বিশ্বকাপের এবারের আসরে দ্রুততম গোলের রেকর্ড যেন ঘণ্টায় ঘণ্টায় হাতবদল হচ্ছে। মাত্র ৫ ঘণ্টার ব্যবধানে রেকর্ড বদলে এবার নতুন ইতিহাস গড়েছে Paraguay। তুরস্কের বিপক্ষে বাঁচা-মরার ম্যাচে মাত্র ৬৪ সেকেন্ডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন Matías Galarza। তার এই গোলেই বিশ্বকাপ ২০২৬-এর বর্তমান আসরের দ্রুততম গোলের রেকর্ড এখন প্যারাগুয়ের দখলে।
দিনের শুরুতেই এই রেকর্ড গড়েছিল Morocco। ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে Scotland-এর বিপক্ষে মাত্র ৭০ সেকেন্ডে গোল করেছিলেন Ismael Saibari। সেই গোলটিই তখন পর্যন্ত এবারের বিশ্বকাপের দ্রুততম গোল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। কিন্তু ফুটবলের নাটকীয়তা এখানেই—মাত্র ৫ ঘণ্টার মাথায় সেই রেকর্ড ভেঙে দিল প্যারাগুয়ে।
তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই ছিল চাপে। ম্যাচটি ছিল কার্যত বাঁচা-মরার লড়াই। পরের রাউন্ডে যেতে হলে জয়ের বিকল্প ছিল না Turkey-এর সামনে। ম্যাচের শুরুতে বলের দখল ছিল তুরস্কের পায়েই। তবে সেই নিয়ন্ত্রণ খুব বেশি সময় স্থায়ী হয়নি।
ম্যাচের মাত্র ৬৪ সেকেন্ডে ঘটে যায় বড় ভুল। তুরস্কের ডিফেন্সে সমন্বয়হীনতার সুযোগ নেয় প্যারাগুয়ে। ডিফেন্ডারের একটি ভুল পাস থেকে বল পেয়ে যান ম্যাথিয়াস গালারজা। ডি-বক্সের ঠিক বাইরে থেকে বাম পায়ের শক্তিশালী শটে তিনি বল জড়িয়ে দেন জালে। তুরস্কের গোলরক্ষক বাম দিকে ঝাঁপিয়ে পড়েও বল থামাতে পারেননি।
ঘটনাটা এত দ্রুত ঘটে যে তুরস্কের খেলোয়াড়রা যেন কিছু বুঝে ওঠার আগেই স্কোরলাইন ১-০ হয়ে যায়। লাতিন আমেরিকার দলটি শুরুতেই এগিয়ে গিয়ে ম্যাচে মানসিক সুবিধা পেয়ে যায়। অন্যদিকে, হঠাৎ পিছিয়ে পড়ে চাপে পড়ে যায় তুরস্ক।
গালারজার এই গোল শুধু ম্যাচের গতিপথই বদলায়নি, বদলে দিয়েছে এবারের বিশ্বকাপের রেকর্ড বইও। মাত্র ৬৪ সেকেন্ডে গোল করে তিনি নিজের নাম লিখিয়েছেন টুর্নামেন্টের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্তে। বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন দ্রুত গোল সবসময়ই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ এটি প্রতিপক্ষের কৌশল ও আত্মবিশ্বাসে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে।
তবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্রুততম গোলের রেকর্ড এখনও অনেক দূরের। সেই রেকর্ডের মালিক Hakan Şükür। ২০০২ বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে মাত্র ১১ সেকেন্ডে গোল করেছিলেন তিনি। আজও সেটিই বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্রুততম গোল হিসেবে অটুট আছে।
তবুও এবারের বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ের এই রেকর্ড বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে, কারণ মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুইবার দ্রুততম গোলের রেকর্ড বদলেছে। প্রথমে মরক্কো, এরপর প্যারাগুয়ে—একই দিনে দুই দলের নাম উঠল রেকর্ডের পাতায়।
এখন দেখার বিষয়, টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতে এই রেকর্ড আবার বদলায় কিনা। ফুটবলের সৌন্দর্য এখানেই—এক মুহূর্তেই বদলে যেতে পারে সবকিছু। আর সেই অনিশ্চয়তাই বিশ্বকাপকে করে তোলে আরও রোমাঞ্চকর।




0 coment rios: