বাংলাদেশ সচিবালয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ রেড টেলিফোন সংযোগের তামার তার চুরির ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনার তদন্তে নেমে চুরি হওয়া তার উদ্ধার করার পাশাপাশি দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্র (২৫) এবং ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলাম (৩২)। শুক্রবার বিকেলে সিটিটিসির একটি দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি সচিবালয়ের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত রেড টেলিফোন সংযোগের তামার তার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। বিষয়টি সামনে আসার পর সরকারি বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে এ ঘটনায় বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) শাহবাগ থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে।
মামলার পর ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে সিটিটিসির সিটি ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগ। তদন্তের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন হিসেবে সচিবালয়ে কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্রকে বৃহস্পতিবার দুপুরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই রঞ্জন চুরির সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র। তার বক্তব্য অনুযায়ী, গত ২২ মে সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবন থেকে তিনি তামার তারগুলো সরিয়ে ফেলেন। পরে গত ১ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হল এলাকার একটি ভাঙারি দোকানে এসব তার বিক্রি করেন। প্রতি কেজি তামার তারের দাম ধরা হয়েছিল ৬০০ টাকা। মোট ৮ কেজি ২০০ গ্রাম তার বিক্রি করা হয়েছিল বলে তিনি স্বীকার করেন।
রঞ্জনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলামকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার দেখানো একটি গুদামে তল্লাশি চালিয়ে চুরি হওয়া তামার তার উদ্ধার করে পুলিশ। রাজধানীর হোসেনী দালান রোডের একটি গুদাম থেকে এসব তার উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিটিটিসি।
তদন্তকারীরা মনে করছেন, এটি কোনো একক ব্যক্তির কাজ নাও হতে পারে। সচিবালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার তার ও অন্যান্য মূল্যবান উপকরণ চুরির সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে ঘটনার পেছনে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সম্ভাব্য সহযোগীদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, চুরির ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রায় ৮ কেজি তামার তার উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, চুরি হওয়া মালামাল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ভাঙারি ব্যবসায়ীকেও আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
ঘটনাটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তদন্ত শেষ হলে পুরো ঘটনার পেছনের নেটওয়ার্ক ও দায়ীদের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।



0 coment rios: