Thursday, January 29, 2026

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ মামলায় বাংলাদেশের পক্ষে রায়, ক্ষতিপূরণ ৪২ মিলিয়ন ডলার

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ মামলায় বাংলাদেশের পক্ষে রায়, ক্ষতিপূরণ ৪২ মিলিয়ন ডলার

 


টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে ২০০৫ সালের ভয়াবহ বিস্ফোরণ সংক্রান্ত মামলায় আন্তর্জাতিক আদালতে বাংলাদেশের পক্ষে রায় এসেছে। রায়ে কানাডাভিত্তিক জ্বালানি কোম্পানি নাইকোকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে বাংলাদেশকে ৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৫১৬ কোটি টাকা, প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে হিসাব করা হয়েছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটস (আইসিএসআইডি) এই রায় ঘোষণা করে। বৃহস্পতিবার পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ফলে গ্যাসক্ষেত্রে প্রায় ৮ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পুড়ে যাওয়ায় ক্ষতির জন্য ৪০ মিলিয়ন ডলার এবং পরিবেশসহ অন্যান্য ক্ষতির জন্য অতিরিক্ত ২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সুনামগঞ্জের ছাতকে অবস্থিত টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রটি ১৯৫৯ সালে আবিষ্কৃত হয়। পরবর্তী সময়ে কূপ খননের মাধ্যমে এক হাজার ৯০ মিটার থেকে এক হাজার ৯৭৫ মিটার গভীরতায় মোট নয়টি গ্যাস স্তরের সন্ধান পাওয়া যায়। দীর্ঘ বিরতির পর ২০০৩ সালে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের দায়িত্ব দেওয়া হয় কানাডিয়ান কোম্পানি নাইকোকে।

খননকাজ শুরুর দুই বছরের মাথায়, ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন গ্যাসক্ষেত্রে পরপর দুটি বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে বিপুল পরিমাণ গ্যাস পুড়ে যায় এবং আশপাশের অবকাঠামো ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকার নাইকোর কাছে ৭৪৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করলেও প্রতিষ্ঠানটি তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে ২০১৬ সালে প্রায় ৯ হাজার ২৫০ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দাবিতে ওয়াশিংটনের আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে বাংলাদেশ।

পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল রায়ে উল্লেখ করেছে যে খনন কার্যক্রম পুরোপুরি নাইকোর তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছিল। আন্তর্জাতিক পেট্রোলিয়াম শিল্পের স্বীকৃত মানদণ্ড অনুসরণ না করা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই বিস্ফোরণ ঘটে। এসব কারণ বিবেচনায় নাইকোকেই দায়ী করে বাংলাদেশকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ নিয়ে সতর্ক শ্রীলঙ্কা

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ নিয়ে সতর্ক শ্রীলঙ্কা



টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬কে সামনে রেখে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। বিশেষ করে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে। উপমহাদেশের বর্তমান উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে খেলোয়াড় ও দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ পাকিস্তান তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলবে। গ্রুপ ‘এ’-তে থাকা পাকিস্তান প্রথমে সিনহালিজ স্পোর্টস ক্লাবে নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাষ্ট্রের মুখোমুখি হবে। এরপর ১৫ ফেব্রুয়ারি বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে লড়াইয়ে নামবে মেন ইন গ্রিন।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর আগে কড়া নিরাপত্তা নিচ্ছে শ্রীলঙ্কা

যদিও ভারত এই টুর্নামেন্টের অন্যতম আয়োজক দেশ, আইসিসির একটি চুক্তির আওতায় পাকিস্তান তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় খেলছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, কোনো দল চাইলে রাজনৈতিক বা নিরাপত্তাজনিত কারণে নিরপেক্ষ ভেন্যু বেছে নিতে পারে।

‘মাদার অব অল ব্যাটলস’ নামে পরিচিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ সবসময়ই বিশ্ব ক্রিকেটে আলাদা আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। ক্রিকেটের বাইরেও দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন এই লড়াইকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলে।

এই ম্যাচ ঘিরে বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহ থাকে তুঙ্গে। স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে ভারত ও পাকিস্তান থেকে বিপুল সংখ্যক দর্শকের উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সেই কারণেই খেলোয়াড় ও সমর্থকদের জন্য নির্বিঘ্ন অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলঙ্কা।

ডেইলি সান-এর বরাতে পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অংশগ্রহণকারী সব দলের নিরাপত্তায় রাষ্ট্রপ্রধানদের পাহারায় নিয়োজিত এলিট কমান্ডো ইউনিট মোতায়েন করা হবে।

তারা আরও জানান, বিমানবন্দর থেকে শুরু করে খেলোয়াড়দের ফেরত যাওয়া পর্যন্ত পুরো সময়জুড়েই সশস্ত্র নিরাপত্তা বলয়ে রাখা হবে দলগুলোকে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ শ্রীলঙ্কা কোন কোন ম্যাচ আয়োজন করবে?

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ শ্রীলঙ্কা মোট ২০টি ম্যাচ আয়োজন করবে। এই ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে দুটি শহরের তিনটি ভেন্যুতে—কলম্বো ও পাল্লেকেলে।

কলম্বোর ঐতিহাসিক আর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বেশ কয়েকটি হাই-প্রোফাইল ম্যাচ, যার মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ভারত-পাকিস্তান লড়াইটি রয়েছে। অন্যদিকে, সিনহালিজ স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত হবে পাকিস্তান-নেদারল্যান্ডস, জিম্বাবুয়ে-ওমান, পাকিস্তান-যুক্তরাষ্ট্র, আয়ারল্যান্ড-ওমান এবং পাকিস্তান-নামিবিয়া ম্যাচগুলো।

এছাড়া পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে শ্রীলঙ্কা-ওমান, অস্ট্রেলিয়া-শ্রীলঙ্কা, আয়ারল্যান্ড-জিম্বাবুয়ে এবং অস্ট্রেলিয়া-ওমানের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো। এই ভেন্যুতেই তিনটি সুপার এইট ম্যাচও অনুষ্ঠিত হবে।

পাকিস্তানের অংশগ্রহণ এখনো অনিশ্চিত

শ্রীলঙ্কা যখন বিশ্বকাপ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখনো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। পিসিবির দাবি, বাংলাদেশকে বিতর্কিতভাবে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে বাংলাদেশকে সমর্থন জানাতে পাকিস্তান সরকার এই অবস্থান নিয়েছে।

বর্তমানে পাকিস্তান অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলছে। সিরিজ শেষে খুব শিগগিরই বিশ্বকাপ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচ বয়কট নিয়ে কঠোর অবস্থানে পাকিস্তান; শাস্তি এড়াতে বিশেষ পরিকল্পনা পিসিবির

ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচ বয়কট নিয়ে কঠোর অবস্থানে পাকিস্তান; শাস্তি এড়াতে বিশেষ পরিকল্পনা পিসিবির



টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে সাম্প্রতিক নাটকীয় ঘটনার পর এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ার পর এখন সালমান আলি আগার নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান দল এই মেগা ইভেন্টে অংশ নেবে কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এর আগে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ দেখিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আইসিসির কাছে আবেদন করেছিল, যেন তাদের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। একাধিক দফা আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত জয় শাহর নেতৃত্বাধীন আইসিসি কাউন্সিল বাংলাদেশকে পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

বাংলাদেশের বিদায় পিসিবিকে নতুন করে চাপে ফেলে। কারণ, এর আগে পিসিবি প্রকাশ্যে বিসিবির পাশে থাকার কথা জানিয়েছিল এবং প্রয়োজনে বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকিও দিয়েছিল। তবে আইসিসি যে বাংলাদেশকে সরাসরি বাদ দিতে পারে, সেটি অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত ছিল।

এ অবস্থায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) ভূমিকা নিয়েই এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে চলছে জল্পনা। গত কয়েক দিনে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মোহসিন নকভির নেতৃত্বাধীন বোর্ড একাধিক বিকল্প নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে।

১ ফেব্রুয়ারিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পিসিবির

গত সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, পিসিবি চেয়ারম্যান মোহসিন নকভি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে দুটি সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা হয়—একটি হলো পুরো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করা, অন্যটি শুধুমাত্র ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি বর্জন করা।

উল্লেখ্য, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার গ্রুপ ম্যাচটি আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বৈঠক শেষে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না এলেও মোহসিন নকভি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, সব বিকল্প এখনো বিবেচনায় রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, “প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আইসিসি সংক্রান্ত সব বিষয় তাকে অবহিত করেছি। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, সব বিকল্প খোলা রেখে সমাধানে পৌঁছাতে। আগামী শুক্রবার অথবা সোমবারের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের দিকেই ঝুঁকছে পাকিস্তান

নকভির বক্তব্যের পর প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছিল, আইসিসির সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার ভয়ে পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে অংশ নেবে। তবে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ভিন্ন তথ্য।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিসিবি এখন গুরুত্ব সহকারে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের বিষয়টি বিবেচনা করছে এবং শাস্তি এড়াতে একটি কৌশলও তৈরি করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পিসিবি এই সিদ্ধান্তটিকে পুরোপুরি সরকারের ওপর ছেড়ে দিতে পারে এবং নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে এটিকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ হিসেবে উপস্থাপন করবে। এমন হলে আইসিসির পক্ষে পিসিবির বিরুদ্ধে সরাসরি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হবে।

ডনের একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে এনডিটিভি জানায়, “পুরো টুর্নামেন্ট বয়কট করা পিসিবির প্রধান লক্ষ্য নয়। তবে ১৫ ফেব্রুয়ারির ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি পরিত্যাগ করার মতো যথেষ্ট যুক্তি তাদের হাতে রয়েছে, যা আইসিসির কোনো আর্থিক জরিমানা বা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়ক হতে পারে।”

আরও বলা হয়, “পাকিস্তান যদি জানায় যে তারা সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী ভারতের বিপক্ষে খেলছে না, সেক্ষেত্রে আইসিসি পিসিবির ওপর আর্থিক বা প্রশাসনিক শাস্তি দিতে পারবে না।”

পাকিস্তান সরে দাঁড়ালে কী শাস্তি দিতে পারে আইসিসি?

উল্লেখযোগ্যভাবে, যখন পাকিস্তানের বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছিল, তখন আইসিসির পক্ষ থেকেও কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পিসিবি যদি পুরো টুর্নামেন্ট বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে হবে।

এক্সপ্রেস স্পোর্টসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান বিশ্বকাপ না খেললে আইসিসি তাদের সব ধরনের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ স্থগিত করতে পারে। পাশাপাশি পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) বিদেশি ক্রিকেটারদের জন্য দেওয়া এনওসি বাতিল করা হতে পারে। এমনকি এশিয়া কাপ থেকেও ‘মেন ইন গ্রিন’-কে নিষিদ্ধ করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

সব মিলিয়ে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে। এখন ক্রিকেট বিশ্ব তাকিয়ে আছে পিসিবির চূড়ান্ত ঘোষণার দিকে, যা আসতে পারে ১ ফেব্রুয়ারি।

পাক-অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজের ফটোশুটে তুক-তুকে “রিজওয়ান”! ভাইরাল হলো মিম

পাক-অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজের ফটোশুটে তুক-তুকে “রিজওয়ান”! ভাইরাল হলো মিম



পাকিস্তান ক্রিকেট দল জানুয়ারি ২৯ থেকে ফেব্রুয়ারি ১ পর্যন্ত তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নামছে। সিরিজের আগের প্রস্তুতি হিসেবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) দুই দলের অধিনায়ক এবং সিরিজ ট্রফি নিয়ে একটি বিশেষ ফটোশুটের আয়োজন করে, যা সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।

ফটোশুটের এক মুহূর্তে দেখা যায় পাকিস্তানের অধিনায়ক আঘা সালমান এবং অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক মিচেল মার্শ একটি তুক-তুকে চড়ে, হাতে নিজেদের দেশের পতাকা ধরে ছবি তুলছেন। ছবিটি স্বাভাবিকভাবেই হাস্যকর এবং আনন্দদায়ক মুহূর্ত হিসেবে ধরা হয়, কিন্তু হঠাৎই এই দৃশ্যটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।

অনেক ফ্যানদের নজর কাড়ে যে তুক-তুকের ড্রাইভারটি দেখতে মোহাম্মদ রিজওয়ানের সঙ্গে অবাক করা মিল আছে। মোহাম্মদ রিজওয়ান, যিনি সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দলে বাদ পড়েছিলেন, সেই দৃশ্যটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মজা শুরু হয়। ফ্যানরা একে নিয়ে নানা রকম মিম, হাস্যকর মন্তব্য ও জোকস শেয়ার করতে থাকে। কেউ লিখছে “রিজওয়ান অবশেষে পাকিস্তান দলে ফিরে এলেন!”, আবার কেউ বলছে “নতুন ভূমিকায় রিজওয়ান: তুক-তুক ড্রাইভার!”

পিসিবি বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ফটোশুটের ছবি এবং ভিডিও শেয়ার করে, যা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। ফ্যানরা ছবিতে দুই অধিনায়ককে এবং তুক-তুক ড্রাইভারকে নিয়ে নানা রকম ক্রিয়েটিভ মিম বানাতে শুরু করে। অনেকে মন্তব্য করছেন যে, ক্রিকেটারদের মাঝে এমন হালকা-ফুলকা মুহূর্ত যেন খেলাধুলার চাপ কমিয়ে দেয় এবং সিরিজ শুরু হওয়ার আগে ফ্যানদের মধ্যে উচ্ছ্বাস বাড়ায়।



এদিকে, সিরিজটি পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে গেলে পাকিস্তানকে শক্তিশালী দল সাজাতে হবে। তবে ফ্যানদের এই মজার মিম এবং মন্তব্য দেখলে বোঝা যায় যে, ক্রিকেট শুধু খেলা নয়, একই সঙ্গে ফ্যানদের জন্য আনন্দ এবং বিনোদনের উৎসও।

ফটোশুট এবং মিম ভাইরালের এই ঘটনা প্রমাণ করছে যে, ক্রিকেট কেবল মাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সোশ্যাল মিডিয়াতেও এটি ফ্যানদের মাঝে আলোচনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

Wednesday, January 28, 2026

বয়কটের গুঞ্জনের মাঝে কলম্বোর টিকিট নিশ্চিত করলো পাকিস্তান

বয়কটের গুঞ্জনের মাঝে কলম্বোর টিকিট নিশ্চিত করলো পাকিস্তান



বিশ্বকাপ বয়কটের গুঞ্জনের মধ্যেই পাকিস্তান দল পেল কলম্বোর টিকিট

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে বিতর্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পাকিস্তান ক্রিকেট দল তাদের প্রস্তুতি শুরু করেছে। স্কোয়াড ঘোষণা হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) লাহোর থেকে কলম্বো যাওয়ার ফ্লাইট বুকিং সম্পন্ন করেছে। দলটি আগামী সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর উদ্দেশে রওনা দেবে।

টেলিকম এশিয়া স্পোর্টসের বরাতে জানা গেছে, নিরাপত্তা এবং অংশগ্রহণ নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার মাঝেও পাকিস্তান দল অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে এয়ার লঙ্কার একটি ফ্লাইটে যাত্রার ব্যবস্থা করেছে। সূত্রটি আরও জানিয়েছে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান মহসিন নাকভি আগামী শুক্রবারের মধ্যে বিশ্বকাপে দলের অংশগ্রহণ চূড়ান্ত করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক চলছিল। নাকভি নিজেও এই নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছিলেন।

বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে পাকিস্তান বোর্ড দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে এবং তাদের দল অংশগ্রহণের পক্ষে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের অনুরোধ করেছিল, যা আইসিসি প্রত্যাখ্যান করেছে। যদিও স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়নের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে, বিসিবি ভারতীয় মাটিতে খেলতে অনড় থাকায় আইসিসি বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান দল এখন নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী কলম্বোর উদ্দেশে রওনা দিবে এবং দলের প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামার দিকে মনোনিবেশ করবে।

পদ্মাপাড়ে তারেক রহমান, দুপুরে বিশাল জনসভায় যোগ দিচ্ছেন

পদ্মাপাড়ে তারেক রহমান, দুপুরে বিশাল জনসভায় যোগ দিচ্ছেন




নির্বাচনী প্রচারণাকে ঘিরে উত্তরাঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন গতি যোগ হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজশাহীতে পৌঁছেছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাকে বহনকারী বিমান রাজশাহী শাহ মখদুম বিমানবন্দরে অবতরণ করে। উত্তরাঞ্চলে ভোটের মাঠে সরাসরি প্রচারণায় অংশ নিতে আজ সকালে তিনি সস্ত্রীক ঢাকার বাসভবন ত্যাগ করেন।

রাজশাহীতে পৌঁছানোর পরপরই বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান হযরত শাহ মখদুম রহমাতুল্লাহ আলাইহির (রহ.) মাজারে জিয়ারত করার কথা রয়েছে। সেখানে মোনাজাত শেষে তিনি নির্বাচনী সমাবেশস্থলের উদ্দেশে রওনা দেবেন। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এই সফরের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করাই মূল লক্ষ্য।

এদিকে তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে রাজশাহী নগরীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে ভোর থেকেই বিএনপির নেতাকর্মীরা জড়ো হতে শুরু করেন। বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা থেকে আসা নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে মাঠ ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার পাশাপাশি তার বক্তব্য শোনার অপেক্ষায় রয়েছেন হাজারো সমর্থক।

রাজশাহীর সমাবেশ শেষে বিএনপি চেয়ারম্যান নওগাঁ জেলার এটিএম মাঠে আয়োজিত আরেকটি নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখবেন। এরপর সড়কপথে তিনি বগুড়ার উদ্দেশে যাত্রা করবেন। পথে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময়েরও সম্ভাবনা রয়েছে। রাতে বগুড়ার আলতাফুন্নেসা খেলার মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগ দিয়ে উত্তরাঞ্চলে তার প্রথম দিনের কর্মসূচি শেষ করবেন তিনি।

দলীয় কর্মসূচি অনুযায়ী, শুক্রবার তারেক রহমান রংপুরে গিয়ে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর সেখানে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন। ওইদিনের কর্মসূচি শেষে তিনি বগুড়ায় রাত্রিযাপন করবেন।

শনিবার বগুড়া থেকে যাত্রা শুরু করে সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে ধারাবাহিক নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এসব কর্মসূচি শেষ করে তিনি ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে। দলীয় নেতারা আশা করছেন, তারেক রহমানের এই উত্তরাঞ্চল সফর নির্বাচনী মাঠে বিএনপির অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।

বিশ্বের সবচেয়ে তলানিতে বিপিএল! ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের লজ্জাজনক চিত্র

বিশ্বের সবচেয়ে তলানিতে বিপিএল! ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের লজ্জাজনক চিত্র

 



সদ্য সমাপ্ত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) নিয়ে সমালোচনার রেশ যেন কাটছেই না। প্রতি আসরেই নতুন নতুন বিতর্কে জড়িয়ে দেশের একমাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগটি। সেই বিতর্ক এবার ঘরোয়া পরিসর ছাড়িয়ে জায়গা করে নিয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও।

ব্রিটিশ ক্রিকেটবিষয়ক প্রভাবশালী ম্যাগাজিন ‘দ্য ক্রিকেটার’ প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনায় বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগের র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগকে বিশ্বের সবচেয়ে তলানির ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এই র‍্যাঙ্কিং নির্ধারণে চারটি মানদণ্ড বিবেচনায় নেয়া হয়েছে—বিনোদনমূল্য, ক্রিকেটের মান, লিগের স্থায়িত্ব বা গ্রহণযোগ্যতা এবং সামগ্রিক মূল্যায়ন। বিশ্বের মোট দশটি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ নিয়ে করা এই বিশ্লেষণে বিপিএল তিনটি ক্যাটাগরিতেই পেয়েছে সর্বনিম্ন রেটিং, অর্থাৎ দশম স্থান। কেবল স্থায়িত্ব বা গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে বিপিএল এক ধাপ এগিয়ে নবম স্থানে রয়েছে; এই ক্যাটাগরিতে দশম স্থানে আছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএল টি২০।

সামগ্রিক বিচারে ভারতের আইপিএল, অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ, দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ টি-টোয়েন্টি, ইংল্যান্ডের দ্য হানড্রেড—সবকটিই বিপিএলের চেয়ে অনেক এগিয়ে। এমনকি শ্রীলঙ্কার লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগ (এলপিএল) ও যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেটও র‍্যাঙ্কিংয়ে বিপিএলের ওপরে অবস্থান করছে।



প্রত্যাশিতভাবেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ ভারতের আইপিএল রয়েছে শীর্ষে। এরপরই অবস্থান দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ টি-টোয়েন্টির। ক্রিকেটের মান ও গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে আইপিএল সবার ওপরে থাকলেও বিনোদনমূল্যের দিক থেকে শীর্ষে রাখা হয়েছে এসএ টি-টোয়েন্টিকে।

র‍্যাঙ্কিংয়ের ব্যাখ্যায় ‘দ্য ক্রিকেটার’ উল্লেখ করেছে, আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের কারণেই কম রেটিং পেয়েছে লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগ ও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ। ম্যাগাজিনটির ভাষায়, “তালিকার একেবারে নিচে থাকা দুটি টুর্নামেন্ট—এলপিএল ও বিপিএল—দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে জর্জরিত।”

তবে সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছে তারা। বিশাল দর্শকসংখ্যা ও বাজার থাকা সত্ত্বেও এই দুই লিগ একই ধরনের কাঠামোগত সমস্যায় ভুগছে—ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকানায় ঘন ঘন পরিবর্তন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব, খেলোয়াড়দের উচ্চমাত্রার দলবদল এবং বৈশ্বিক ক্রিকেট ক্যালেন্ডারে অস্থিতিশীল সময়সূচি।

সব মিলিয়ে সামগ্রিক র‍্যাঙ্কিংয়ে লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগ নবম স্থানে থাকলেও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ জায়গা পেয়েছে তালিকার একেবারে শেষ প্রান্তে—দশম স্থানে।

Monday, January 26, 2026

সব বাংলাদেশি সাংবাদিকের মিডিয়া অ্যাক্রিডিটেশন স্থগিত করলো আইসিসি

সব বাংলাদেশি সাংবাদিকের মিডিয়া অ্যাক্রিডিটেশন স্থগিত করলো আইসিসি

 


ভারতে গিয়ে খেলতে অনিচ্ছা প্রকাশের জেরে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাতিলের পর এবার আরও কঠোর অবস্থানে গেল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। টুর্নামেন্ট কাভার করার উদ্দেশ্যে আবেদন করা বাংলাদেশের সব সাংবাদিকের মিডিয়া অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল করেছে সংস্থাটি। এর ফলে এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কোনো সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধির উপস্থিতি থাকছে না।

আইসিসির নির্ধারিত নিয়ম মেনে যেসব বাংলাদেশি সাংবাদিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কাভারের জন্য আবেদন করেছিলেন, তাদের সবাইকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে আবেদনগুলো গ্রহণযোগ্য হয়নি। এর আগেই নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অজুহাতে ভারত সফরে অনীহা দেখানোর কারণে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপের মূল পর্ব থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় আইসিসি।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ১৯৯৯ সাল থেকে শুরু করে প্রতিটি ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সক্রিয় ও পেশাদার উপস্থিতি ছিল। এমনকি ১৯৯৯ সালের আগেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বড় মঞ্চে বাংলাদেশের সাংবাদিকরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করেছেন।

আইসিসির এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে দেশের ক্রীড়া সাংবাদিক মহলে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদ দেখা দিয়েছে। অনেকেই এটিকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে দেখছেন। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষকে সংহতি প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে।

Saturday, January 24, 2026

বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে জায়গা পাচ্ছেন ২৭ জন ক্রিকেটার।

বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে জায়গা পাচ্ছেন ২৭ জন ক্রিকেটার।

 



বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবিকেন্দ্রীয় চুক্তিতে জায়গা পাওয়া ২২ ক্রিকেটারের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। গত ১ জানুয়ারি থেকে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এই চুক্তি। তবে এ বছরের ফেব্রুয়ারির পর কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে নিজের নাম সরিয়ে নিতে বিসিবিকে অনুরোধ জানিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ফলে ১ মার্চ থেকে চুক্তির বাইরে থাকবেন মাহমুদউল্লাহ। দীর্ঘ সময় পর তালিকায় জায়গা হারিয়েছেন সাকিব আল হাসান। লম্বা সময় ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পেস বিভাগের নেতৃত্ব দেওয়ার পুরস্কার পেয়েছেন তাসকিন আহমেদ। বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে শীর্ষ ক্যাটাগরিতে জায়গা করে নিয়েছেন এই অভিজ্ঞ পেসার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গতির পসরা মেলে ধরে প্রথমবার কেন্দ্রীয় চুক্তিতে এসেছেন পেসার নাহিদ রানা। গতকাল সোমবার ২০২৫ সালের কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকা প্রকাশ করে বিসিবি। গত কয়েক বছরে ক্রিকেটারদের সঙ্গে সংস্করণভেদে আলাদা চুক্তি করে আসছিল বিসিবি। এবার সেখান থেকে সরে এসে ‘এ প্লাস’, ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’, ‘ডি’– মোট পাঁচ ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে ২২ ক্রিকেটারকে। গত বছর কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ছিলেন ২১ জন। গত বছর তিন সংস্করণের চুক্তিতে ছিলেন সাকিব আল হাসানলিটন কুমার দাসমেহেদী হাসান মিরাজনাজমুল হোসেন শান্ত ও শরিফুল ইসলাম। গত সেপ্টেম্বরের পর থেকে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার থমকে থাকা সাকিবকে এবার বাদ দেওয়া হয়েছে চুক্তি থেকে। গত বছরের চুক্তি থেকে আরও বাদ পড়েছেন নুরুল হাসান সোহানজাকির হাসানমাহমুদুল হাসান জয় ও নাঈম হাসান। শুধু টেস্টের চুক্তিতে ছিলেন জাকিরজয় ও নাঈম। টিটোয়েন্টির চুক্তিতে ছিলেন সোহান। এবার কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ফিরেছেন সৌম্য সরকার ও সাদমান ইসলাম। নাহিদ ছাড়াও প্রথমবার চুক্তিতে জায়গা পেয়েছেন জাকের আলিরিশাদ হোসেন ও তানজিদ হাসান। এই তিন জনকেই রাখা হয়েছে ‘সি’ ক্যাটাগরিতে। নাহিদের জায়গা হয়েছে ‘বি’তে।

নতুন কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরিতে থাকা তাসকিন প্রতি মাসে পাবেন ১০ লাখ টাকা পারিশ্রমিক। এছাড়া ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ৮ লাখ, ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৬ লাখ, ‘সি’ ক্যাটাগরিতে ৪ লাখ ও ‘ডি’ ক্যাটাগরিতে থাকা ক্রিকেটাররা পাবেন ২ লাখ টাকা করে। এবার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকের ‘এ’ ক্যাটাগরিতে আছেন শান্তমিরাজ ও লিটন। সদ্য সমাপ্ত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দল থেকে বাদ পড়া শরিফুলের জায়গা হয়েছে ‘সি’ ক্যাটাগরিতে।

চুক্তিতে মুশফিকুর রহিমকে রাখা হয়েছিল ‘এ’ ক্যাটাগরিতে। তিনি টেস্ট ও ওয়ানডে খেলবেন সেটা ধরেই নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। চলতি মাসের শুরুতে ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। শুধুমাত্র টেস্ট খেলবেন। তাই ১ মার্চ থেকে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে থাকবেন মুশফিক। তাই মার্চ মাস থেকে ‘বি’ ক্যাটাগরির ক্রিকেটার হিসেবে গণ্য হবেন অভিজ্ঞ কিপারব্যাটার। মাহমুদউল্লাহকে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে রেখে তালিকা চূড়ান্ত করেছিল বোর্ডের ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগ। তবে ফেব্রুয়ারির পর থেকে নিজেকে চুক্তিতে না রাখার অনুরোধ করেছেন ৩৯ বছর বয়সী ক্রিকেটার। তাই মার্চ থেকে আর বিসিবির চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটার নন তিনি। এছাড়া গত বছর টিটোয়েন্টিতে দারুণ পারফর্ম করা শামীম হোসেনের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে জায়গা হয়নি।

২০২৫ সালের বিসিবি কেন্দ্রীয় চুক্তি: ‘এ প্লাস’: (মাসে বেতন ১০ লক্ষ টাকাতাসকিন আহমেদ, ‘এ’: (মাসে বেতন ৮ লক্ষ টাকানাজমুল হোসেন শান্তমেহেদী হাসান মিরাজলিটন কুমার দাসমুশফিকুর রহিম (মার্চ থেকে বি ক্যাটাগরি),‘বি’: (মাসে বেতন ৬ লক্ষ টাকামোমিনুল হকতাইজুল ইসলামমাহমুদউল্লাহ (ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত), মুস্তাফিজুর রহমানতাওহিদ হৃদয়হাসান মাহমুদনাহিদ রানা,‘সি’: (মাসে বেতন ৪ লক্ষ টাকাসাদমান ইসলামসৌম্য সরকারজাকের আলিতানজিদ হাসানশরিফুল ইসলামরিশাদ হোসেনতানজিম হাসানশেখ মেহেদি হাসান,‘ডি’: (মাসে বেতন ২ লক্ষ টাকানাসুম আহমেদসৈয়দ খালেদ আহমেদ।

বিসিবির এই চুক্তি প্রসঙ্গে ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন বলেন, ‘যারা টেস্ট ক্রিকেট খেলবেতারা যেন লাভবান হয় তেমন একটি চুক্তি করতে চেয়েছি আমরা।’ তিনি আরো বলেনক্রিকেটারদের বেতন গ্রেড বদলের পাশাপাশি ম্যাচ ফিও বাড়বে।

Saturday, December 27, 2025

সারাদেশ  মৌলভীবাজারে প্রতিপক্ষের হামলায় দুই ভাই নিহত

সারাদেশ মৌলভীবাজারে প্রতিপক্ষের হামলায় দুই ভাই নিহত

 




মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় পূর্ব-বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় দুই ভাই নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার বিওসি মাঠ গুদাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, কুয়েত প্রবাসী জামাল উদ্দিন ও তার ছোট ভাই কাইয়ুম।

পুলিশ জানায়, কৃষক আব্দুল কাইয়ুমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী জমির উদ্দিনের বিরোধ চলছিলো। কয়েক বছর আগে খুন হওয়া জমিরের ভাগ্নে জালাল উদ্দিন হত্যা মামলার আসামি ছিলেন কাইয়ুম। শনিবার সন্ধ্যায় কাইয়ুমকে পুলিশে ধরিয়ে দিতে জমির উদ্দিনসহ কয়েকজন তার বাড়িতে যায়। এ সময় দুইপক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের হামলায় কাইয়ুম ও তার বড় ভাই কুয়েত প্রবাসী জামাল উদ্দিন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষের জমির উদ্দিনসহ কয়েকজন আহত হন।

পুলিশ আরও জানায়, আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।