Showing posts with label sports. Show all posts
Showing posts with label sports. Show all posts

Saturday, January 31, 2026

নিরাপত্তা শঙ্কায় বিসিবি, ক্রীড়া সাংবাদিকদের স্টেডিয়ামে প্রবেশে নতুন বিধিনিষেধ

নিরাপত্তা শঙ্কায় বিসিবি, ক্রীড়া সাংবাদিকদের স্টেডিয়ামে প্রবেশে নতুন বিধিনিষেধ

 


বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিক্সিং তদন্তের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। দাবি করা হয়, তার বিরুদ্ধে তদন্ত করছেন বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল। তবে এই খবরকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে নিশ্চিত করেছেন মার্শাল নিজেই।

বিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সভাপতিকে নিয়ে এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি)ও করেছে বিসিবি।

এই ঘটনার একদিন পরই মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ক্রীড়া সাংবাদিকদের প্রবেশ নিয়ে নতুন ও কড়াকড়ি বিধিনিষেধ জারি করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। বিসিবির প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বোর্ডের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ ছাড়া ক্রীড়া সাংবাদিকরা স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে পারবেন না।

স্টেডিয়াম ও এর আশপাশের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানায় বিসিবি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গণমাধ্যমে কর্মরত ব্যক্তিরা শুধুমাত্র স্টেডিয়ামের এক নম্বর গেট ব্যবহার করে ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন।

এ ছাড়া কোন কোন পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের মাঠে প্রবেশের সুযোগ থাকবে, সেটিও স্পষ্ট করেছে বিসিবি। মিরপুর স্টেডিয়ামে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হলে ক্রীড়া সাংবাদিকরা মাঠে ঢোকার অনুমতি পাবেন। একইভাবে, কোনো আনুষ্ঠানিক প্রেস কনফারেন্স থাকলেও স্টেডিয়ামে প্রবেশ করা যাবে।

বিসিবি যদি কোনো ইভেন্টের জন্য নির্দিষ্টভাবে আমন্ত্রণ জানায়, সেক্ষেত্রে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা থাকবে না। অনুশীলন কাভারের ক্ষেত্রেও বিসিবির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে মাঠে যাওয়ার অনুমতি মিলবে।

তবে নিয়মের বাইরে চাইলেই প্রতিদিন স্টেডিয়ামে প্রবেশ করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে। এই নির্দেশনা শুধু সাংবাদিকদের জন্য নয়, স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে প্রবেশকারী সকলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। বিসিবি জানিয়েছে, আগামী ৩১ জানুয়ারি থেকে নতুন এই বিধিনিষেধ কার্যকর হবে।


বিশ্বকাপের জার্সি উন্মোচন স্থগিত করল পাকিস্তান

বিশ্বকাপের জার্সি উন্মোচন স্থগিত করল পাকিস্তান



টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইস্যুতে ভারত ও আইসিসির সঙ্গে টানাপোড়েনের পুরো সময়জুড়েই বাংলাদেশের পাশে থেকেছে পাকিস্তান। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি শুরু থেকেই স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে খেলতে না দেওয়া হলে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়েও সরকারিভাবে আলোচনা করা হবে। এ বিষয়ে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

পিসিবি সূত্রে জানা গেছে, সোমবারের মধ্যেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে। এরই মধ্যে বিশ্বকাপ বর্জনের গুঞ্জনের মধ্যেই ১৫ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন পিসিবির প্রধান নির্বাচক আকিব জাভেদ। একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপে অংশ নিতে কলম্বোর উদ্দেশে পাকিস্তান দলের টিকিটও কাটা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচের পর পাকিস্তানের বিশ্বকাপ জার্সি উন্মোচনের পরিকল্পনা ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে সেই অনুষ্ঠান স্থগিত করেছে পিসিবি। কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে পিসিবির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এর আগে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা জানিয়ে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। একই সঙ্গে লিটন দাস ও মুস্তাফিজুর রহমানদের ম্যাচগুলো ভারত থেকে অন্য ভেন্যুতে সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে আইসিসিকে চিঠি দেয় বিসিবি। বিষয়টি নিয়ে আইসিসির সঙ্গে একাধিকবার চিঠি চালাচালি ও বৈঠক হলেও নিজেদের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে পারেনি বাংলাদেশ।

সম্প্রতি আইসিসির বোর্ড সভায়ও বাংলাদেশের প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়। ১৫ সদস্যের বোর্ডে একমাত্র পাকিস্তানই বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দেয়। এমনকি বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আইসিসিকে আলাদা চিঠিও পাঠায় পিসিবি।

গত কয়েক দিনে বারবার আলোচনা উঠেছে—আইসিসি যদি বাংলাদেশের দাবি মেনে না নেয়, তাহলে পাকিস্তানও বিশ্বকাপ বর্জনের পথে হাঁটতে পারে। এই ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার রশিদ লতিফ ও মোহাম্মদ শেহজাদ। এমনকি পিসিবির সাবেক চেয়ারম্যান নাজাম শেঠিও প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, পাকিস্তান বিশ্বকাপ বর্জন করলে তিনি সেই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করবেন।

Friday, January 30, 2026

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অফিসিয়াল গান ‘Feel the Thrill’ উন্মোচন করল আইসিসি

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অফিসিয়াল গান ‘Feel the Thrill’ উন্মোচন করল আইসিসি


আসন্ন আইসিসি মেনস টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ সামনে রেখে উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। শুক্রবার টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল থিম সং হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে ‘Feel the Thrill’ শিরোনামের গানটি।



গানটি ইতোমধ্যে স্পটিফাই, অ্যাপল মিউজিক, অ্যামাজন মিউজিক, জিওসাভন, ইউটিউব মিউজিকসহ ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের মতো বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শোনা যাচ্ছে।

উদ্দীপনাময় এই গানটির সুর ও কণ্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় ভারতীয় সংগীত পরিচালক ও গায়ক অনিরুধ রবিচন্দর। বিশ্বকাপের উত্তেজনা ও আবেগকে সুরের মাধ্যমে তুলে ধরাই এই গানের মূল লক্ষ্য। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া টুর্নামেন্টের আগে এটি ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে আলাদা রোমাঞ্চ তৈরি করছে।

গানের কথায় ফুটে উঠেছে প্রতিদ্বন্দ্বিতার তীব্রতা। “যখন দেশগুলো মুখোমুখি হয়, তখন খেলা শুধু দেখা হয় না, তা অনুভব করা হয়”— এমন শক্তিশালী বার্তার মধ্য দিয়ে টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটের আগ্রাসী ও আবেগী রূপ তুলে ধরা হয়েছে।

আইসিসির আশা, ‘Feel the Thrill’ গানটি মেনস টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-কে ঘিরে বিশ্বজুড়ে দর্শকদের উন্মাদনা আরও বাড়িয়ে তুলবে।

Thursday, January 29, 2026

বাংলাদেশের জন্য লজ্জা! বিপিএলে আবারও মাথাচাড়া দিল দীর্ঘদিনের পারিশ্রমিক সংকট

বাংলাদেশের জন্য লজ্জা! বিপিএলে আবারও মাথাচাড়া দিল দীর্ঘদিনের পারিশ্রমিক সংকট



বাংলাদেশ ক্রিকেটে যেন বিশৃঙ্খলা পিছু ছাড়ছেই না। টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ থেকে হতাশাজনক বিদায়ের পর এবার আবারও বিতর্কে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। টুর্নামেন্ট শেষ হতেই নতুন করে সামনে এসেছে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক না পাওয়ার অভিযোগ।

বিপিএলের ১২তম আসর শেষ হওয়ার পর গভর্নিং কাউন্সিল সব ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছে বকেয়া পরিশোধের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে। ২৭ জানুয়ারি পাঠানো ওই চিঠিতে ১৫ দিনের মধ্যে সব পাওনা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

খেলোয়াড়দের ক্ষোভ, পুরনো সমস্যার পুনরাবৃত্তি

বিপিএলে পারিশ্রমিক জট নতুন কিছু নয়। আগের আসরগুলোতেও বারবার দেখা গেছে বিলম্ব বা পুরো টাকা না পাওয়ার ঘটনা। এমনকি অতীতে খেলোয়াড়রা পারিশ্রমিক না পেয়ে দল ছাড়তেও বাধ্য হয়েছেন।

এক পর্যায়ে আর্থিক সংকটে পড়ে মালিকানা ছেড়ে দেয় চট্টগ্রাম রয়্যালস। এবারের আসর শেষ হওয়ার পরও একই চিত্র। বেশ কয়েকটি দলের খেলোয়াড় এখনো পুরো পারিশ্রমিক পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

নোয়াখালী এক্সপ্রেসের এক খেলোয়াড় নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান, ফ্র্যাঞ্চাইজি তাদের মোট পারিশ্রমিকের মাত্র ২৫ শতাংশ পরিশোধ করেছে। বাকি ৭৫ শতাংশ এখনো বকেয়া। আরও গুরুতর বিষয় হলো, ২০ জানুয়ারি খেলোয়াড়দের দেওয়া চেক বাউন্স করেছে।

ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, “আপনি অন্য খেলোয়াড়দের কাছেও জিজ্ঞেস করতে পারেন। ২০ জানুয়ারি আমাদের সবার চেক বাউন্স করেছে।”

২০২৫–২৬ মৌসুমে বিপিএলে নতুন দল হিসেবে যাত্রা শুরু করে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। দলের একাধিক খেলোয়াড় একই অভিযোগ করেছেন, যদিও তারা এখনো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ওপর আস্থা রাখছেন।

ওই খেলোয়াড় আরও বলেন, “বিসিবি আমাদের কাছে পারিশ্রমিকের বিষয়ে খোঁজ নিয়েছে। আমরা আশা করছি খুব শিগগিরই বাকি টাকা পরিশোধ করা হবে।”

একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজিতে একই চিত্র

নোয়াখালীর পাশাপাশি ঢাকা ক্যাপিটালসের খেলোয়াড়রাও জানিয়েছেন, টুর্নামেন্ট চলাকালীন তারা মাত্র ২৫ শতাংশ পারিশ্রমিক পেয়েছেন। পরে অল্প কিছু টাকা যোগ হলেও পুরো বকেয়া এখনো মেটানো হয়নি। গত সপ্তাহে ঢাকা ক্যাপিটালস কর্তৃপক্ষ জানায়, চলতি সপ্তাহেই সব পাওনা পরিশোধ করা হবে।

অন্যদিকে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স খেলোয়াড় ও স্টাফদের সব পারিশ্রমিক পরিশোধ করেছে। রংপুর রাইডার্সও তাদের সব দেনা শোধ করেছে বলে জানিয়েছে।

তবে সিলেট টাইটান্সের এক খেলোয়াড় জানান, তিনি এখনো মাত্র ৫০ শতাংশ টাকা পেয়েছেন। আর মালিকানা বাতিল হওয়া চট্টগ্রাম রয়্যালসের খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক বিসিবি পরিশোধ করবে বলে জানা গেছে।

বিসিবির আশ্বাস

বিপিএল সদস্য সচিব ইফতিখার রহমান মিঠু স্বীকার করেছেন, কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি এখনও পারিশ্রমিক পরিশোধে পিছিয়ে আছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেন, প্রয়োজনে ব্যাংক গ্যারান্টি ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি ব্যবহার করে সব বকেয়া পরিশোধ করা হবে।

তিনি বলেন, “নোয়াখালীর মোট বকেয়া প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। তাদের কাছ থেকে আমাদের কাছে ২ কোটি টাকা ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি রয়েছে। ঢাকার ক্ষেত্রে ৫ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি আছে। চেক বাউন্স হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আমাদের হাতে খেলোয়াড়দের পরিশোধের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ রয়েছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “২৭ তারিখ আমরা চিঠি দিয়েছি। ১৫ দিনের মধ্যে সব ফ্র্যাঞ্চাইজিকে পরিশোধ সম্পন্ন করে খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও ম্যানেজমেন্টের তালিকা দিতে হবে। আমরা প্রত্যেকের সঙ্গে যোগাযোগ করে তা যাচাই করব।”

বিপিএলের পুরনো ক্ষত

২০১২–১৩ মৌসুমে যাত্রা শুরুর পর থেকেই বিপিএলে পারিশ্রমিক সংকট নিয়মিত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথম আসরেই অনেক খেলোয়াড় পুরো বেতন পাননি। সেই মৌসুমে সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল জড়িত স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারির কারণে এক মৌসুমের জন্য টুর্নামেন্ট স্থগিতও হয়েছিল।

২০২৪–২৫ মৌসুমে দুর্বার রাজশাহী খেলোয়াড়রা বেতন, দৈনিক ভাতা ও হোটেল বিল না পাওয়ায় ম্যাচ বয়কট করেন, যা বড় বিতর্কের জন্ম দেয়।

সব বিতর্কের মধ্যেও সর্বশেষ আসর শেষ হয় এবং রাজশাহী ওয়ারিয়র্স শিরোপা জেতে। তবে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ থেকে বাংলাদেশের বিতর্কিত বিদায় এবং আইসিসি ও বিসিসিআইয়ের সঙ্গে টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে বিপিএলের এই পারিশ্রমিক কেলেঙ্কারি দেশের ক্রিকেটকে আবারও অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলেছে।

ভারতে বিশ্বকাপে অংশ নিতে অনিচ্ছুক ইংল্যান্ডের মূল কারণ

ভারতে বিশ্বকাপে অংশ নিতে অনিচ্ছুক ইংল্যান্ডের মূল কারণ



নিপা ভাইরাসের সম্প্রতি প্রাদুর্ভাবের কারণে ইংল্যান্ডের দল ভারতের মাঠে খেলতে আপত্তি জানিয়েছে। পাকিস্তানের জিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপের কয়েকটি দেশও একই কারণে ভারতে বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে সতর্ক।

জিএনএন-এর এক প্রোগ্রামে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ‘ভারতের শুরুতেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট কার্যকর ছিল না। ভাইরাসটি বেঙ্গলে ছড়িয়ে পড়েছে, যা বাংলাদেশের সীমান্তের কাছে। পরিস্থিতি এমন, পুরো টুর্নামেন্ট শ্রীলঙ্কায় সরানোও সহজ নয়।’

শ্রীলঙ্কায় সব ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব হলেও সীমিত ভেন্যু ও সময়ের কারণে এটি খুব কঠিন। বিশেষ করে কয়েকদিন আগে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার পর এই যুক্তিতে ভেন্যু পরিবর্তন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। জিএনএন-এর খবরে বলা হয়েছে, ‘ভারতে ভাইরাসের সংক্রমণ ক্রমেই ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য মাস্ক, গগলস ও পিপিই ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের নির্দেশনা অনুযায়ী।’

আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা জানাচ্ছে, নিপা ভাইরাসের মৃত্যু হার ৪০-৭৫ শতাংশের মধ্যে, যা করোনাভাইরাসের তুলনায় অনেক বেশি। এই কারণেই ইংল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশ তাদের দল ভারতে পাঠাতে অনিচ্ছুক।

টি-২০ বিশ্বকাপের ২০ দলের মধ্যে মাত্র ২০টি ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে, বাকি সব ভারতে। এতগুলো ম্যাচ সরানো বা ভেন্যু পরিবর্তন করা আইসিসির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে তাই এখন অত্যন্ত সতর্কভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কারণ সময় কম এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেক বেশি।

বিশ্বমিডিয়াও ভারতে ভাইরাসের ভয়াবহতা তুলে ধরছে, যা আরও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। খেলোয়াড় ও দর্শক উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া হারিয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে লিড নিয়েছে পাকিস্তান

অস্ট্রেলিয়া হারিয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে লিড নিয়েছে পাকিস্তান



তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান অস্ট্রেলিয়াকে ২২ রানে হারিয়ে সিরিজে লিড নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্বাগতিক পাকিস্তান ১৬৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং শুরু করা অজিদের প্রতিরোধ ভেঙে দেয়। অস্ট্রেলিয়া ১৪৬ রানে থেমে যায় এবং প্রথম ম্যাচের জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান।

পাকিস্তান প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে শাহিবজাদা ফারহানকে হারায়। তবে সায়েম আইয়ুব ও সালমান আঘারের মধ্যকার ৭৪ রানের জুটি দলের জন্য শক্ত ভিত্তি তৈরি করে। সায়েম ৪০ রান করে ফেরেন, আর সালমান আঘার ৩৯ রান করে দলের পুঁজি শক্তিশালী করেন। দলের ক্যাপ্টেন বাবর আজম ২৪ রানে আউট হন। ধারাবাহিক উইকেট হারার পর পাকিস্তান নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৬৮ রানে ইনিংস শেষ করে। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন অ্যাডাম জাম্পা, যিনি ৪টি উইকেট নেন।

অজিদের জবাবে শুরুতে ম্যাথু শর্ট হারলেও ট্রাভিস হেড ও ক্যামেরুন গ্রিন জুটি গড়ে প্রতিরোধ চালান। তবে তাদের বিদায়ের পর অজিদের মিডল অর্ডার ভেঙে পড়ে। শেষ দিকে জেভিয়ার ৩৪ রানে অপরাজিত থাকলেও ম্যাচে ফেরাতে পারেননি। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইন ওপেনিং ও মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় বড় স্কোর তুলতে পারেনি।

ম্যাচ শেষে পাকিস্তানের জবাবে ব্যাটিং ও বোলিং উভয় বিভাগে ভালো পারফরম্যান্স ছিল উল্লেখযোগ্য। বোলাররা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নেন এবং ফিল্ডাররা গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ ও রান আউট করে অজিদের চাপের মধ্যে রেখেছে। বিশেষ করে অ্যাডাম জাম্পার বোলিংই অস্ট্রেলিয়ার ধীরগতির ইনিংসকে ভেঙে দেয়।

এই জয়ের মাধ্যমে পাকিস্তান সিরিজে ১-০ লিড নিল। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ হবে আগামী শনিবার একই মাঠে, বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টায়। দ্বিতীয় ম্যাচে অজিদরা নিজেদের খেলার ছন্দ ফেরাতে চেষ্টা করবে, আর পাকিস্তান প্রথম ম্যাচের জয়কে ধারাবাহিক করতে চাইবে। সিরিজের ফলাফল দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেট ভক্তদের জন্য কৌতূহল জাগাচ্ছে, বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া-পাকিস্তান দ্বৈরথ সবসময় উত্তেজনাপূর্ণ হয়।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ নিয়ে সতর্ক শ্রীলঙ্কা

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ নিয়ে সতর্ক শ্রীলঙ্কা



টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬কে সামনে রেখে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। বিশেষ করে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে। উপমহাদেশের বর্তমান উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে খেলোয়াড় ও দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ পাকিস্তান তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলবে। গ্রুপ ‘এ’-তে থাকা পাকিস্তান প্রথমে সিনহালিজ স্পোর্টস ক্লাবে নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হবে। এরপর ১৫ ফেব্রুয়ারি বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে লড়াইয়ে নামবে মেন ইন গ্রিন।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর আগে কড়া নিরাপত্তা নিচ্ছে শ্রীলঙ্কা

যদিও ভারত এই টুর্নামেন্টের অন্যতম আয়োজক দেশ, আইসিসির একটি চুক্তির আওতায় পাকিস্তান তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় খেলছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, কোনো দল চাইলে রাজনৈতিক বা নিরাপত্তাজনিত কারণে নিরপেক্ষ ভেন্যু বেছে নিতে পারে।

‘মাদার অব অল ব্যাটলস’ নামে পরিচিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ সবসময়ই বিশ্ব ক্রিকেটে আলাদা আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। ক্রিকেটের বাইরেও দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন এই লড়াইকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলে।

এই ম্যাচ ঘিরে বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহ থাকে তুঙ্গে। স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে ভারত ও পাকিস্তান থেকে বিপুল সংখ্যক দর্শকের উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সেই কারণেই খেলোয়াড় ও সমর্থকদের জন্য নির্বিঘ্ন অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলঙ্কা।

ডেইলি সান-এর বরাতে পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অংশগ্রহণকারী সব দলের নিরাপত্তায় রাষ্ট্রপ্রধানদের পাহারায় নিয়োজিত এলিট কমান্ডো ইউনিট মোতায়েন করা হবে।

তারা আরও জানান, বিমানবন্দর থেকে শুরু করে খেলোয়াড়দের ফেরত যাওয়া পর্যন্ত পুরো সময়জুড়েই সশস্ত্র নিরাপত্তা বলয়ে রাখা হবে দলগুলোকে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ শ্রীলঙ্কা কোন কোন ম্যাচ আয়োজন করবে?

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ শ্রীলঙ্কা মোট ২০টি ম্যাচ আয়োজন করবে। এই ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে দুটি শহরের তিনটি ভেন্যুতে—কলম্বো ও পাল্লেকেলে।

কলম্বোর ঐতিহাসিক আর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বেশ কয়েকটি হাই-প্রোফাইল ম্যাচ, যার মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ভারত-পাকিস্তান লড়াইটি রয়েছে। অন্যদিকে, সিনহালিজ স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত হবে পাকিস্তান-নেদারল্যান্ডস, জিম্বাবুয়ে-ওমান, পাকিস্তান-যুক্তরাষ্ট্র, আয়ারল্যান্ড-ওমান এবং পাকিস্তান-নামিবিয়া ম্যাচগুলো।

এছাড়া পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে শ্রীলঙ্কা-ওমান, অস্ট্রেলিয়া-শ্রীলঙ্কা, আয়ারল্যান্ড-জিম্বাবুয়ে এবং অস্ট্রেলিয়া-ওমানের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো। এই ভেন্যুতেই তিনটি সুপার এইট ম্যাচও অনুষ্ঠিত হবে।

পাকিস্তানের অংশগ্রহণ এখনো অনিশ্চিত

শ্রীলঙ্কা যখন বিশ্বকাপ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখনো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। পিসিবির দাবি, বাংলাদেশকে বিতর্কিতভাবে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে বাংলাদেশকে সমর্থন জানাতে পাকিস্তান সরকার এই অবস্থান নিয়েছে।

বর্তমানে পাকিস্তান অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলছে। সিরিজ শেষে খুব শিগগিরই বিশ্বকাপ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচ বয়কট নিয়ে কঠোর অবস্থানে পাকিস্তান; শাস্তি এড়াতে বিশেষ পরিকল্পনা পিসিবির

ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচ বয়কট নিয়ে কঠোর অবস্থানে পাকিস্তান; শাস্তি এড়াতে বিশেষ পরিকল্পনা পিসিবির



টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে সাম্প্রতিক নাটকীয় ঘটনার পর এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ার পর এখন সালমান আলি আগার নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান দল এই মেগা ইভেন্টে অংশ নেবে কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এর আগে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ দেখিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আইসিসির কাছে আবেদন করেছিল, যেন তাদের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। একাধিক দফা আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত জয় শাহর নেতৃত্বাধীন আইসিসি কাউন্সিল বাংলাদেশকে পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

বাংলাদেশের বিদায় পিসিবিকে নতুন করে চাপে ফেলে। কারণ, এর আগে পিসিবি প্রকাশ্যে বিসিবির পাশে থাকার কথা জানিয়েছিল এবং প্রয়োজনে বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকিও দিয়েছিল। তবে আইসিসি যে বাংলাদেশকে সরাসরি বাদ দিতে পারে, সেটি অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত ছিল।

এ অবস্থায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) ভূমিকা নিয়েই এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে চলছে জল্পনা। গত কয়েক দিনে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মোহসিন নকভির নেতৃত্বাধীন বোর্ড একাধিক বিকল্প নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে।

১ ফেব্রুয়ারিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পিসিবির

গত সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, পিসিবি চেয়ারম্যান মোহসিন নকভি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে দুটি সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা হয়—একটি হলো পুরো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করা, অন্যটি শুধুমাত্র ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি বর্জন করা।

উল্লেখ্য, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার গ্রুপ ম্যাচটি আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বৈঠক শেষে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না এলেও মোহসিন নকভি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, সব বিকল্প এখনো বিবেচনায় রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, “প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আইসিসি সংক্রান্ত সব বিষয় তাকে অবহিত করেছি। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, সব বিকল্প খোলা রেখে সমাধানে পৌঁছাতে। আগামী শুক্রবার অথবা সোমবারের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের দিকেই ঝুঁকছে পাকিস্তান

নকভির বক্তব্যের পর প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছিল, আইসিসির সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার ভয়ে পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে অংশ নেবে। তবে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ভিন্ন তথ্য।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিসিবি এখন গুরুত্ব সহকারে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের বিষয়টি বিবেচনা করছে এবং শাস্তি এড়াতে একটি কৌশলও তৈরি করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পিসিবি এই সিদ্ধান্তটিকে পুরোপুরি সরকারের ওপর ছেড়ে দিতে পারে এবং নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে এটিকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ হিসেবে উপস্থাপন করবে। এমন হলে আইসিসির পক্ষে পিসিবির বিরুদ্ধে সরাসরি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হবে।

ডনের একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে এনডিটিভি জানায়, “পুরো টুর্নামেন্ট বয়কট করা পিসিবির প্রধান লক্ষ্য নয়। তবে ১৫ ফেব্রুয়ারির ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি পরিত্যাগ করার মতো যথেষ্ট যুক্তি তাদের হাতে রয়েছে, যা আইসিসির কোনো আর্থিক জরিমানা বা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়ক হতে পারে।”

আরও বলা হয়, “পাকিস্তান যদি জানায় যে তারা সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী ভারতের বিপক্ষে খেলছে না, সেক্ষেত্রে আইসিসি পিসিবির ওপর আর্থিক বা প্রশাসনিক শাস্তি দিতে পারবে না।”

পাকিস্তান সরে দাঁড়ালে কী শাস্তি দিতে পারে আইসিসি?

উল্লেখযোগ্যভাবে, যখন পাকিস্তানের বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছিল, তখন আইসিসির পক্ষ থেকেও কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পিসিবি যদি পুরো টুর্নামেন্ট বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে হবে।

এক্সপ্রেস স্পোর্টসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান বিশ্বকাপ না খেললে আইসিসি তাদের সব ধরনের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ স্থগিত করতে পারে। পাশাপাশি পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) বিদেশি ক্রিকেটারদের জন্য দেওয়া এনওসি বাতিল করা হতে পারে। এমনকি এশিয়া কাপ থেকেও ‘মেন ইন গ্রিন’-কে নিষিদ্ধ করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

সব মিলিয়ে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে। এখন ক্রিকেট বিশ্ব তাকিয়ে আছে পিসিবির চূড়ান্ত ঘোষণার দিকে, যা আসতে পারে ১ ফেব্রুয়ারি।

পাক-অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজের ফটোশুটে তুক-তুকে “রিজওয়ান”! ভাইরাল হলো মিম

পাক-অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজের ফটোশুটে তুক-তুকে “রিজওয়ান”! ভাইরাল হলো মিম



পাকিস্তান ক্রিকেট দল জানুয়ারি ২৯ থেকে ফেব্রুয়ারি ১ পর্যন্ত তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নামছে। সিরিজের আগের প্রস্তুতি হিসেবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) দুই দলের অধিনায়ক এবং সিরিজ ট্রফি নিয়ে একটি বিশেষ ফটোশুটের আয়োজন করে, যা সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।

ফটোশুটের এক মুহূর্তে দেখা যায় পাকিস্তানের অধিনায়ক আঘা সালমান এবং অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক মিচেল মার্শ একটি তুক-তুকে চড়ে, হাতে নিজেদের দেশের পতাকা ধরে ছবি তুলছেন। ছবিটি স্বাভাবিকভাবেই হাস্যকর এবং আনন্দদায়ক মুহূর্ত হিসেবে ধরা হয়, কিন্তু হঠাৎই এই দৃশ্যটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।

অনেক ফ্যানদের নজর কাড়ে যে তুক-তুকের ড্রাইভারটি দেখতে মোহাম্মদ রিজওয়ানের সঙ্গে অবাক করা মিল আছে। মোহাম্মদ রিজওয়ান, যিনি সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দলে বাদ পড়েছিলেন, সেই দৃশ্যটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মজা শুরু হয়। ফ্যানরা একে নিয়ে নানা রকম মিম, হাস্যকর মন্তব্য ও জোকস শেয়ার করতে থাকে। কেউ লিখছে “রিজওয়ান অবশেষে পাকিস্তান দলে ফিরে এলেন!”, আবার কেউ বলছে “নতুন ভূমিকায় রিজওয়ান: তুক-তুক ড্রাইভার!”

পিসিবি বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ফটোশুটের ছবি এবং ভিডিও শেয়ার করে, যা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। ফ্যানরা ছবিতে দুই অধিনায়ককে এবং তুক-তুক ড্রাইভারকে নিয়ে নানা রকম ক্রিয়েটিভ মিম বানাতে শুরু করে। অনেকে মন্তব্য করছেন যে, ক্রিকেটারদের মাঝে এমন হালকা-ফুলকা মুহূর্ত যেন খেলাধুলার চাপ কমিয়ে দেয় এবং সিরিজ শুরু হওয়ার আগে ফ্যানদের মধ্যে উচ্ছ্বাস বাড়ায়।



এদিকে, সিরিজটি পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে গেলে পাকিস্তানকে শক্তিশালী দল সাজাতে হবে। তবে ফ্যানদের এই মজার মিম এবং মন্তব্য দেখলে বোঝা যায় যে, ক্রিকেট শুধু খেলা নয়, একই সঙ্গে ফ্যানদের জন্য আনন্দ এবং বিনোদনের উৎসও।

ফটোশুট এবং মিম ভাইরালের এই ঘটনা প্রমাণ করছে যে, ক্রিকেট কেবল মাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সোশ্যাল মিডিয়াতেও এটি ফ্যানদের মাঝে আলোচনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

Wednesday, January 28, 2026

বয়কটের গুঞ্জনের মাঝে কলম্বোর টিকিট নিশ্চিত করলো পাকিস্তান

বয়কটের গুঞ্জনের মাঝে কলম্বোর টিকিট নিশ্চিত করলো পাকিস্তান



বিশ্বকাপ বয়কটের গুঞ্জনের মধ্যেই পাকিস্তান দল পেল কলম্বোর টিকিট

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে বিতর্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পাকিস্তান ক্রিকেট দল তাদের প্রস্তুতি শুরু করেছে। স্কোয়াড ঘোষণা হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) লাহোর থেকে কলম্বো যাওয়ার ফ্লাইট বুকিং সম্পন্ন করেছে। দলটি আগামী সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর উদ্দেশে রওনা দেবে।

টেলিকম এশিয়া স্পোর্টসের বরাতে জানা গেছে, নিরাপত্তা এবং অংশগ্রহণ নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার মাঝেও পাকিস্তান দল অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে এয়ার লঙ্কার একটি ফ্লাইটে যাত্রার ব্যবস্থা করেছে। সূত্রটি আরও জানিয়েছে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান মহসিন নাকভি আগামী শুক্রবারের মধ্যে বিশ্বকাপে দলের অংশগ্রহণ চূড়ান্ত করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক চলছিল। নাকভি নিজেও এই নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছিলেন।

বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে পাকিস্তান বোর্ড দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে এবং তাদের দল অংশগ্রহণের পক্ষে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের অনুরোধ করেছিল, যা আইসিসি প্রত্যাখ্যান করেছে। যদিও স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়নের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে, বিসিবি ভারতীয় মাটিতে খেলতে অনড় থাকায় আইসিসি বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান দল এখন নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী কলম্বোর উদ্দেশে রওনা দিবে এবং দলের প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামার দিকে মনোনিবেশ করবে।

বিশ্বের সবচেয়ে তলানিতে বিপিএল! ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের লজ্জাজনক চিত্র

বিশ্বের সবচেয়ে তলানিতে বিপিএল! ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের লজ্জাজনক চিত্র

 



সদ্য সমাপ্ত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) নিয়ে সমালোচনার রেশ যেন কাটছেই না। প্রতি আসরেই নতুন নতুন বিতর্কে জড়িয়ে দেশের একমাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগটি। সেই বিতর্ক এবার ঘরোয়া পরিসর ছাড়িয়ে জায়গা করে নিয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও।

ব্রিটিশ ক্রিকেটবিষয়ক প্রভাবশালী ম্যাগাজিন ‘দ্য ক্রিকেটার’ প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনায় বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগের র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগকে বিশ্বের সবচেয়ে তলানির ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এই র‍্যাঙ্কিং নির্ধারণে চারটি মানদণ্ড বিবেচনায় নেয়া হয়েছে—বিনোদনমূল্য, ক্রিকেটের মান, লিগের স্থায়িত্ব বা গ্রহণযোগ্যতা এবং সামগ্রিক মূল্যায়ন। বিশ্বের মোট দশটি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ নিয়ে করা এই বিশ্লেষণে বিপিএল তিনটি ক্যাটাগরিতেই পেয়েছে সর্বনিম্ন রেটিং, অর্থাৎ দশম স্থান। কেবল স্থায়িত্ব বা গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে বিপিএল এক ধাপ এগিয়ে নবম স্থানে রয়েছে; এই ক্যাটাগরিতে দশম স্থানে আছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএল টি২০।

সামগ্রিক বিচারে ভারতের আইপিএল, অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ, দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ টি-টোয়েন্টি, ইংল্যান্ডের দ্য হানড্রেড—সবকটিই বিপিএলের চেয়ে অনেক এগিয়ে। এমনকি শ্রীলঙ্কার লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগ (এলপিএল) ও যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেটও র‍্যাঙ্কিংয়ে বিপিএলের ওপরে অবস্থান করছে।



প্রত্যাশিতভাবেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ ভারতের আইপিএল রয়েছে শীর্ষে। এরপরই অবস্থান দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ টি-টোয়েন্টির। ক্রিকেটের মান ও গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে আইপিএল সবার ওপরে থাকলেও বিনোদনমূল্যের দিক থেকে শীর্ষে রাখা হয়েছে এসএ টি-টোয়েন্টিকে।

র‍্যাঙ্কিংয়ের ব্যাখ্যায় ‘দ্য ক্রিকেটার’ উল্লেখ করেছে, আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের কারণেই কম রেটিং পেয়েছে লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগ ও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ। ম্যাগাজিনটির ভাষায়, “তালিকার একেবারে নিচে থাকা দুটি টুর্নামেন্ট—এলপিএল ও বিপিএল—দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে জর্জরিত।”

তবে সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছে তারা। বিশাল দর্শকসংখ্যা ও বাজার থাকা সত্ত্বেও এই দুই লিগ একই ধরনের কাঠামোগত সমস্যায় ভুগছে—ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকানায় ঘন ঘন পরিবর্তন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব, খেলোয়াড়দের উচ্চমাত্রার দলবদল এবং বৈশ্বিক ক্রিকেট ক্যালেন্ডারে অস্থিতিশীল সময়সূচি।

সব মিলিয়ে সামগ্রিক র‍্যাঙ্কিংয়ে লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগ নবম স্থানে থাকলেও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ জায়গা পেয়েছে তালিকার একেবারে শেষ প্রান্তে—দশম স্থানে।

Monday, January 26, 2026

সব বাংলাদেশি সাংবাদিকের মিডিয়া অ্যাক্রিডিটেশন স্থগিত করলো আইসিসি

সব বাংলাদেশি সাংবাদিকের মিডিয়া অ্যাক্রিডিটেশন স্থগিত করলো আইসিসি

 


ভারতে গিয়ে খেলতে অনিচ্ছা প্রকাশের জেরে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাতিলের পর এবার আরও কঠোর অবস্থানে গেল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। টুর্নামেন্ট কাভার করার উদ্দেশ্যে আবেদন করা বাংলাদেশের সব সাংবাদিকের মিডিয়া অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল করেছে সংস্থাটি। এর ফলে এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কোনো সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধির উপস্থিতি থাকছে না।

আইসিসির নির্ধারিত নিয়ম মেনে যেসব বাংলাদেশি সাংবাদিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কাভারের জন্য আবেদন করেছিলেন, তাদের সবাইকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে আবেদনগুলো গ্রহণযোগ্য হয়নি। এর আগেই নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অজুহাতে ভারত সফরে অনীহা দেখানোর কারণে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপের মূল পর্ব থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় আইসিসি।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ১৯৯৯ সাল থেকে শুরু করে প্রতিটি ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সক্রিয় ও পেশাদার উপস্থিতি ছিল। এমনকি ১৯৯৯ সালের আগেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বড় মঞ্চে বাংলাদেশের সাংবাদিকরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করেছেন।

আইসিসির এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে দেশের ক্রীড়া সাংবাদিক মহলে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদ দেখা দিয়েছে। অনেকেই এটিকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে দেখছেন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষকে সংহতি প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে।

Saturday, January 24, 2026

বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে জায়গা পাচ্ছেন ২৭ জন ক্রিকেটার।

বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে জায়গা পাচ্ছেন ২৭ জন ক্রিকেটার।

 



বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবিকেন্দ্রীয় চুক্তিতে জায়গা পাওয়া ২২ ক্রিকেটারের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। গত ১ জানুয়ারি থেকে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এই চুক্তি। তবে এ বছরের ফেব্রুয়ারির পর কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে নিজের নাম সরিয়ে নিতে বিসিবিকে অনুরোধ জানিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ফলে ১ মার্চ থেকে চুক্তির বাইরে থাকবেন মাহমুদউল্লাহ। দীর্ঘ সময় পর তালিকায় জায়গা হারিয়েছেন সাকিব আল হাসান। লম্বা সময় ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পেস বিভাগের নেতৃত্ব দেওয়ার পুরস্কার পেয়েছেন তাসকিন আহমেদ। বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে শীর্ষ ক্যাটাগরিতে জায়গা করে নিয়েছেন এই অভিজ্ঞ পেসার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গতির পসরা মেলে ধরে প্রথমবার কেন্দ্রীয় চুক্তিতে এসেছেন পেসার নাহিদ রানা। গতকাল সোমবার ২০২৫ সালের কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকা প্রকাশ করে বিসিবি। গত কয়েক বছরে ক্রিকেটারদের সঙ্গে সংস্করণভেদে আলাদা চুক্তি করে আসছিল বিসিবি। এবার সেখান থেকে সরে এসে ‘এ প্লাস’, ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’, ‘ডি’– মোট পাঁচ ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে ২২ ক্রিকেটারকে। গত বছর কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ছিলেন ২১ জন। গত বছর তিন সংস্করণের চুক্তিতে ছিলেন সাকিব আল হাসানলিটন কুমার দাসমেহেদী হাসান মিরাজনাজমুল হোসেন শান্ত ও শরিফুল ইসলাম। গত সেপ্টেম্বরের পর থেকে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার থমকে থাকা সাকিবকে এবার বাদ দেওয়া হয়েছে চুক্তি থেকে। গত বছরের চুক্তি থেকে আরও বাদ পড়েছেন নুরুল হাসান সোহানজাকির হাসানমাহমুদুল হাসান জয় ও নাঈম হাসান। শুধু টেস্টের চুক্তিতে ছিলেন জাকিরজয় ও নাঈম। টিটোয়েন্টির চুক্তিতে ছিলেন সোহান। এবার কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ফিরেছেন সৌম্য সরকার ও সাদমান ইসলাম। নাহিদ ছাড়াও প্রথমবার চুক্তিতে জায়গা পেয়েছেন জাকের আলিরিশাদ হোসেন ও তানজিদ হাসান। এই তিন জনকেই রাখা হয়েছে ‘সি’ ক্যাটাগরিতে। নাহিদের জায়গা হয়েছে ‘বি’তে।

নতুন কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরিতে থাকা তাসকিন প্রতি মাসে পাবেন ১০ লাখ টাকা পারিশ্রমিক। এছাড়া ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ৮ লাখ, ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৬ লাখ, ‘সি’ ক্যাটাগরিতে ৪ লাখ ও ‘ডি’ ক্যাটাগরিতে থাকা ক্রিকেটাররা পাবেন ২ লাখ টাকা করে। এবার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকের ‘এ’ ক্যাটাগরিতে আছেন শান্তমিরাজ ও লিটন। সদ্য সমাপ্ত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দল থেকে বাদ পড়া শরিফুলের জায়গা হয়েছে ‘সি’ ক্যাটাগরিতে।

চুক্তিতে মুশফিকুর রহিমকে রাখা হয়েছিল ‘এ’ ক্যাটাগরিতে। তিনি টেস্ট ও ওয়ানডে খেলবেন সেটা ধরেই নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। চলতি মাসের শুরুতে ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। শুধুমাত্র টেস্ট খেলবেন। তাই ১ মার্চ থেকে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে থাকবেন মুশফিক। তাই মার্চ মাস থেকে ‘বি’ ক্যাটাগরির ক্রিকেটার হিসেবে গণ্য হবেন অভিজ্ঞ কিপারব্যাটার। মাহমুদউল্লাহকে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে রেখে তালিকা চূড়ান্ত করেছিল বোর্ডের ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগ। তবে ফেব্রুয়ারির পর থেকে নিজেকে চুক্তিতে না রাখার অনুরোধ করেছেন ৩৯ বছর বয়সী ক্রিকেটার। তাই মার্চ থেকে আর বিসিবির চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটার নন তিনি। এছাড়া গত বছর টিটোয়েন্টিতে দারুণ পারফর্ম করা শামীম হোসেনের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে জায়গা হয়নি।

২০২৫ সালের বিসিবি কেন্দ্রীয় চুক্তি: ‘এ প্লাস’: (মাসে বেতন ১০ লক্ষ টাকাতাসকিন আহমেদ, ‘এ’: (মাসে বেতন ৮ লক্ষ টাকানাজমুল হোসেন শান্তমেহেদী হাসান মিরাজলিটন কুমার দাসমুশফিকুর রহিম (মার্চ থেকে বি ক্যাটাগরি),‘বি’: (মাসে বেতন ৬ লক্ষ টাকামোমিনুল হকতাইজুল ইসলামমাহমুদউল্লাহ (ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত), মুস্তাফিজুর রহমানতাওহিদ হৃদয়হাসান মাহমুদনাহিদ রানা,‘সি’: (মাসে বেতন ৪ লক্ষ টাকাসাদমান ইসলামসৌম্য সরকারজাকের আলিতানজিদ হাসানশরিফুল ইসলামরিশাদ হোসেনতানজিম হাসানশেখ মেহেদি হাসান,‘ডি’: (মাসে বেতন ২ লক্ষ টাকানাসুম আহমেদসৈয়দ খালেদ আহমেদ।

বিসিবির এই চুক্তি প্রসঙ্গে ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন বলেন, ‘যারা টেস্ট ক্রিকেট খেলবেতারা যেন লাভবান হয় তেমন একটি চুক্তি করতে চেয়েছি আমরা।’ তিনি আরো বলেনক্রিকেটারদের বেতন গ্রেড বদলের পাশাপাশি ম্যাচ ফিও বাড়বে।

Friday, December 26, 2025

শান্তর সেঞ্চুরিতে সিলেটের বিপক্ষে রাজশাহীর ৮ উইকেটে জয়

শান্তর সেঞ্চুরিতে সিলেটের বিপক্ষে রাজশাহীর ৮ উইকেটে জয়

 


বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) দ্বাদশ আসরের প্রথম ম্যাচে সিলেট টাইটানসের বিপক্ষে নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরিতে ৮ উইকেটে জয় পেয়েছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।

আজ শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয় সিলেট ও রাজশাহী। টসে হেরে ব্যাট হাতে ঝড় শুরু করেছিলেন সিলেটের সাইম আইয়ুব।

তবে ২৮ রান করে বিনুরা ফার্নান্দোর বলে আউট হয়ে ফেরেন এই ওপেনার। ২০ রান করা হযরতউল্লাহ জাজাইকে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন সন্দীপ লামিচানে। আরেক ওপেনার রনি তালুকদার লামিচানের বলে বোল্ড হওয়ার আগে খেলেন ৪১ রানের ইনিংস। এরপর দলকে ভালো সংগ্রহের পথে নিয়ে যায় পারভেজ ইমন ও আফিফ ধ্রুব জুটি। শেষদিকে ৩৩ রান করে আফিফ রানআউটের শিকার হন। তবে ৩৩ বলে ৬৫ রানের ইনিংসে দলকে ১৯০ রানের পুঁজি এনে দেন পারভেজ ইমন।

জবাবে শুরুতেই খালেদ আহমেদের পেসে কাটা পড়েন ওপেনার তানজিদ তামিম। আরেক ওপেনার শাহিবজাদা ফেরেন ২০ রান করে। এরপর অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে জুটি গড়েন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দুজনের ১৩০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি ৮ উইকেটের জয় এনে দেয় রাজশাহীকে। ৬০ বলে ১০১ রানে অপরাজিত থাকেন শান্ত, আর ৩১ বল থেকে মুশফিকের ব্যাটে ৫১ রান আসে।

এরআগে, ডে লাইট ফায়ার ওয়ার্ক প্রদর্শনের পাশাপাশি ২৫ হাজার বেলুন উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয় বিপিএলের দ্বাদশ আসরের। বেলা দুইটায় এই আসরের উদ্বোধন করেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। শুরুতে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। পরে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।