Monday, June 8, 2026

হাম ও উপসর্গে প্রাণ গেলো আরও ৮ শিশুর

 


হামে ও উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৬২৮

ঢাকা: দেশে হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে আরও আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজনের শরীরে হাম রোগ নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা হয়েছে, আর সাতজন মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া হাম পরিস্থিতিতে এখন পর্যন্ত মোট ৬২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯২ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৫৩৬ জন।

সোমবার (৮ জুন) প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে নতুন করে একজনের শরীরে হাম শনাক্ত হওয়ার পর তার মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের লক্ষণ ও উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও সাত শিশু।

শুধু মৃত্যুই নয়, আক্রান্তের সংখ্যাও ক্রমাগত বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ৯৩ জনের শরীরে হাম রোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছে আরও এক হাজার ৯২ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৭৭৯ জনে। একই সময়ে সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮০ হাজার ১০৪ জন। এসব রোগীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যককে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলমান পরিস্থিতিতে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬৫ হাজার ২৩৭ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৬১ হাজার ২৭৮ জন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকা গ্রহণ এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা না গেলে শিশুদের জন্য এটি মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু এবং অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে।

তারা মনে করছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করার পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। কোনো শিশুর শরীরে জ্বর, শরীরজুড়ে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি বা চোখ লাল হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা অব্যাহত রাখছে। তবে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় জনস্বাস্থ্য খাতে উদ্বেগও বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।


শেয়ার করুন

Author:

0 coment rios: