Showing posts with label বাংলাদেশ. Show all posts
Showing posts with label বাংলাদেশ. Show all posts

Sunday, June 7, 2026

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

 


রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড


রাজধানীর পল্লবীতে আলোচিত শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।


রায় ঘোষণার আগে থেকেই আদালত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও তৎপর থাকতে দেখা যায়। সকালেই কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়।


মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসায় পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয় আট বছর বয়সী রামিসা। পরে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর নিহত শিশুর বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করা হয়।


তদন্তে উঠে আসে, ঘটনার দিন সকালে রামিসা বাসা থেকে বের হওয়ার পর কৌশলে তাকে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যায় আসামিরা। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর পরিবারের সদস্যরা সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে ওই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে এবং স্বপ্নাকে আটক করে। পরবর্তীতে প্রযুক্তির সহায়তায় অন্য স্থান থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


মামলাটি ব্যাপক জনমত সৃষ্টি করায় দ্রুত বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। স্বল্প সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এরপর সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা ও যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়।


বিচার চলাকালে নিহত শিশুর বাবা-মা, স্বজন, প্রতিবেশী, তদন্ত কর্মকর্তা এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞসহ একাধিক সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দেন। তাদের বক্তব্যে ঘটনার ভয়াবহতা ও নির্মমতার বিভিন্ন দিক উঠে আসে।


ফরেনসিক প্রতিবেদনে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতনের আলামত এবং হত্যাকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। তদন্ত কর্মকর্তার উপস্থাপিত তথ্য, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আলামত পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় প্রদান করেন।


রায়ের পর আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। একই সঙ্গে নিহত রামিসার পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করায় সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


দেশজুড়ে আলোচিত এ মামলার রায়কে শিশু নির্যাতন ও হত্যার বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা হিসেবে দেখছেন আইন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

Friday, June 5, 2026

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের রেড টেলিফোনের তামার তার চুরি

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের রেড টেলিফোনের তামার তার চুরি

 


বাংলাদেশ সচিবালয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ রেড টেলিফোন সংযোগের তামার তার চুরির ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনার তদন্তে নেমে চুরি হওয়া তার উদ্ধার করার পাশাপাশি দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।


গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্র (২৫) এবং ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলাম (৩২)। শুক্রবার বিকেলে সিটিটিসির একটি দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।


জানা গেছে, সম্প্রতি সচিবালয়ের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত রেড টেলিফোন সংযোগের তামার তার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। বিষয়টি সামনে আসার পর সরকারি বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে এ ঘটনায় বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) শাহবাগ থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে।


মামলার পর ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে সিটিটিসির সিটি ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগ। তদন্তের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন হিসেবে সচিবালয়ে কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্রকে বৃহস্পতিবার দুপুরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়।


প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই রঞ্জন চুরির সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র। তার বক্তব্য অনুযায়ী, গত ২২ মে সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবন থেকে তিনি তামার তারগুলো সরিয়ে ফেলেন। পরে গত ১ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হল এলাকার একটি ভাঙারি দোকানে এসব তার বিক্রি করেন। প্রতি কেজি তামার তারের দাম ধরা হয়েছিল ৬০০ টাকা। মোট ৮ কেজি ২০০ গ্রাম তার বিক্রি করা হয়েছিল বলে তিনি স্বীকার করেন।


রঞ্জনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলামকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার দেখানো একটি গুদামে তল্লাশি চালিয়ে চুরি হওয়া তামার তার উদ্ধার করে পুলিশ। রাজধানীর হোসেনী দালান রোডের একটি গুদাম থেকে এসব তার উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিটিটিসি।


তদন্তকারীরা মনে করছেন, এটি কোনো একক ব্যক্তির কাজ নাও হতে পারে। সচিবালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার তার ও অন্যান্য মূল্যবান উপকরণ চুরির সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে ঘটনার পেছনে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সম্ভাব্য সহযোগীদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


এদিকে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, চুরির ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রায় ৮ কেজি তামার তার উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, চুরি হওয়া মালামাল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ভাঙারি ব্যবসায়ীকেও আইনের আওতায় আনা হয়েছে।


ঘটনাটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তদন্ত শেষ হলে পুরো ঘটনার পেছনের নেটওয়ার্ক ও দায়ীদের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Thursday, June 4, 2026

১৯ দিনের মাথায় রায় হচ্ছে, আদালতে যা বলল রাষ্ট্রপক্ষ–আসামিপক্ষ

১৯ দিনের মাথায় রায় হচ্ছে, আদালতে যা বলল রাষ্ট্রপক্ষ–আসামিপক্ষ

 


রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হলো। মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি আজ বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন। শিশুটিকে হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে গত ১৯ মে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বিচারক মাসরুর সালেকীন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে আসেন। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু যুক্তিতর্ক শুরু করেন। বেলা ১টা ৩৬ মিনিটে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত এ আদেশ দেন।

সকাল ৯টার দিকে কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয় প্রধান আসামি সোহেল রানাকে। পরে বেলা ১১টা ২৪ মিনিটে তাঁকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। আসামি স্বপ্না আক্তারকে আদালতে হাজির করা হয় বেলা ১১টা ৩৯ মিনিটে। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পিটার গোমেজ জানান, আসামি স্বপ্না আক্তার অসুস্থ থাকায় তিনি হাসপাতাল থেকে এসেছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আসামি সোহেল রানাকে দোষী সাব্যস্ত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা মামলায় তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। সোহেলের অপরাধে সহযোগিতা ও বাধা না দেওয়ার বিষয় উল্লেখ করে আসামি স্বপ্না আক্তারের আইনানুগ শাস্তির দাবি জানান। তিনি আদালতে শিশুর বাবা ও মায়ের সাক্ষ্য পড়ে শোনান। পরবর্তী সময় তিনি আদালতে ভুক্তভোগীর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, পাশাপাশি ফ্ল্যাটেই ঘটনার শিকার ও আসামিদের বসবাস ছিল। ঘটনার দিন ওই শিশুকে আসামি তাঁর ফ্ল্যাটে নিয়ে ধর্ষণ করেন ও নৃশংসভাবে হত্যা করেন। ১৬ জন সাক্ষী এই সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ওই ফ্লোরে আর কোনো পরিবারের বসবাস ছিল না। এখানে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডের পুরো সময় সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার বাসার ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে রেখেছিলেন। বাইরে থেকে দরজা খুলতে বললে স্বপ্না ভেতর থেকে শিশু নেই বলে জানান।

আইনজীবী আরও বলেন, ঘটনার দিন প্রত্যক্ষদর্শী আবু শামা আসামি সোহেলকে ভবনের তিনতলা থেকে জানালায় পা দিয়ে নামতে দেখেন। এতে প্রমাণিত হয়, সোহেল রানা ওই শিশুকে ধর্ষণ করে হত্যা করে জানলার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়। আইনজীবী সুরতহাল প্রস্তুতকারী কনস্টেবলের সাক্ষী তুলে ধরে আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করেন।

জবানবন্দিতে আসামি সোহেল রানার দেওয়া বর্ণনা আদালতে পড়ে শোনান আইনজীবী। আসামি তাঁর জবানবন্দিতে কোথাও ডলার নামে কারও কথা উল্লেখ করেননি বলেও জানান তিনি পরবর্তী সময় বেলা ১টা ৩১ মিনিটে আসামিপক্ষের আইনজীবী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। আসামির পক্ষে তিনি বলেন, আসামি তাঁর জবানবন্দিতে বলেছেন আসামি নেশা করেন। একজন নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি কখনো সঠিক কথা বলতে পারে না। জবানবন্দির পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে শাস্তি দেওয়া ঠিক নয়। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, ঘটনার সময় ও জবানবন্দি দেওয়ার সময় আসামি নেশাগ্রস্ত ছিলেন না।

গত ১৯ মে পল্লবীর একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। ফ্ল্যাটটির বাসিন্দা আসামি সোহেল ঘটনার পর বাসার শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। বাসা থেকে তাঁর স্ত্রীকে তখনই আটক করা হয়। আর সেদিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

এ মামলায় ১ জুন সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় ২ জুন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন শিশুটির মা-বাবাসহ ১০ জন।

গত ২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আসামি সোহেল রানা। শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা তিনি স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানায়। পরে ১ জুন আদালতে সোহেল রানা দাবি করেন, ডলার নামের একজন শিশুটিকে ধর্ষণ করেছেন। ডলারের পরিচয় জানতে চাইলে সোহেল রানা বলেন, তাঁর বাড়ি মিরপুরে। তিনি অনেক টাকাওয়ালা। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সোহেল রানা আদালতকে বলেন, ‘আমি মারিনি। আমি ধর্ষণও করিনি। আমার স্ত্রীও নির্দোষ।’ পরদিন ২ জুন আদালতে আসামি সোহেল রানা বলেন, ‘আমার সাথে যে ছিল ডলার, তারে আপনারা ধরেন। আমি দোষ করি নাই তা না, আমিও দোষ করেছি, ডলারও দোষ করেছে...।’

তবে আসামিপক্ষে সরকার নিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমুল্লাহ বলেন, আসামিরা তাঁর কাছে ডলার সম্পর্কে কিছুই বলেনি। পুলিশ রিপোর্টে ডলারের নাম নেই বলেও তিনি জানান।

কালভার্টের নির্মাণকাজ চলার সময় পাহাড়ধস, দুই শ্রমিকের মৃত্যু

কালভার্টের নির্মাণকাজ চলার সময় পাহাড়ধস, দুই শ্রমিকের মৃত্যু

 


কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের দরিয়ানগর এলাকায় পাহাড় থেকে ধসে পড়া মাটিতে চাপা পড়ে দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও তিন শ্রমিক। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত দুজন হলেন মোহাম্মদ রাকিব ও মোহাম্মদ ইলিয়াস। তাঁদের বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায়। একটি কালভার্টের নির্মাণকাজ চলার সময় তাঁদের ওপর মাটি ধসে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, দরিয়ানগর থেকে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) কক্সবাজার ক্যাম্পাসে যাওয়ার সড়কে একটি কালভার্টের নির্মাণকাজ চলছিল। দুপুরে সেখানে নির্মাণকাজ করছিলেন কয়েকজন শ্রমিক। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাঁদের ওপর হঠাৎ পাশের পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে। তাতে কয়েকজন শ্রমিক চাপা পড়ে আহত হন। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শ্রমিককে মৃত ঘোষণা করেন। একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কালভার্টটির নির্মাণকাজের দায়িত্বে রয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লাকি এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি আবদুর রহিম মজুমদার বলেন, শ্রমিকেরা নিরাপত্তাবিধি মেনেই কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ মাটিধসে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। হতাহত ব্যক্তিরা সবাই প্রায় এক মাস ধরে এই প্রকল্পে কাজ করে আসছেন।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ( আরএমও) সুবক্তগীন মোহাম্মদ সোহেল বলেন, ‘গুরুতর অবস্থায় তিন শ্রমিককে সদর হাসপাতালে আনা হয়েছিল। এর মধ্যে দুজন হাসপাতালে আনার আগেই মারা গেছেন।’

কক্সবাজার সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিমেল রায় বলেন, ‘নিহত ব্যক্তিদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

Saturday, May 23, 2026

আমার শতভাগ বিশ্বাস মেয়ে হত্যার বিচার পাবো: রামিসার বাবা

আমার শতভাগ বিশ্বাস মেয়ে হত্যার বিচার পাবো: রামিসার বাবা

 


রাজধানীর পল্লবীতে হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, একজন মেয়ের বাবা হিসেবে এবং একজন বড় ভাই হিসেবে আমি এখানে (তার বাসায়) এসেছি। তার ভালোবাসা এবং আমাকে দেওয়া যে কথা, সে কথার ওপর আমি ১০০ ভাগ বিশ্বাসী যে, আমার মেয়ে হত্যার বিচার পাবো। সুষ্ঠু এবং দ্রুত বিচার পাবো।’


শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে জুমার নামাজের পর মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানের ইছাপুরা ইউনিয়নের মধ্য শিয়ালদী এলাকার বায়তুল আমান জামে মসজিদের পাশের পারিবারিক কবরস্থানে শিশু রামিসার কবর জিয়ারত করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

এসময় রামিসার বাবা হান্নান বলেন, ‘বাংলাদেশের সাংবিধানিক আইন অনুসারে আমি হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করি। প্রধানমন্ত্রী আইনমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন, দেশের আইন মেনে সর্বোচ্চ শাস্তি যেটা আছে সেটা যাতে নিশ্চিত করা হয়।’


এর আগে রামিসার জন্য মসজিদে দোয়া করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল্লাহসহ স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীসহ এলাকাবাসী।

১৯ মে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় প্রধান আসামি জাকির হোসেন সোহেল (৩৪) আটক হয়েছেন।


নিহত রামিসার গ্রামের বাড়ি সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের শিয়ালদী গ্রামে।

সন্তান হারানোর শোকে নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা।


পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনো মেয়ের জামা-কাপড় বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। কয়েকদিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি, যা আর পরা হয়নি রামিসার।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গুমের চেষ্টা করেন। এ ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Saturday, May 9, 2026

গাজীপুরে একই পরিবারের ৫ জনকে হত্যা

গাজীপুরে একই পরিবারের ৫ জনকে হত্যা


গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।


শুক্রবার (৮ মে) রাতে ওই গ্রামের প্রবাসী মনিরের স্ত্রী-সন্তানসহ ৫ জনকে হত্যা করা হয়।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে বাড়ির ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় মরদেহগুলো দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।


কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।


তিনি জানান, নিহতদের মধ্যে প্রবাসী মনিরের স্ত্রী ও সন্তান রয়েছেন। তবে নিহত অন্যদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।


পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

Tuesday, May 5, 2026

শাপলা চত্বরে ৩২ জনকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত সংস্থা

শাপলা চত্বরে ৩২ জনকে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত সংস্থা

 


রাজধানীর শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন পর্যন্ত শুধু ঢাকাতেই ৩২ জনকে হত্যার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।


রোববার (৩ মে) সকালে নিজ কার্যালয়ে তিনি গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

১৩ বছর আগে ঢাকার শাপলা চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি দিয়ে আলোচনায় আসে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। ব্লগারদের বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ, নারী নীতির বিরোধিতা এবং ১৩ দফা দাবি তুলে ওই কর্মসূচি পালন করা হয়। 

২০১৩ সালের ৫ মে দিনভর উত্তেজনা ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে হেফাজতে ইসলামের ওই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। রাতে মতিঝিলের শাপলা চত্বর এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির অভিযানে এলাকা খালি করা হয়।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, তদন্তে সেই অভিযানে ৩২ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত শেষ পর্যায়ে থাকায় প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

Thursday, January 29, 2026

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ মামলায় বাংলাদেশের পক্ষে রায়, ক্ষতিপূরণ ৪২ মিলিয়ন ডলার

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ মামলায় বাংলাদেশের পক্ষে রায়, ক্ষতিপূরণ ৪২ মিলিয়ন ডলার

 


টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে ২০০৫ সালের ভয়াবহ বিস্ফোরণ সংক্রান্ত মামলায় আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের পক্ষে রায় এসেছে। রায়ে কানাডাভিত্তিক জ্বালানি কোম্পানি নাইকোকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে বাংলাদেশকে ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৫১৬ কোটি টাকা, প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে হিসাব করা হয়েছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটস (আইসিএসআইডি) এই রায় ঘোষণা করে। বৃহস্পতিবার পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ফলে গ্যাসক্ষেত্রে প্রায় ৮ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পুড়ে যাওয়ায় ক্ষতির জন্য ৪০ মিলিয়ন ডলার এবং পরিবেশসহ অন্যান্য ক্ষতির জন্য অতিরিক্ত ২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সুনামগঞ্জের ছাতকে অবস্থিত টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রটি ১৯৫৯ সালে আবিষ্কৃত হয়। পরবর্তী সময়ে কূপ খননের মাধ্যমে এক হাজার ৯০ মিটার থেকে এক হাজার ৯৭৫ মিটার গভীরতায় মোট নয়টি গ্যাস স্তরের সন্ধান পাওয়া যায়। দীর্ঘ বিরতির পর ২০০৩ সালে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের দায়িত্ব দেওয়া হয় কানাডিয়ান কোম্পানি নাইকোকে।

খননকাজ শুরুর দুই বছরের মাথায়, ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন গ্যাসক্ষেত্রে পরপর দুটি বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে বিপুল পরিমাণ গ্যাস পুড়ে যায় এবং আশপাশের অবকাঠামো ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকার নাইকোর কাছে ৭৪৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করলেও প্রতিষ্ঠানটি তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে ২০১৬ সালে প্রায় ৯ হাজার ২৫০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবিতে ওয়াশিংটনের আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে বাংলাদেশ।

পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল রায়ে উল্লেখ করেছে যে খনন কার্যক্রম পুরোপুরি নাইকোর তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছিল। আন্তর্জাতিক পেট্রোলিয়াম শিল্পের স্বীকৃত মানদণ্ড অনুসরণ না করা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই বিস্ফোরণ ঘটে। এসব কারণ বিবেচনায় নাইকোকেই দায়ী করে বাংলাদেশকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

পদ্মাপাড়ে তারেক রহমান, দুপুরে বিশাল জনসভায় যোগ দিচ্ছেন

পদ্মাপাড়ে তারেক রহমান, দুপুরে বিশাল জনসভায় যোগ দিচ্ছেন




নির্বাচনী প্রচারণাকে ঘিরে উত্তরাঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন গতি যোগ হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজশাহীতে পৌঁছেছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাকে বহনকারী বিমান রাজশাহী শাহ মখদুম বিমানবন্দরে অবতরণ করে। উত্তরাঞ্চলে ভোটের মাঠে সরাসরি প্রচারণায় অংশ নিতে আজ সকালে তিনি সস্ত্রীক ঢাকার বাসভবন ত্যাগ করেন।

রাজশাহীতে পৌঁছানোর পরপরই বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান হযরত শাহ মখদুম রহমাতুল্লাহ আলাইহির (রহ.) মাজারে জিয়ারত করার কথা রয়েছে। সেখানে মোনাজাত শেষে তিনি নির্বাচনী সমাবেশস্থলের উদ্দেশে রওনা দেবেন। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এই সফরের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করাই মূল লক্ষ্য।

এদিকে তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে রাজশাহী নগরীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে ভোর থেকেই বিএনপির নেতাকর্মীরা জড়ো হতে শুরু করেন। বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা থেকে আসা নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে মাঠ ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার পাশাপাশি তার বক্তব্য শোনার অপেক্ষায় রয়েছেন হাজারো সমর্থক।

রাজশাহীর সমাবেশ শেষে বিএনপি চেয়ারম্যান নওগাঁ জেলার এটিএম মাঠে আয়োজিত আরেকটি নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখবেন। এরপর সড়কপথে তিনি বগুড়ার উদ্দেশে যাত্রা করবেন। পথে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময়েরও সম্ভাবনা রয়েছে। রাতে বগুড়ার আলতাফুন্নেসা খেলার মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগ দিয়ে উত্তরাঞ্চলে তার প্রথম দিনের কর্মসূচি শেষ করবেন তিনি।

দলীয় কর্মসূচি অনুযায়ী, শুক্রবার তারেক রহমান রংপুরে গিয়ে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর সেখানে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। ওইদিনের কর্মসূচি শেষে তিনি বগুড়ায় রাত্রিযাপন করবেন।

শনিবার বগুড়া থেকে যাত্রা শুরু করে সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে ধারাবাহিক নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এসব কর্মসূচি শেষ করে তিনি ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে। দলীয় নেতারা আশা করছেন, তারেক রহমানের এই উত্তরাঞ্চল সফর নির্বাচনী মাঠে বিএনপির অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।

Sunday, December 28, 2025

সারাদেশ  মৌলভীবাজারে প্রতিপক্ষের হামলায় দুই ভাই নিহত

সারাদেশ মৌলভীবাজারে প্রতিপক্ষের হামলায় দুই ভাই নিহত

 




মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় পূর্ব-বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় দুই ভাই নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার বিওসি মাঠ গুদাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, কুয়েত প্রবাসী জামাল উদ্দিন ও তার ছোট ভাই কাইয়ুম।

পুলিশ জানায়, কৃষক আব্দুল কাইয়ুমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী জমির উদ্দিনের বিরোধ চলছিলো। কয়েক বছর আগে খুন হওয়া জমিরের ভাগ্নে জালাল উদ্দিন হত্যা মামলার আসামি ছিলেন কাইয়ুম। শনিবার সন্ধ্যায় কাইয়ুমকে পুলিশে ধরিয়ে দিতে জমির উদ্দিনসহ কয়েকজন তার বাড়িতে যায়। এ সময় দুইপক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের হামলায় কাইয়ুম ও তার বড় ভাই কুয়েত প্রবাসী জামাল উদ্দিন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষের জমির উদ্দিনসহ কয়েকজন আহত হন।

পুলিশ আরও জানায়, আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Friday, December 26, 2025

স্মৃতিসৌধের পথে তারেক রহমান

স্মৃতিসৌধের পথে তারেক রহমান

 



মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেলে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও পিতা জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করে সাভারের পথে রওনা হন তিনি।

তারেক রহমানের আগমন ঘিরে স্মৃতিসৌধ এলাকা সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে স্মৃতিসৌধ এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

এর আগে, পিতার কবর জিয়ারত ও স্মৃতিসৌধে যাওয়ার উদ্দেশে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুর ২টা ৫২ মিনিটে বাসা থেকে বের হন তারেক রহমান। পথে নেতাকর্মীদের ভিড় থাকায় জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলে পৌঁছান বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে। এরপর সেখানে মোনাজাতে অংশ নিয়ে রওনা দেন সাভারের পথে।

কিন্তু সূর্য ডুবে যাওয়ায় ইতোমধ্যে রীতি মেনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য‍ মইন খানের নেতৃত্বে বিনপির একটি প্রতিনিধি দল তারেক রহমানের পক্ষ থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তবে তারেক রহমান যাচ্ছেন স্মৃতিসৌধে।

লঞ্চ দুর্ঘটনায় হতাহতদের জন্য অনুদানের ঘোষণা নৌ উপদেষ্টার

লঞ্চ দুর্ঘটনায় হতাহতদের জন্য অনুদানের ঘোষণা নৌ উপদেষ্টার

 


চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে দেড় লাখ টাকা এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর সদরঘাটে ক্ষতিগ্রস্ত লঞ্চ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

উপদেষ্টা বলেন, সব ধরনের পরিবহনের মধ্যে নদীপথ তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। তারপরও এ ধরনের দুর্ঘটনা মেনে নেয়া যায় না। আমি নিজেও নিয়মিত নদীপথে যাতায়াত করি। লক্ষ্য করেছি, অনেক সময় রাতে লঞ্চ চলাচলের ক্ষেত্রে লাইট ব্যবহার করা হয় না।

তিনি জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আট সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই লঞ্চের দায়িত্বপ্রাপ্তদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

তিনি আরো জানান, এরই মধ্যে কয়েকটি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। রাতে কুয়াশার মধ্যে কোনো লঞ্চ চলাচল করতে পারবে না। রাতে কোথাও দাঁড়ালে অবশ্যই লাইট ব্যবহার করতে হবে। এ মৌসুমে বাল্কহেড সকাল ৮টার আগে চলাচল করতে পারবে না। এসব নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার করা হবে।

ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঝড় বা তুফানে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, কিন্তু যেভাবে দুটি লঞ্চের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে, তাতে মনে হয় চালক ঘুমিয়ে পড়েছিলেন অথবা অন্য কাউকে দিয়ে লঞ্চ চালাচ্ছিলেন। তবে তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাবে না।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কোনো লঞ্চচালক সঠিকভাবে লঞ্চ পরিচালনা না করলে, রাতে লাইট ব্যবহার না করলে বা নির্দেশনা অমান্য করলে তাদের রুট পারমিট ও লাইসেন্স বাতিল করা হবে।

তারেক রহমানের হাত ধরে গণতান্ত্রিক যাত্রায় এগিয়ে যাবে দেশ: মির্জা ফখরুল

তারেক রহমানের হাত ধরে গণতান্ত্রিক যাত্রায় এগিয়ে যাবে দেশ: মির্জা ফখরুল



বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাত ধরে দেশ গণতান্ত্রিক যাত্রার পথে এগিয়ে যাবে। তার রাজসিক প্রত্যাবর্তন সেই বার্তা বহন করে।

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে জিয়াউর রহমানের মাজার প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনেরও প্রত্যাশাও জানান তিনি।

দীর্ঘ ১৯ বছর পর আজ জিয়াউর রহমানের সমাধিতে যাচ্ছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সর্বশেষ ২০০৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাবার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।

সূর্যাস্তের আগে স্মৃতিসৌধে পৌঁছতে পারেননি তারেক রহমান, শ্রদ্ধা জানালেন দলের প্রতিনিধিরা

সূর্যাস্তের আগে স্মৃতিসৌধে পৌঁছতে পারেননি তারেক রহমান, শ্রদ্ধা জানালেন দলের প্রতিনিধিরা




বিকাল ৫টার পর তার পক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ড. আব্দুল মঈন খানসহ একটি প্রতিনিধিদল। পথে জনতার ভিড়ের কারণে সূর্যাস্তের আগে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পৌঁছতে পারেননি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নিয়ম অনুযায়ী সূর্যাস্তের আগে স্মৃতিসৌধের মূল বেদীতে শ্রদ্ধা জানাতে হয়। এ কারণে বিকাল ৫টার পর তার পক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ড. আব্দুল মঈন খানসহ একটি প্রতিনিধিদল। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের পথে রয়েছেন। এদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক নিরাপত্তায় বিকাল পৌনে ৫টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলে পৌঁছান তিনি। সেখানে বাবার কবর জিয়ারত ও ফুলেল শ্রদ্ধা জানিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধের উদ্দেশে রওনা হন। পথে জনতার ভিড়ের কারণে সূর্যাস্তের আগে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পৌঁছাতে পারেননি তিনি।
গুলিস্তানে বহুতল ভবনে আগুন

গুলিস্তানে বহুতল ভবনে আগুন

 




রাত সাড়ে ১২টার দিকে সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। তাদের চারটি ইউনিটের চেষ্টায় রাত ১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। রাজধানীর গুলিস্তানে একটি ছয়তলা ভবনে আগুন লেগেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের চার ইউনিটের চেষ্টায় রাত ১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণকক্ষের ডিউটি অফিসার আনোয়ার জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে গুলিস্তান মোড়ে হোটেল রমনার পাশের ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলায় আগুন লাগার খবর পেয়ে তাদের প্রথম ইউনিটটি ঘটনাস্থলে যায়। পরে মোট চারটি ইউনিটের চেষ্টায় রাত ১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।