর্ড একাধিক বিকল্প নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে।

১ ফেব্রুয়ারিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পিসিবির

গত সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, পিসিবি চেয়ারম্যান মোহসিন নকভি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে দুটি সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা হয়—একটি হলো পুরো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করা, অন্যটি শুধুমাত্র ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি বর্জন করা।

উল্লেখ্য, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার গ্রুপ ম্যাচটি আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বৈঠক শেষে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না এলেও মোহসিন নকভি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, সব বিকল্প এখনো বিবেচনায় রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, “প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আইসিসি সংক্রান্ত সব বিষয় তাকে অবহিত করেছি। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, সব বিকল্প খোলা রেখে সমাধানে পৌঁছাতে। আগামী শুক্রবার অথবা সোমবারের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের দিকেই ঝুঁকছে পাকিস্তান

নকভির বক্তব্যের পর প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছিল, আইসিসির সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার ভয়ে পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে অংশ নেবে। তবে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ভিন্ন তথ্য।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিসিবি এখন গুরুত্ব সহকারে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের বিষয়টি বিবেচনা করছে এবং শাস্তি এড়াতে একটি কৌশলও তৈরি করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পিসিবি এই সিদ্ধান্তটিকে পুরোপুরি সরকারের ওপর ছেড়ে দিতে পারে এবং নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে এটিকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ হিসেবে উপস্থাপন করবে। এমন হলে আইসিসির পক্ষে পিসিবির বিরুদ্ধে সরাসরি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হবে।

ডনের একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে এনডিটিভি জানায়, “পুরো টুর্নামেন্ট বয়কট করা পিসিবির প্রধান লক্ষ্য নয়। তবে ১৫ ফেব্রুয়ারির ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি পরিত্যাগ করার মতো যথেষ্ট যুক্তি তাদের হাতে রয়েছে, যা আইসিসির কোনো আর্থিক জরিমানা বা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়ক হতে পারে।”

আরও বলা হয়, “পাকিস্তান যদি জানায় যে তারা সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী ভারতের বিপক্ষে খেলছে না, সেক্ষেত্রে আইসিসি পিসিবির ওপর আর্থিক বা প্রশাসনিক শাস্তি দিতে পারবে না।”

পাকিস্তান সরে দাঁড়ালে কী শাস্তি দিতে পারে আইসিসি?

উল্লেখযোগ্যভাবে, যখন পাকিস্তানের বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছিল, তখন আইসিসির পক্ষ থেকেও কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পিসিবি যদি পুরো টুর্নামেন্ট বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে হবে।

এক্সপ্রেস স্পোর্টসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান বিশ্বকাপ না খেললে আইসিসি তাদের সব ধরনের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ স্থগিত করতে পারে। পাশাপাশি পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) বিদেশি ক্রিকেটারদের জন্য দেওয়া এনওসি বাতিল করা হতে পারে। এমনকি এশিয়া কাপ থেকেও ‘মেন ইন গ্রিন’-কে নিষিদ্ধ করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

সব মিলিয়ে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে। এখন ক্রিকেট বিশ্ব তাকিয়ে আছে পিসিবির চূড়ান্ত ঘোষণার দিকে, যা আসতে পারে ১ ফেব্রুয়ারি।

পাক-অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজের ফটোশুটে তুক-তুকে “রিজওয়ান”! ভাইরাল হলো মিম

পাক-অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজের ফটোশুটে তুক-তুকে “রিজওয়ান”! ভাইরাল হলো মিম



পাকিস্তান ক্রিকেট দল জানুয়ারি ২৯ থেকে ফেব্রুয়ারি ১ পর্যন্ত তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নামছে। সিরিজের আগের প্রস্তুতি হিসেবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) দুই দলের অধিনায়ক এবং সিরিজ ট্রফি নিয়ে একটি বিশেষ ফটোশুটের আয়োজন করে, যা সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।

ফটোশুটের এক মুহূর্তে দেখা যায় পাকিস্তানের অধিনায়ক আঘা সালমান এবং অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক মিচেল মার্শ একটি তুক-তুকে চড়ে, হাতে নিজেদের দেশের পতাকা ধরে ছবি তুলছেন। ছবিটি স্বাভাবিকভাবেই হাস্যকর এবং আনন্দদায়ক মুহূর্ত হিসেবে ধরা হয়, কিন্তু হঠাৎই এই দৃশ্যটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।

অনেক ফ্যানদের নজর কাড়ে যে তুক-তুকের ড্রাইভারটি দেখতে মোহাম্মদ রিজওয়ানের সঙ্গে অবাক করা মিল আছে। মোহাম্মদ রিজওয়ান, যিনি সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দলে বাদ পড়েছিলেন, সেই দৃশ্যটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মজা শুরু হয়। ফ্যানরা একে নিয়ে নানা রকম মিম, হাস্যকর মন্তব্য ও জোকস শেয়ার করতে থাকে। কেউ লিখছে “রিজওয়ান অবশেষে পাকিস্তান দলে ফিরে এলেন!”, আবার কেউ বলছে “নতুন ভূমিকায় রিজওয়ান: তুক-তুক ড্রাইভার!”

পিসিবি বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ফটোশুটের ছবি এবং ভিডিও শেয়ার করে, যা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। ফ্যানরা ছবিতে দুই অধিনায়ককে এবং তুক-তুক ড্রাইভারকে নিয়ে নানা রকম ক্রিয়েটিভ মিম বানাতে শুরু করে। অনেকে মন্তব্য করছেন যে, ক্রিকেটারদের মাঝে এমন হালকা-ফুলকা মুহূর্ত যেন খেলাধুলার চাপ কমিয়ে দেয় এবং সিরিজ শুরু হওয়ার আগে ফ্যানদের মধ্যে উচ্ছ্বাস বাড়ায়।



এদিকে, সিরিজটি পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে গেলে পাকিস্তানকে শক্তিশালী দল সাজাতে হবে। তবে ফ্যানদের এই মজার মিম এবং মন্তব্য দেখলে বোঝা যায় যে, ক্রিকেট শুধু খেলা নয়, একই সঙ্গে ফ্যানদের জন্য আনন্দ এবং বিনোদনের উৎসও।

ফটোশুট এবং মিম ভাইরালের এই ঘটনা প্রমাণ করছে যে, ক্রিকেট কেবল মাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সোশ্যাল মিডিয়াতেও এটি ফ্যানদের মাঝে আলোচনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

বয়কটের গুঞ্জনের মাঝে কলম্বোর টিকিট নিশ্চিত করলো পাকিস্তান

বয়কটের গুঞ্জনের মাঝে কলম্বোর টিকিট নিশ্চিত করলো পাকিস্তান



বিশ্বকাপ বয়কটের গুঞ্জনের মধ্যেই পাকিস্তান দল পেল কলম্বোর টিকিট

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে বিতর্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পাকিস্তান ক্রিকেট দল তাদের প্রস্তুতি শুরু করেছে। স্কোয়াড ঘোষণা হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) লাহোর থেকে কলম্বো যাওয়ার ফ্লাইট বুকিং সম্পন্ন করেছে। দলটি আগামী সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর উদ্দেশে রওনা দেবে।

টেলিকম এশিয়া স্পোর্টসের বরাতে জানা গেছে, নিরাপত্তা এবং অংশগ্রহণ নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার মাঝেও পাকিস্তান দল অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে এয়ার লঙ্কার একটি ফ্লাইটে যাত্রার ব্যবস্থা করেছে। সূত্রটি আরও জানিয়েছে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান মহসিন নাকভি আগামী শুক্রবারের মধ্যে বিশ্বকাপে দলের অংশগ্রহণ চূড়ান্ত করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক চলছিল। নাকভি নিজেও এই নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছিলেন।

বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে পাকিস্তান বোর্ড দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে এবং তাদের দল অংশগ্রহণের পক্ষে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের অনুরোধ করেছিল, যা আইসিসি প্রত্যাখ্যান করেছে। যদিও স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়নের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে, বিসিবি ভারতীয় মাটিতে খেলতে অনড় থাকায় আইসিসি বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান দল এখন নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী কলম্বোর উদ্দেশে রওনা দিবে এবং দলের প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামার দিকে মনোনিবেশ করবে।

Wednesday, January 28, 2026

বিশ্বের সবচেয়ে তলানিতে বিপিএল! ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের লজ্জাজনক চিত্র

বিশ্বের সবচেয়ে তলানিতে বিপিএল! ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের লজ্জাজনক চিত্র

 



সদ্য সমাপ্ত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) নিয়ে সমালোচনার রেশ যেন কাটছেই না। প্রতি আসরেই নতুন নতুন বিতর্কে জড়িয়ে দেশের একমাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগটি। সেই বিতর্ক এবার ঘরোয়া পরিসর ছাড়িয়ে জায়গা করে নিয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও।

ব্রিটিশ ক্রিকেটবিষয়ক প্রভাবশালী ম্যাগাজিন ‘দ্য ক্রিকেটার’ প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনায় বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগের র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগকে বিশ্বের সবচেয়ে তলানির ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এই র‍্যাঙ্কিং নির্ধারণে চারটি মানদণ্ড বিবেচনায় নেয়া হয়েছে—বিনোদনমূল্য, ক্রিকেটের মান, লিগের স্থায়িত্ব বা গ্রহণযোগ্যতা এবং সামগ্রিক মূল্যায়ন। বিশ্বের মোট দশটি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ নিয়ে করা এই বিশ্লেষণে বিপিএল তিনটি ক্যাটাগরিতেই পেয়েছে সর্বনিম্ন রেটিং, অর্থাৎ দশম স্থান। কেবল স্থায়িত্ব বা গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে বিপিএল এক ধাপ এগিয়ে নবম স্থানে রয়েছে; এই ক্যাটাগরিতে দশম স্থানে আছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএল টি২০।

সামগ্রিক বিচারে ভারতের আইপিএল, অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ, দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ টি-টোয়েন্টি, ইংল্যান্ডের দ্য হানড্রেড—সবকটিই বিপিএলের চেয়ে অনেক এগিয়ে। এমনকি শ্রীলঙ্কার লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগ (এলপিএল) ও যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেটও র‍্যাঙ্কিংয়ে বিপিএলের ওপরে অবস্থান করছে।



প্রত্যাশিতভাবেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ ভারতের আইপিএল রয়েছে শীর্ষে। এরপরই অবস্থান দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ টি-টোয়েন্টির। ক্রিকেটের মান ও গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে আইপিএল সবার ওপরে থাকলেও বিনোদনমূল্যের দিক থেকে শীর্ষে রাখা হয়েছে এসএ টি-টোয়েন্টিকে।

র‍্যাঙ্কিংয়ের ব্যাখ্যায় ‘দ্য ক্রিকেটার’ উল্লেখ করেছে, আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের কারণেই কম রেটিং পেয়েছে লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগ ও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ। ম্যাগাজিনটির ভাষায়, “তালিকার একেবারে নিচে থাকা দুটি টুর্নামেন্ট—এলপিএল ও বিপিএল—দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে জর্জরিত।”

তবে সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছে তারা। বিশাল দর্শকসংখ্যা ও বাজার থাকা সত্ত্বেও এই দুই লিগ একই ধরনের কাঠামোগত সমস্যায় ভুগছে—ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকানায় ঘন ঘন পরিবর্তন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব, খেলোয়াড়দের উচ্চমাত্রার দলবদল এবং বৈশ্বিক ক্রিকেট ক্যালেন্ডারে অস্থিতিশীল সময়সূচি।

সব মিলিয়ে সামগ্রিক র‍্যাঙ্কিংয়ে লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগ নবম স্থানে থাকলেও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ জায়গা পেয়েছে তালিকার একেবারে শেষ প্রান্তে—দশম স্থানে।

Tuesday, January 27, 2026

সব বাংলাদেশি সাংবাদিকের মিডিয়া অ্যাক্রিডিটেশন স্থগিত করলো আইসিসি

সব বাংলাদেশি সাংবাদিকের মিডিয়া অ্যাক্রিডিটেশন স্থগিত করলো আইসিসি

 


ভারতে গিয়ে খেলতে অনিচ্ছা প্রকাশের জেরে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাতিলের পর এবার আরও কঠোর অবস্থানে গেল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। টুর্নামেন্ট কাভার করার উদ্দেশ্যে আবেদন করা বাংলাদেশের সব সাংবাদিকের মিডিয়া অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল করেছে সংস্থাটি। এর ফলে এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কোনো সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধির উপস্থিতি থাকছে না।

আইসিসির নির্ধারিত নিয়ম মেনে যেসব বাংলাদেশি সাংবাদিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কাভারের জন্য আবেদন করেছিলেন, তাদের সবাইকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে আবেদনগুলো গ্রহণযোগ্য হয়নি। এর আগেই নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অজুহাতে ভারত সফরে অনীহা দেখানোর কারণে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপের মূল পর্ব থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় আইসিসি।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ১৯৯৯ সাল থেকে শুরু করে প্রতিটি ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সক্রিয় ও পেশাদার উপস্থিতি ছিল। এমনকি ১৯৯৯ সালের আগেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বড় মঞ্চে বাংলাদেশের সাংবাদিকরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করেছেন।

আইসিসির এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে দেশের ক্রীড়া সাংবাদিক মহলে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদ দেখা দিয়েছে। অনেকেই এটিকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে দেখছেন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষকে সংহতি প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে।